প্রতিদিন সর্বোচ্চ কতটি ডিম খাওয়া নিরাপদ?
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 44
ডিম দীর্ঘদিন ধরে পুষ্টি সংক্রান্ত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রোটিনের উচ্চমানের জন্য প্রশংসিত হলেও কোলেস্টেরলের কারণে এর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে আধুনিক গবেষণা নির্দেশ করছে, সাবধানতার সঙ্গে খাওয়া হলে ডিম স্বাস্থ্যকর খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন এক থেকে দুটি আস্ত ডিম নিরাপদে খেতে পারেন। শারীরিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তি, ক্রীড়াবিদ বা যাদের প্রোটিনের চাহিদা বেশি, তারা দিনে তিনটি ডিমও খেতে পারেন। এছাড়া উচ্চ প্রোটিন চাহিদার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ডিমের সাদা অংশ বেশি খাওয়া যেতে পারে।
ডিম পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। এতে ওমেগা-ডিএইচএ ও ইপিএ, ভিটামিন ডি৩, ভিটামিন বি১২, সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন এ ও ই থাকে। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, মস্তিষ্কের বিকাশে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং পেশি ও হাড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ডিম সম্পূর্ণ প্রোটিনের উৎস এবং এতে আয়রন, জিঙ্ক, কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট থাকে, যা বিপাক ও জ্ঞানীয় কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য।
ডিমে থাকা কোলিন মস্তিষ্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, আর লুটেইন ও জেক্সানথিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে ডিম প্রাথমিকভাবে এইচডিএল (ভালো) কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরলের ওপর খুব সীমিত প্রভাব ফেলে।
তবে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ এলডিএল কোলেস্টেরলযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডিমের কুসুম সীমিত করা, সাপ্তাহিক খাওয়া কমানো বা শুধুমাত্র সাদা অংশ খাওয়া সুপারিশ করা হয়।
সার্টিফাইড ডায়াবেটিস এডুকেটর ও ডায়েটিশিয়ান ডা. অর্চনা বাত্রা বলেন, আধুনিক পুষ্টি গবেষণা ডিমের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিকে নতুনভাবে রূপ দিয়েছে। পূর্বে কোলেস্টেরলের কারণে ডিম খাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা দেওয়া হলেও নতুন প্রমাণ দেখায়, খাদ্যতালিকাগত কোলেস্টেরল অধিকাংশ মানুষের রক্ত কোলেস্টেরলের ওপর সীমিত প্রভাব ফেলে। বরং অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
ডা. বাত্রা পরামর্শ দেন, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা প্রতিদিন ১–২টি ডিম নিরাপদে খেতে পারেন। অন্যদিকে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা লিপিড ডিসঅর্ডার আক্রান্ত ব্যক্তিদের সপ্তাহে ৩–৫টি ডিমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, সিদ্ধ, পোচ বা হালকাভাবে ভাজা ডিম স্বাস্থ্যকর, তবে মাখনে ভাজা বা প্রক্রিয়াজাত মাংসের সঙ্গে খাওয়া কম স্বাস্থ্যকর।





































