গৃহকর্মী আয়েশার জবানবন্দি
পুলিশে দিতে চাওয়ায় মা-মেয়েকে হত্যা
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 51
টাকা চুরি নিয়ে কথাকাটি এবং ক্ষোভের জেরে প্রথমে মা ও পরে মেয়েকে খুন করে গৃহকর্মী আয়েশা। মোহাম্মদপুরে আলোচিত জোড়া খুনে গ্রেপ্তার গৃহকর্মী আয়েশাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সিসিটিভির ফুটেজে তাকে চেনা না গেলেও গলায় পোড়া চিহ্ন দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়। চলতি বছরের জুলাই মাসে ৮ হাজার টাকা ও স্বর্ণের আংটি চুরির ঘটনায় আয়েশার নামে এর আগেও অভিযোগ করা হয়েছিল। সেই চুরির ঘটনায় পাওয়া একটি নাম্বারের সূত্র ধরে ঝালকাঠিতে তার দাদা শ্বশুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় আয়েশা ও তার স্বামী রাব্বীকে।
পুলিশ বলছে, হত্যার আগের দিন আয়েশা ওই বাসা থেকে ২ হাজার টাকা চুরি করে। এ নিয়ে তাকে পুলিশে দিতে চেয়েছিল নিহত লায়লা আফরোজ। পরের দিন ছুরি নিয়ে বাসায় ঢুকে আয়েশা। পরে সেই ছুরি দিয়ে লায়লাকে হত্যা করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে লায়লাকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এরপর নাফিসা তার মাকে বাঁচাতে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। ছুরিকাঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মা-মেয়ে মারা যায় বলে প্রতিয়মান।
এ ঘটনায় আয়েশার স্বামী রাব্বীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, স্বামী রাব্বী হত্যাকাণ্ডের পরে আয়েশাকে ঢাকা থেকে পালাতে সাহায্য করে।
তিনি আরও বলেন, তাকে শনাক্ত করার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করি। কিন্তু কাজে আসা-যাওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখত। তার বাসার কোনো ঠিকানাও ছিল না। তবে সাইডে পোড়া দাগ ছিল ক্লু। কারণ এই পোড়া দাগ নিয়ে এই মহিলা ধরা পড়েছিল, মোহাম্মদপুর থানায় একটা জিডি ছিল। সেই ক্লু ধরে আমরা রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছি, তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি।
সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম, বাসায় গৃহকর্মী রাখার পূর্বে তার এনআইডিসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে রাখার আহ্বান জানান।


































