পুশইনের বিশেষ ঝুঁকিতে তিন সীমান্ত
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
- / 646
ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশইনের (মানুষকে ঠেলে পাঠানো) ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যে তিনটি সীমান্ত—মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি ও সিলেট—বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ১,১১৪ জনকে ভারত থেকে পুশইন করা হয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার সীমান্ত দিয়ে ৩৮০ জন, খাগড়াছড়ি দিয়ে ১৩২ জন এবং সিলেট সীমান্ত দিয়ে ১১৫ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, এসব ছাড়াও অন্যান্য সীমান্ত দিয়েও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষকে পুশইন করা হয়েছে। হবিগঞ্জ দিয়ে ৪১, সুনামগঞ্জ ১৬, কুমিল্লা ১৩, ফেনী ৫২, কুড়িগ্রাম ৯৩, লালমনিরহাট ৮৫, ঠাকুরগাঁও ১৯, পঞ্চগড় ৩২, দিনাজপুর ১৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১৭, কুষ্টিয়া ৯, মেহেরপুর ৩০, চুয়াডাঙ্গা ১৯, ঝিনাইদহ ৫২ ও সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ২৩ জন।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর নামে পাকিস্তানবিরোধী অভিযানের আড়ালে বাংলাদেশি অভিবাসীদের চিহ্নিত করে তাদের পুশইন করা হচ্ছে। ৭ মে থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানের পর ইতোমধ্যে দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে আরও দুই হাজার মানুষ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে জড়ো হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও আসামের সীমান্তবর্তী এলাকায় এই অভিযান চলছে। গুজরাট ছিল অভিযান শুরুর কেন্দ্র, সেখান থেকেই সবচেয়ে বেশি পুশইন হয়েছে। দিল্লি, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থান থেকেও অনেকে আটক হয়ে সীমান্তে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র মতে, এসব অভিবাসীদের ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাহায্যে বিভিন্ন রাজ্য থেকে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। বিএসএফ তাদের গ্রহণ করে অস্থায়ী শিবিরে রাখে, খাবার ও প্রয়োজনে বাংলাদেশি টাকা দিয়ে কিছুক্ষণ পর বাংলাদেশে পুশইন করে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও আসামকে বেছে নেওয়ার কারণ কৌশলগত—এই সীমান্তগুলো দিয়ে পুশইন সহজ। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক গভীর হওয়ায় সেখানে পুশইন জটিল হতে পারে।
ভারতের এক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, পুশইনের সংখ্যা যদি প্রতি সপ্তাহে ১০-২০ হাজারে পৌঁছায়, তবে বাংলাদেশ সরকারের জন্য তা বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। এ ধরনের অভিযান অতীতেও হয়েছে, কিন্তু এবারের পরিসর অনেক বড়, এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় কেবল সাময়িক সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।































