পোস্টাল ব্যালটে কারচুপির অভিযোগ
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 4
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পোস্টাল ব্যালটে কারচুপির অভিযোগ তুলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচন ব্যবস্থাকে দুর্বল করার নতুন কৌশল হিসেবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি জনগণকে ভোটের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
রোববার (২৫জানুয়ারী) সন্ধ্যায় ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে বারবার ভোট ডাকাতি হয়েছে। দিনের ভোট রাতে হয়েছে। এবার সেই কাজ পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে করা হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, এই পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট কারচুপির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে এবং গণতন্ত্র রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করলে দেশের মানুষকে স্বাবলম্বী করা হবে। খাল পুনঃখনন, কৃষকদের জন্য বিশেষ কার্ড, নারীদের সহায়তা এবং বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের মাধ্যমে উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
“লাখ লাখ বেকারের জন্য আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই,” বলেন তিনি।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে তিনি এসব বক্তব্য দেন।
একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, যারা বেহেশতের টিকিট দেওয়ার কথা বলে ভোট চাইছে, তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই ওই দলের ভূমিকা সম্পর্কে মানুষ জানে, নতুন করে কিছু বলার নেই।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দুটি মৌলিক বিষয় নিশ্চিত করতে হবে, যা গত বছরগুলোতে জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। বিএনপি অতীতে প্রমাণ করেছে, এই বিষয়গুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের সক্ষমতা একমাত্র তাদেরই রয়েছে।
বিদেশে পাঠানো ব্যালট নিয়ে অভিযোগ করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট সাম্প্রতিক সময়ে কীভাবে লুট হয়েছে, তা সবাই দেখেছে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে বহু মানুষের ত্যাগ রয়েছে। কিন্তু দেশের ভেতরে এখনও কিছু গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, জনগণ বিএনপির পাশে থাকলে আগামী দিনেও কঠোরভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।
দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“আমরা দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরব। কে দুর্নীতি করল, তার পরিচয় দেখে বিচার হবে না,” বলেন তিনি।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওই সময় দুর্নীতির কারণে দেশ পিছিয়ে পড়েছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এসে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটায়।
সমাবেশে তিনি বলেন, সবাই একটি পরিবর্তনের লক্ষ্যে এখানে একত্রিত হয়েছেন। ফেনীর মাটিতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জন্ম হয়েছে, তার সম্মান রক্ষার দায়িত্ব জনগণের।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সমাবেশে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ১৩ জন বিএনপি প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করলে জনগণ নিজেদের প্রাপ্য বুঝে নিতে পারবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন ফেনী-১ আসনের প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন (ভিপি), ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু, নোয়াখালীর জয়নাল আবেদিন ফারুক, লক্ষ্মীপুরের শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবীব উল্যা মানিক, আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীসহ অন্যান্য নেতারা।































