প্রকাশ্যে ঘুরছে মামলার আসামি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ
- সর্বশেষ আপডেট ০২:০৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 213
ময়মনসিংহ নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় সরকারি সড়কের পাশে রোপণ করা মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি দীর্ঘদিন পার হলেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। আদালতে হাজিরা না দিয়েও আসামির প্রকাশ্য চলাফেরা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের আলমপুর–দিঘলী এলজিইডি সড়কের দিঘলী মোড় থেকে জিলু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় রোপণ করা ৩১টি মেহগনি গাছ গত ১৮ নভেম্বর কেটে ফেলা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এসব গাছের বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, গাছগুলো দিনে কাটা হলেও রাতে গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা কয়েকটি যানবাহন ও গাছের অংশ আটক করেন। তারা জানান, কয়েক বছর আগে সরকারি উদ্যোগে এসব গাছ রোপণ করা হয়েছিল এবং বিক্রির ক্ষেত্রে স্থানীয়দের একটি অংশ দেওয়ার আশ্বাস ছিল। কিন্তু কাউকে অবহিত না করেই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়।
এ ঘটনায় মাসকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান ভূঞা সুমনের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। সরকারি সম্পদের গাছ কাটতে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের অনুমোদনসহ একাধিক আইনি শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক হলেও এ ক্ষেত্রে তার কোনোটি অনুসরণ করা হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদারের নির্দেশে মাসকা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বাদী হয়ে গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে রেজাউল হাসান ভূঞা সুমনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে নেত্রকোণা আমলি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তবে মামলার একমাত্র আসামি এখনো আদালতে হাজিরা দেননি। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তার বা হাজিরার তোয়াক্কা না করেই তিনি প্রভাব খাটিয়ে থানা এলাকা ও আশপাশে অবাধে চলাফেরা করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানা সদরেও তাকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে এবং পুলিশের সঙ্গে এক টেবিলে বসে চা পান করার দৃশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের নিরপেক্ষতা ও আইন প্রয়োগের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রেজাউল হাসান ভূঞা সুমন মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি ঢাকা যাচ্ছি, এ বিষয়ে পরে কথা বলবো।’
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাকসুদ বলেন, ‘আমি অল্পদিন আগে এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
অবিলম্বে এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

































