ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনী ইস্যু ও শৃঙ্খলা আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 105

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনী ইস্যু ও শৃঙ্খলা আলোচনা

মঙ্গলবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন সাতটি রাজনৈতিক দল ও একটি সংগঠনের প্রতিনিধি। বৈঠক শেষে বিভিন্ন দলের নেতারা নির্বাচনী প্রক্রিয়া, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রস্তাবিত পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে একটি অস্বস্তিকর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও নুরুল হকের ঘটনায় সেই সংকট স্পষ্ট হয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, এ সমস্যার সমাধান না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। এজন্য অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি বলেন, দেশে নির্বাচনী অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সংবিধান-সংশ্লিষ্ট নয় এমন অংশ সরকার এখনই বাস্তবায়ন করতে পারে। অন্যদিকে যেসব সংস্কার সংসদ ছাড়া সম্ভব নয়, সেগুলো পরবর্তী সরকারকে বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে আইন প্রণয়ন করা উচিত। তিনি আরও বলেন, যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়নি, সেগুলো গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করা দরকার।

এলডিপির সেক্রেটারি রেদোয়ান হাসান প্রশাসনিক পদায়নে লটারির সমালোচনা করে বলেন, এটি শিশুসুলভ পদক্ষেপ। তিনি অভিযোগ করেন, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হলে সংঘাত বাড়বে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে জানান, পিআর পদ্ধতি বাংলাদেশে কার্যকর হবে না। ইতিহাসে এ পদ্ধতির সফলতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ইসলামী আন্দোলনের প্রতিনিধি আশরাফ আলী এলডিপির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, অধিকাংশ দলই পিআর পদ্ধতি চায়। সরকারও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন। তার মতে, বিচার সংস্কার ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়, এবং পিআর ছাড়া নির্বাচন নয়। প্রয়োজনে গণভোটের মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি।

এভাবে বৈঠকে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দল নির্বাচনী কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ও সংস্কার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেও মূল ফোকাস ছিল; কীভাবে দেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনী ইস্যু ও শৃঙ্খলা আলোচনা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মঙ্গলবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন সাতটি রাজনৈতিক দল ও একটি সংগঠনের প্রতিনিধি। বৈঠক শেষে বিভিন্ন দলের নেতারা নির্বাচনী প্রক্রিয়া, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রস্তাবিত পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে একটি অস্বস্তিকর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও নুরুল হকের ঘটনায় সেই সংকট স্পষ্ট হয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, এ সমস্যার সমাধান না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। এজন্য অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি বলেন, দেশে নির্বাচনী অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সংবিধান-সংশ্লিষ্ট নয় এমন অংশ সরকার এখনই বাস্তবায়ন করতে পারে। অন্যদিকে যেসব সংস্কার সংসদ ছাড়া সম্ভব নয়, সেগুলো পরবর্তী সরকারকে বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে আইন প্রণয়ন করা উচিত। তিনি আরও বলেন, যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়নি, সেগুলো গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করা দরকার।

এলডিপির সেক্রেটারি রেদোয়ান হাসান প্রশাসনিক পদায়নে লটারির সমালোচনা করে বলেন, এটি শিশুসুলভ পদক্ষেপ। তিনি অভিযোগ করেন, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হলে সংঘাত বাড়বে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে জানান, পিআর পদ্ধতি বাংলাদেশে কার্যকর হবে না। ইতিহাসে এ পদ্ধতির সফলতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ইসলামী আন্দোলনের প্রতিনিধি আশরাফ আলী এলডিপির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, অধিকাংশ দলই পিআর পদ্ধতি চায়। সরকারও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন। তার মতে, বিচার সংস্কার ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়, এবং পিআর ছাড়া নির্বাচন নয়। প্রয়োজনে গণভোটের মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি।

এভাবে বৈঠকে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দল নির্বাচনী কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ও সংস্কার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেও মূল ফোকাস ছিল; কীভাবে দেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।