প্রত্যেক উপদেষ্টা আখের গোছানোর কাজ করে রেখেছেন: সামান্তা
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:২০:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
- / 80
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যেক উপদেষ্টা নিজেদের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত। তিনি বলেন, এই অন্তর্বর্তী সরকারও এখন দেশের জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিপরীতে দাঁড়িয়েছে।
রবিবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সামান্তা শারমিন।
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারকে দেশের ছাত্র, শিক্ষক, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু আজ তারা শুনছেন, কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ে ৩০০ কোটি টাকার গাড়ি কেনা হচ্ছে। অথচ শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর কথা বললেই বলা হয়, সরকারের কাছে টাকা নেই।”
সামান্তা শারমিন বলেন, “আমরা আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এ ইন্টেরিম গভর্নমেন্টকে বসিয়েছিলাম। কিন্তু তারা এখন দেশের মানুষের স্বপ্নের বিপরীতে দাঁড়িয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থার বিপক্ষেও অবস্থান নিয়েছে।”
শিক্ষা কমিশন গঠন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর যে গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল, তার ফলস্বরূপ আমরা আশা করেছিলাম একটি শিক্ষা কমিশন গঠন হবে। শেখ হাসিনার সময় থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের পথে নেওয়া হয়েছিল। সেটি রোধ করতে এই কমিশন দরকার ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “দেখা যাচ্ছে পুরো দেশটিকে এখন কেবল নির্বাচনের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। অথচ শিক্ষকদের ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। গুলি বা বুলেট দিয়ে গণহত্যা যেমন ভয়াবহ, শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করাও তেমনই অপরাধ।”
শিক্ষকদের প্রতি অবমূল্যায়নের অভিযোগ তুলে সামান্তা বলেন, “শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, বেতন-ভাতা, বাড়িভাড়া—সব ক্ষেত্রেই অবহেলা করা হচ্ছে। মাত্র ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ানোর দাবি জানাতে শিক্ষকদের আন্দোলন করতে হচ্ছে—এটা লজ্জার। এতে স্পষ্ট যে, শিক্ষা খাতে আন্তরিকতার বড় অভাব রয়েছে।”
বর্তমান শিক্ষা উপদেষ্টার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম একজন শিক্ষক উপদেষ্টা হিসেবে শিক্ষকদের অবস্থান বুঝবেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তিনি শিক্ষক সমাজের সঙ্গে যোগাযোগই রাখছেন না। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সরকারের উপদেষ্টারা সব সময় জনগণের কাছে সহজলভ্য থাকবেন—এটাই ছিল প্রত্যাশা। কিন্তু তারা নিজেদের অনেক উঁচু ভাবছেন, হয়তো নিজেদের সুবিধা নিশ্চিত করে ফেলেছেন।”
সামান্তা শারমিন বলেন, “জাতীয়করণ না হোক, অন্তত ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা বাড়ানো তো সম্ভব। অথচ এসব দাবিতে আন্দোলন করতে আসা শিক্ষকদের পুলিশে পেটানো হয়েছে, হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এটা সহ্য করা হবে না। এনসিপি শিক্ষকদের পাশে আছে এবং থাকবে।”
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশিরসহ অন্যান্য নেতারা।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। দুপুরে শিক্ষক প্রতিনিধিদের একটি দল অর্থ মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে সচিবালয়ে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে কোনো নির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় শিক্ষক নেতারা বৈঠককে ফলপ্রসূ মনে করেননি।
দুপুরে প্রেস ক্লাবে ফিরে তারা ঘোষণা দেন, শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা ছাড়বেন না। পাশাপাশি, মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়।
এরপর অধ্যক্ষ মাঈন উদ্দিন ও অধ্যক্ষ আজিজীর নেতৃত্বে একদল শিক্ষক শহীদ মিনারের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে যান, অন্য অংশ প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচির দাবি জানায়।
পরে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থানরত শিক্ষকদের সরাতে পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যান।
































