ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রতিবাদে উত্তাল ইবি-ববি

নিজস্ব প্রতিবেদক, (ইবি-ববি)
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:২৯:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • / 290

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

রাজধানীর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে যুবদল নেতার নেতৃত্বে পিটিয়ে ও পাথর মেরে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নৃশংস এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে উত্তাল হয়ে ওঠে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)।

দুই বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং হত্যার ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

ইবি ক্যাম্পাসে সন্ধ্যায় বিক্ষোভ
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জিয়ামোড় থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডায়না চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করেন ক্যাম্পাস। তাদের কণ্ঠে শোনা যায়—

“ওয়ান টু থ্রি ফোর, চাঁদাবাজ নো মোর”

“বিএনপি যুবদল, তুই খুনি তুই খুনি”

“আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে”

“চব্বিশের বাংলায় চাঁদাবাজের ঠাঁই নাই”

“চাঁদাবাজের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও”

সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এই ধরনের মধ্যযুগীয় নৃশংসতা বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক। তারা বলেন, “চব্বিশ একটি ফ্যাসিবাদের বিদায় ঘটিয়েছে। এখন কেউ যদি আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়, ছাত্রজনতা ঘরে বসে থাকবে না।”

ইবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, “ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেই এই প্রতিবাদ। এর আগেও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় আমরা মাঠে নেমেছিলাম। এবারও সেই রক্তের উত্তর চাই। আমরা দ্রুত বিচার দাবি করছি এবং আগামীতেও কর্মসূচি চলবে।”

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) রাতে সড়ক অবরোধ
একই রাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান। রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে শেরে বাংলা হলের সামনে থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের টিএসসি, হতাশা চত্বর, ভিসির বাসভবন হয়ে ৪ নম্বর গেট দিয়ে বেরিয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে ১০ মিনিটের প্রতীকী অবরোধ করে।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন—

“যুবদল মানুষ মারে, তারেক রহমান কি করে?”

“বীর বাঙালির বায়না, চাঁদাবাজি চাই না”

“তোমার আমার বাংলায়, সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নাই”

মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়, যেখানে বক্তারা বলেন— “এটা শুধু একজন ব্যবসায়ীর হত্যাকাণ্ড নয়, এটি চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।”

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব আহম্মেদ বলেন, “জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এমন বর্বরতা আমরা মেনে নেব না। কেউ আওয়ামী কায়দায় ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাইলে তা প্রতিহত করা হবে।”

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শাহেদুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশে আর কোনো নতুন ফ্যাসিবাদের জায়গা নেই। যে-ই ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটবে, তাকে ছাত্রজনতা রুখে দেবে।”

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার সায়েম বলেন, “দুঃখজনকভাবে এখনো মূলধারার কোনো মিডিয়া এ ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। তাই আমরাই বলছি—বিএনপি যদি নিজেদের শুধরাতে না পারে, তাদের অবস্থাও হবে আওয়ামী লীগের চেয়েও করুণ।”

সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ, ন্যায়ের দাবি
ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যুবদল নেতা রজ্জব আলী পিন্টু এবং সাবাহ করিম লাকির নেতৃত্বে একদল লোক ব্যবসায়ী সোহাগকে লাঠি ও পাথর দিয়ে আক্রমণ করে এবং তার মাথা থেঁতলে দেয়। শতাধিক মানুষ তখন আশপাশে থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।

সামাজিক মাধ্যমে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে মন্তব্য করেন, “রাজনীতির নামে খুনখারাবি কোনোভাবেই বরদাস্তযোগ্য নয়।”

ছাত্রসমাজের বার্তা: অপরাধী যে-ই হোক ছাড় নেই
ইবি ও ববির শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে বার্তা দিয়েছেন—দলীয় পরিচয় দিয়ে খুন করে পার পাওয়া যাবে না। এ ধরনের অপরাধ যেই করুক না কেন, তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

তারা স্পষ্টভাবে বলেন, “রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কাছে জনগণের নিরাপত্তা সবচেয়ে বড়। যদি সেই নিরাপত্তা ভাঙে, তবে জনগণ ও ছাত্রসমাজ রাস্তায় নামবেই।”

এ প্রতিবাদ কর্মসূচি দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা—চাঁদাবাজি, গুন্ডামি, খুনোখুনি আর চলবে না। জনগণ ও শিক্ষার্থীরা এখন জেগে উঠেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রতিবাদে উত্তাল ইবি-ববি

