ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পূণ্য স্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সুন্দরবনের রাস পূজা

নিজস্ব প্রতিবেদক, মোংলা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / 105

পূণ্য স্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সুন্দরবনের রাস পূজা

সুন্দরবনের দুবলারচর আলোরকোলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তিন দিনব্যাপী ঐতিহাসিক রাস উৎসব পূণ্য স্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। বুধবার (৫ নভেম্বর) ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে হাজারো নারী-পুরুষ, শিশু ও ভক্তরা সমুদ্রসৈকতে নেমে স্নান করেন। পানির মধ্যেই তারা নানা প্রার্থনা করেন এবং পরে পূজা-অর্চনা সম্পন্ন করে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন।

সোমবার (৩ নভেম্বর) সকালেই বন বিভাগ ও পুলিশের তত্ত্বাবধানে নদীপথে পৌঁছে পূণ্যার্থীরা দুবলারচরে যান। সন্ধ্যায় আলোরকোলে পৌঁছে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার সারাদিন পূজা-অর্চনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা ও গাজী-কালুর পূজাসহ নানা আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। রাতেও পূজার মধ্য দিয়ে পূণ্যার্থীদের সময় কাটে।

রাস পূজা উপলক্ষে মেডিকেল টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ টহল দল এবং বন বিভাগের কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়া অন্যদের বনে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কিছু মানুষ ছদ্মবেশে বনে প্রবেশ করে হরিণ শিকারসহ বিভিন্ন অপরাধের চেষ্টা চালায়।

রাস পূজার প্রথম দিন, ৩ নভেম্বর দুপুরে হরিণ শিকারের ফাঁদ পাতার সময় একজনকে আটক করে বনরক্ষীরা। তার সহযোগীরা বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে সহকারী বন সংরক্ষক (এসি‌এফ) রানা দেব আহত হন। পরে রাফি হাসান (২৬), শহিদ মল্লিক (২৮) ও আল আমিন আকুঞ্জি (২৭) নামে তিনজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়।

তিন দিনের উৎসব চলাকালীন ছদ্মবেশে প্রবেশকারী অপরাধীরা হরিণ শিকার করার চেষ্টা চালায়। বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ৩২ জন শিকারিকে আটক করে। এছাড়া হরিণ শিকারে ব্যবহৃত দুটি ট্রলার এবং বিপুল পরিমাণ ফাঁদ জব্দ করা হয়। নদীপথে যাচাই-বাছাই শেষে মুসলিম সম্প্রদায়ের শতাধিক মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পূণ্য স্নানের সময় প্রসাদ দেওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ পলিথিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে পলিথিন ব্যবহার বন্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাস উৎসব উদযাপন পরিষদ ও দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “দুর্গম বঙ্গোপসাগর তীরে প্রায় ২৩০ বছর ধরে হিন্দু ধর্মের এই রাস উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের উৎসব বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “উৎসব চলাকালে বন বিভাগ, পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ সদস্যরা তৎপর ছিলেন। তারপরও কিছু মুসলিম ধর্মাবলম্বী ছদ্মবেশে বনে প্রবেশ করে হরিণ শিকারের চেষ্টা চালায় এবং বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা ৩২ জন শিকারিকে আটক করেছি। বিপুল পরিমাণ শিকারের ফাঁদ ও দুটি ট্রলার জব্দ করেছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ দূষণ রোধে পূণ্যার্থীদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তবুও পলিথিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পূণ্য স্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সুন্দরবনের রাস পূজা

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

সুন্দরবনের দুবলারচর আলোরকোলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তিন দিনব্যাপী ঐতিহাসিক রাস উৎসব পূণ্য স্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। বুধবার (৫ নভেম্বর) ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে হাজারো নারী-পুরুষ, শিশু ও ভক্তরা সমুদ্রসৈকতে নেমে স্নান করেন। পানির মধ্যেই তারা নানা প্রার্থনা করেন এবং পরে পূজা-অর্চনা সম্পন্ন করে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন।

সোমবার (৩ নভেম্বর) সকালেই বন বিভাগ ও পুলিশের তত্ত্বাবধানে নদীপথে পৌঁছে পূণ্যার্থীরা দুবলারচরে যান। সন্ধ্যায় আলোরকোলে পৌঁছে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার সারাদিন পূজা-অর্চনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা ও গাজী-কালুর পূজাসহ নানা আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। রাতেও পূজার মধ্য দিয়ে পূণ্যার্থীদের সময় কাটে।

রাস পূজা উপলক্ষে মেডিকেল টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ টহল দল এবং বন বিভাগের কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়া অন্যদের বনে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কিছু মানুষ ছদ্মবেশে বনে প্রবেশ করে হরিণ শিকারসহ বিভিন্ন অপরাধের চেষ্টা চালায়।

রাস পূজার প্রথম দিন, ৩ নভেম্বর দুপুরে হরিণ শিকারের ফাঁদ পাতার সময় একজনকে আটক করে বনরক্ষীরা। তার সহযোগীরা বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে সহকারী বন সংরক্ষক (এসি‌এফ) রানা দেব আহত হন। পরে রাফি হাসান (২৬), শহিদ মল্লিক (২৮) ও আল আমিন আকুঞ্জি (২৭) নামে তিনজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়।

তিন দিনের উৎসব চলাকালীন ছদ্মবেশে প্রবেশকারী অপরাধীরা হরিণ শিকার করার চেষ্টা চালায়। বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ৩২ জন শিকারিকে আটক করে। এছাড়া হরিণ শিকারে ব্যবহৃত দুটি ট্রলার এবং বিপুল পরিমাণ ফাঁদ জব্দ করা হয়। নদীপথে যাচাই-বাছাই শেষে মুসলিম সম্প্রদায়ের শতাধিক মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পূণ্য স্নানের সময় প্রসাদ দেওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ পলিথিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে পলিথিন ব্যবহার বন্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাস উৎসব উদযাপন পরিষদ ও দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “দুর্গম বঙ্গোপসাগর তীরে প্রায় ২৩০ বছর ধরে হিন্দু ধর্মের এই রাস উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের উৎসব বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “উৎসব চলাকালে বন বিভাগ, পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ সদস্যরা তৎপর ছিলেন। তারপরও কিছু মুসলিম ধর্মাবলম্বী ছদ্মবেশে বনে প্রবেশ করে হরিণ শিকারের চেষ্টা চালায় এবং বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা ৩২ জন শিকারিকে আটক করেছি। বিপুল পরিমাণ শিকারের ফাঁদ ও দুটি ট্রলার জব্দ করেছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ দূষণ রোধে পূণ্যার্থীদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তবুও পলিথিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”