ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ভেঙে দেয়া হলো আহ্বায়ক কমিটি

পিরোজপুর বিএনপি নিয়ে বিতর্কে অধ্যক্ষ আলমগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিরোজপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৫১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 176

বিতর্কে ভাঙলো পিরোজপুর বিএনপির কমিটি।

আওয়ামী লীগ নেতাদের পুর্ণবাসন, ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের অবমূল্যায়নসহ একগুচ্ছ অভিযোগের ভিত্তিতে ভেঙে দেয়া হয়েছে পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি। একইদিনে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে জেলা ছাত্রদলের কমিটিও।

 

গত ০৩ সেপ্টেম্বর বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কমিটি বিলুপ্তির তথ্য জানানো হয়।

 

অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে আহ্বায়ক ও ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু গাজীকে সদস্য সচিব করে ২০২২ সালে গঠিত হয় পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি।

 

কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার ঘটনায় দলটির স্থানীয় বঞ্চিত নেতা-কর্মীরা আনন্দ উল্লাস করছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে- কেন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করতে হলো।

 

দলটির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, জুলাই বিপ্লবের আগে এই কমিটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মাঠে খুব একটা সক্রিয় ছিলো না। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সদর্পে মাঠে নামেন কমিটির শীর্ষ নেতারা।

 

বিভিন্ন জেলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পদ বাণিজ্য, আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যবসা রক্ষার যে অভিযোগ উঠেছে; তা থেকে বাদ যাননি পিরোজপুরের বিলুপ্ত এই কমিটিও শীর্ষ নেতা আলমগীর হোসেন ও লাভলু গাজী।

 

আওয়ামী লীগ আমলে পায়ে হেঁটে চলা কিছু নেতা রাতারাতি বাড়ি-গাড়ি, ফ্ল্যাট আর বিপুল ভূসম্পত্তির মালিক বনে যান। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ওঠে বেপরোয়া সন্ত্রাসের অভিযোগও।

 

লাভলু গাজীর দুর্নীতি নিয়ে মাঝে মাঝে সংবাদ প্রচার হলেও ধূর্ত আলমগীর ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

 

দলটির একাধিক নেতাকর্মী জানান, ৫ আগস্টের পর রাতারাতি আলমগীর পিরোজপুর জেলা বিএনপিকে নিজস্ব খেয়াল খুশি মত পরিচালনা করা শুরু করেন।

 

একাধিক নেতা-কর্মীর দাবি, আলমগীর হোসেন অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদেরও কমিটিতে জায়গা করে দিয়েছেন।

 

তারা জানান, ৫ আগস্ট এর পর আওয়ামী লীগের পলাতক একাধিক ঠিকাদারের কাজ নিজেদের মধ্যে ভাগ বটোরা করে নেন এই দু’জন। এছাড়া পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণেরও অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্টের আগে যে নেতা পায়ে হেঁটে শহরে ঘুরতেন হঠাৎ করে তারা দামি গাড়ি ছাড়া চলতেই পারেন না।

 

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের আলোচিত পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মিরাজ মহারাজের কাছ থেকে দামি গাড়ি ও নগদ অর্থ উপহার পেয়েছেন এবং সার্বক্ষণিক তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন আলমগীর।

 

তিনি কিভাবে এবং কার গাড়ীতে চড়েন ও দু’হাতে খরচ করে নির্বাচনের মাঠ তৈরির কাজ করছিলেন, তার তদন্ত হওয়া দরকার।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির জেলা কমিটির একজন সিনিয়র নেতার অভিযোগ, জেলায় কমিটি গঠনের নামে প্রতিটি  উপজেলা , থানা , ইউনিয়ন, ওয়ার্ড কমিটি থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীড় কর্মীদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়। বঞ্চিত করা হয় ত্যাগী নেতাদের।

 

পিরোজপুরে বালু মহল, বাস স্ট্যান্ড বা জেলার যত স্থান থেকে ইজারার নামে চাঁদা তোলা হয় তার সিংহভাগ আলমগীর হোসেনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। স্থানীয় সরকার, গণপূর্ত, সড়ক ও জনপথ থেকে রাস্তার আটোরিক্সা সব জায়গা থেকেই তিনি কমিশন তুলছেন।

 

শুধু তাই নয় আওয়ামী লীগের মতো আলমগীরও পিরোজপুর জেলা বিএনপিতে পরিবারতন্ত্র কায়েম করছেন। তার ছোট ভাই আহসানুল কবিরকে বানিয়াছেন জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক । এখনো যার ব্যবসায়িক পার্টনার নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পথধারী লোকেরা।

 

এসব অভিযোগ আর পাল্টা-পাল্টি সংঘাতে জেলার মঠবাড়িয়া ও স্বরুপকাঠী উপজেলায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। পছন্দমতো কমিটি করতে ভান্ডারিয়ায় মঞ্চে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রেখে এক গ্রুপ করে উপজেলা সম্মেলন। মঠবাড়িয়ায় ক্ষোভে-রাগে বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেন দেড় শতাধিক নেতাকর্মী।

 

চলমান এসব ঘটনার শেষ পর্যায়ে মঙ্গলবার রাতে পিরোজপুর সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনস্থলে হামলা চালায় জেলা ছাত্রদলের নেতারা। মঞ্চে থাকা সিনিয়র নেতাদের লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি সিল দেওয়া ব্যালট পেপার ছিনতাই করে নেয় তারা।

