পুরো কলেজে একজন পরীক্ষার্থী, তবু অকৃতকার্য
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
- / 121
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দিনাজপুর বোর্ডের ফলাফলে দেখা গেছে, সেই একমাত্র পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছেন। ঘটনা এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের দায়ারোপ করেছেন এই করুণ অবস্থার জন্য।
কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজটি ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও কলেজ শাখা এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ২০১১ সালে কলেজ শাখা চালু করা হয়। কলেজটিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ মিলিয়ে ১২ জন শিক্ষক থাকলেও এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় শুধুমাত্র মানবিক বিভাগের একজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। বাকি দুই বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।
কলেজের অধ্যক্ষ এ বি এম মিজানুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন কলেজ মঞ্জুরি না পাওয়ায় শিক্ষকরা বেতন পান না। এ কারণে শিক্ষকরা কলেজে আসে না এবং শিক্ষার্থী ভর্তির কাজে মনোযোগ দেয় না। অধ্যক্ষ নিজেই ব্যক্তিগতভাবে অর্থ ব্যয় করে শিক্ষার্থী ভর্তি করছেন। তিনি বলেন, এবারের ফলাফলে দুঃখজনক হলেও ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ানো ও রেজাল্টের মান উন্নত করতে পরিকল্পনা রয়েছে। কলেজটি স্বীকৃতি পেলে সমস্যা সমাধান সহজ হবে।
শিক্ষাবিদ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, করোনার কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় পিছিয়ে ছিল। ক্লাসের ফাঁক পূরণ না হওয়ায় পাসের হার কমেছে। নিয়মিত ক্লাস ও শিক্ষক ও এলাকার আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই অবস্থা উত্তরণ সম্ভব।
পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল জানান, এবার সারা দেশের পাসের হার কম। সরকারের নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুযায়ী শুধু গণহারে পাস নয়, শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি বলেন, কলেজটি মঞ্জুরি না পাওয়ায় শিক্ষার্থী কম পাচ্ছে, তবে সরকারের সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটি এ সংকট থেকে উত্তরণ করতে পারবে।
এ বছর দিনাজপুর বোর্ড থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯২১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ৬০ হাজার ৮৮২ জন, ফেল করেছেন ৪৫ হাজার ৩৯ জন। পাসের হার ৫৭.৫ শতাংশ এবং ফেল ৪২.৫ শতাংশ। বোর্ডের অধীনে ৬৬৬টি কলেজের মধ্যে ৪৩টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
































