ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
কীভাবে বাংলাদেশে পুশইন হল আমির

পুশইন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট রিপোর্ট চেয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:০০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / 97

কলকাতা হাইকোর্ট

পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার ১৯ বছর বয়সী অভিবাসী শ্রমিক আমির শেখকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে পাঠানোর ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাজস্থান পুলিশের কাছে বিস্তারিত সরকারি প্রতিবেদন (স্ট্যাটাস রিপোর্ট) চেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) মামলাটির শুনানি হয়।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটি করেছিলেন আমিরের বাবা। আবেদনে তিনি জানান, কাজের খোঁজে প্রথমে আমির কিছুদিন ওড়িশায় ছিলেন। পরে তিনি রাজস্থানে যান। সেখানেই ২৫ জুন রাজস্থান পুলিশ তাকে আটক করে এবং বাংলাদেশি নাগরিক বলে সন্দেহ করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এরপর কোনো বৈধ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই তাকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়।

পরিবার এ ঘটনার কথা জানতে পারে তাকে বাংলাদেশে পুশইন করার পর। পরে তারা বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সহায়তা চান। আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আমিরকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়। এরপর সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। বসিরহাট হয়ে শেষ পর্যন্ত মালদার কালিয়াচক থানায় নথিভুক্ত প্রক্রিয়া শেষে তিনি বাড়ি ফেরেন।

আদালতে বিএসএফের পক্ষে উপস্থিত ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, এখনো রাজস্থান পুলিশ কিংবা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো রিপোর্ট তাঁদের কাছে আসেনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিএসএফ কেবল বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমিরকে গ্রহণ করে বসিরহাট পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল, মূল ‘ডিপোর্টেশন’ প্রক্রিয়ায় তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী রঘুনাথ চক্রবর্তী আদালতে যুক্তি দেন, আমিরকে বেআইনিভাবে আটক করে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছে, যা তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। পরিবারের দাবি, এই অন্যায়ের কারণে যে মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এ বিষয়ে দুটি আলাদা রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বসিরহাট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমিরকে মালদার কালিয়াচক থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১২ নভেম্বর। ওই দিন রাজস্থান পুলিশ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাওয়া রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। আদালত জানিয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কীভাবে বাংলাদেশে পুশইন হল আমির

পুশইন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট রিপোর্ট চেয়েছে

সর্বশেষ আপডেট ১২:০০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার ১৯ বছর বয়সী অভিবাসী শ্রমিক আমির শেখকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে পাঠানোর ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাজস্থান পুলিশের কাছে বিস্তারিত সরকারি প্রতিবেদন (স্ট্যাটাস রিপোর্ট) চেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) মামলাটির শুনানি হয়।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটি করেছিলেন আমিরের বাবা। আবেদনে তিনি জানান, কাজের খোঁজে প্রথমে আমির কিছুদিন ওড়িশায় ছিলেন। পরে তিনি রাজস্থানে যান। সেখানেই ২৫ জুন রাজস্থান পুলিশ তাকে আটক করে এবং বাংলাদেশি নাগরিক বলে সন্দেহ করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এরপর কোনো বৈধ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই তাকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়।

পরিবার এ ঘটনার কথা জানতে পারে তাকে বাংলাদেশে পুশইন করার পর। পরে তারা বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সহায়তা চান। আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আমিরকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়। এরপর সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। বসিরহাট হয়ে শেষ পর্যন্ত মালদার কালিয়াচক থানায় নথিভুক্ত প্রক্রিয়া শেষে তিনি বাড়ি ফেরেন।

আদালতে বিএসএফের পক্ষে উপস্থিত ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, এখনো রাজস্থান পুলিশ কিংবা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো রিপোর্ট তাঁদের কাছে আসেনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিএসএফ কেবল বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমিরকে গ্রহণ করে বসিরহাট পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল, মূল ‘ডিপোর্টেশন’ প্রক্রিয়ায় তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী রঘুনাথ চক্রবর্তী আদালতে যুক্তি দেন, আমিরকে বেআইনিভাবে আটক করে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছে, যা তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। পরিবারের দাবি, এই অন্যায়ের কারণে যে মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এ বিষয়ে দুটি আলাদা রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বসিরহাট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমিরকে মালদার কালিয়াচক থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১২ নভেম্বর। ওই দিন রাজস্থান পুলিশ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাওয়া রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। আদালত জানিয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া হবে।