সর্বশেষ আপডেট ১২:২৯:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে যুবদল নেতার নেতৃত্বে পিটিয়ে ও পাথর মেরে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নৃশংস এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে উত্তাল হয়ে ওঠে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)।

দুই বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং হত্যার ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

ইবি ক্যাম্পাসে সন্ধ্যায় বিক্ষোভ
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জিয়ামোড় থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডায়না চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করেন ক্যাম্পাস। তাদের কণ্ঠে শোনা যায়—

“ওয়ান টু থ্রি ফোর, চাঁদাবাজ নো মোর”

“বিএনপি যুবদল, তুই খুনি তুই খুনি”

“আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে”

“চব্বিশের বাংলায় চাঁদাবাজের ঠাঁই নাই”

“চাঁদাবাজের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও”

সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এই ধরনের মধ্যযুগীয় নৃশংসতা বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক। তারা বলেন, “চব্বিশ একটি ফ্যাসিবাদের বিদায় ঘটিয়েছে। এখন কেউ যদি আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়, ছাত্রজনতা ঘরে বসে থাকবে না।”

ইবির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, “ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেই এই প্রতিবাদ। এর আগেও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় আমরা মাঠে নেমেছিলাম। এবারও সেই রক্তের উত্তর চাই। আমরা দ্রুত বিচার দাবি করছি এবং আগামীতেও কর্মসূচি চলবে।”

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) রাতে সড়ক অবরোধ
একই রাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান। রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে শেরে বাংলা হলের সামনে থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের টিএসসি, হতাশা চত্বর, ভিসির বাসভবন হয়ে ৪ নম্বর গেট দিয়ে বেরিয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে ১০ মিনিটের প্রতীকী অবরোধ করে।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন—

“যুবদল মানুষ মারে, তারেক রহমান কি করে?”

“বীর বাঙালির বায়না, চাঁদাবাজি চাই না”

“তোমার আমার বাংলায়, সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নাই”

মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়, যেখানে বক্তারা বলেন— “এটা শুধু একজন ব্যবসায়ীর হত্যাকাণ্ড নয়, এটি চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।”

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব আহম্মেদ বলেন, “জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এমন বর্বরতা আমরা মেনে নেব না। কেউ আওয়ামী কায়দায় ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাইলে তা প্রতিহত করা হবে।”

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শাহেদুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশে আর কোনো নতুন ফ্যাসিবাদের জায়গা নেই। যে-ই ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটবে, তাকে ছাত্রজনতা রুখে দেবে।”

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার সায়েম বলেন, “দুঃখজনকভাবে এখনো মূলধারার কোনো মিডিয়া এ ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। তাই আমরাই বলছি—বিএনপি যদি নিজেদের শুধরাতে না পারে, তাদের অবস্থাও হবে আওয়ামী লীগের চেয়েও করুণ।”

সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ, ন্যায়ের দাবি
ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যুবদল নেতা রজ্জব আলী পিন্টু এবং সাবাহ করিম লাকির নেতৃত্বে একদল লোক ব্যবসায়ী সোহাগকে লাঠি ও পাথর দিয়ে আক্রমণ করে এবং তার মাথা থেঁতলে দেয়। শতাধিক মানুষ তখন আশপাশে থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।

সামাজিক মাধ্যমে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে মন্তব্য করেন, “রাজনীতির নামে খুনখারাবি কোনোভাবেই বরদাস্তযোগ্য নয়।”

ছাত্রসমাজের বার্তা: অপরাধী যে-ই হোক ছাড় নেই
ইবি ও ববির শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে বার্তা দিয়েছেন—দলীয় পরিচয় দিয়ে খুন করে পার পাওয়া যাবে না। এ ধরনের অপরাধ যেই করুক না কেন, তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

তারা স্পষ্টভাবে বলেন, “রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কাছে জনগণের নিরাপত্তা সবচেয়ে বড়। যদি সেই নিরাপত্তা ভাঙে, তবে জনগণ ও ছাত্রসমাজ রাস্তায় নামবেই।”

এ প্রতিবাদ কর্মসূচি দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা—চাঁদাবাজি, গুন্ডামি, খুনোখুনি আর চলবে না। জনগণ ও শিক্ষার্থীরা এখন জেগে উঠেছে।