প্রধানমন্ত্রী নয়, গর্ভনর ও ডেপুটি গর্ভনরকে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
- / 77
দেড় দশকের ব্যাংক লুটপাটের পেছনে রাজনৈতিক চাপ ও ক্ষমতার কাছে হাল ছাড়ার কারণে অনেকবার দায়ী হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আইনের বাইরে গাইডলাইন জারি হওয়ায় সংস্থার স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
দেড় দশকে ব্যাংক লুটপাটের অন্যতম সহায়ক হিসেবে দায়ী করা হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। রাজনৈতিক চাপ ও ক্ষমতার কাছে অনেক ক্ষেত্রেই হার মানতে বাধ্য হয়েছে নিয়ন্ত্রক এই সংস্থাটি। এমনকি ব্যবসায়ীদের দাবি পূরণে, আইনের বাইরে গিয়েও একের পর এক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যার ফলে সংস্থার স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
এই পরিস্থিতি সংশোধনে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেন। ড. সাবেত সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটি বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ সংশোধন করে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডিন্যান্স ২০২৫-এর খসড়া তৈরি করেছে। ইতিমধ্যে খসড়া পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে।
গর্ভনর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, আর্থিক খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের বিকল্প নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করার জন্য আনা পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে:
১. বোর্ডে সরকার মনোনীত সদস্যের সংখ্যা কমানো।
২. গর্ভনর ও ডেপুটি গর্ভনরের নিয়োগ ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের বদলে রাষ্ট্রপতির হাতে থাকবে।
৩. যে কোনো বিষয়ে গভর্ভনরকে সংসদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
৪. চাকরির মেয়াদ ৪ বছরের পরিবর্তে ৬ বছর হবে।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “সরকারি ব্যাংকগুলো সরকার চালায়, বেসরকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক চালায়—এই দ্বৈতনীতি পৃথিবীর কোথাও নেই। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে ক্ষমতায়ন করে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে খসড়া প্রণয়ন করেছি।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাইরে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ ও অনিয়ম রোধে সংশোধন আনা হচ্ছে কোম্পানি আইনেও।
