 

ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতা-কর্মীরা বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগনের মন জয় করার যে সংগ্রাম বিএনপি’র কর্মীরা করছিল তার কর্মকান্ডে তা ব্যহত হয়। এবং পিরোজপুর জেলায় আজ বিএনপির যে ইমেজ সংকট তৈরি হয়েছে তার দায় বর্তায় লাভলু গাজী ও অধ্যক্ষ আলমগীরের ওপর।

 

জানতে চাইলে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই পার হয়ে গিয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে সকল উপজেলা কমিটি গঠণ করা যায়নি। এছাড়া কমিটি নিয়ে কিছু অভিযোগ থাকতে পারে; যে কারনে এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

 

নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি অভিযোগ প্রমান করতে পারেন; তাহলে কেবল দল নয়; দেশও ছেড়ে দিবো।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভেঙে দেয়া হলো আহ্বায়ক কমিটি

পিরোজপুর বিএনপি নিয়ে বিতর্কে অধ্যক্ষ আলমগীর

সর্বশেষ আপডেট ০১:৫১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আওয়ামী লীগ নেতাদের পুর্ণবাসন, ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের অবমূল্যায়নসহ একগুচ্ছ অভিযোগের ভিত্তিতে ভেঙে দেয়া হয়েছে পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি। একইদিনে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে জেলা ছাত্রদলের কমিটিও।

 

গত ০৩ সেপ্টেম্বর বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কমিটি বিলুপ্তির তথ্য জানানো হয়।

 

অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে আহ্বায়ক ও ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু গাজীকে সদস্য সচিব করে ২০২২ সালে গঠিত হয় পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি।

 

কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার ঘটনায় দলটির স্থানীয় বঞ্চিত নেতা-কর্মীরা আনন্দ উল্লাস করছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে- কেন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করতে হলো।

 

দলটির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, জুলাই বিপ্লবের আগে এই কমিটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মাঠে খুব একটা সক্রিয় ছিলো না। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সদর্পে মাঠে নামেন কমিটির শীর্ষ নেতারা।

 

বিভিন্ন জেলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পদ বাণিজ্য, আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যবসা রক্ষার যে অভিযোগ উঠেছে; তা থেকে বাদ যাননি পিরোজপুরের বিলুপ্ত এই কমিটিও শীর্ষ নেতা আলমগীর হোসেন ও লাভলু গাজী।

 

আওয়ামী লীগ আমলে পায়ে হেঁটে চলা কিছু নেতা রাতারাতি বাড়ি-গাড়ি, ফ্ল্যাট আর বিপুল ভূসম্পত্তির মালিক বনে যান। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ওঠে বেপরোয়া সন্ত্রাসের অভিযোগও।

 

লাভলু গাজীর দুর্নীতি নিয়ে মাঝে মাঝে সংবাদ প্রচার হলেও ধূর্ত আলমগীর ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

 

দলটির একাধিক নেতাকর্মী জানান, ৫ আগস্টের পর রাতারাতি আলমগীর পিরোজপুর জেলা বিএনপিকে নিজস্ব খেয়াল খুশি মত পরিচালনা করা শুরু করেন।

 

একাধিক নেতা-কর্মীর দাবি, আলমগীর হোসেন অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদেরও কমিটিতে জায়গা করে দিয়েছেন।

 

তারা জানান, ৫ আগস্ট এর পর আওয়ামী লীগের পলাতক একাধিক ঠিকাদারের কাজ নিজেদের মধ্যে ভাগ বটোরা করে নেন এই দু’জন। এছাড়া পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণেরও অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্টের আগে যে নেতা পায়ে হেঁটে শহরে ঘুরতেন হঠাৎ করে তারা দামি গাড়ি ছাড়া চলতেই পারেন না।

 

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের আলোচিত পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মিরাজ মহারাজের কাছ থেকে দামি গাড়ি ও নগদ অর্থ উপহার পেয়েছেন এবং সার্বক্ষণিক তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন আলমগীর।

 

তিনি কিভাবে এবং কার গাড়ীতে চড়েন ও দু’হাতে খরচ করে নির্বাচনের মাঠ তৈরির কাজ করছিলেন, তার তদন্ত হওয়া দরকার।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির জেলা কমিটির একজন সিনিয়র নেতার অভিযোগ, জেলায় কমিটি গঠনের নামে প্রতিটি  উপজেলা , থানা , ইউনিয়ন, ওয়ার্ড কমিটি থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীড় কর্মীদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়। বঞ্চিত করা হয় ত্যাগী নেতাদের।

 

পিরোজপুরে বালু মহল, বাস স্ট্যান্ড বা জেলার যত স্থান থেকে ইজারার নামে চাঁদা তোলা হয় তার সিংহভাগ আলমগীর হোসেনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। স্থানীয় সরকার, গণপূর্ত, সড়ক ও জনপথ থেকে রাস্তার আটোরিক্সা সব জায়গা থেকেই তিনি কমিশন তুলছেন।

 

শুধু তাই নয় আওয়ামী লীগের মতো আলমগীরও পিরোজপুর জেলা বিএনপিতে পরিবারতন্ত্র কায়েম করছেন। তার ছোট ভাই আহসানুল কবিরকে বানিয়াছেন জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক । এখনো যার ব্যবসায়িক পার্টনার নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পথধারী লোকেরা।

 

এসব অভিযোগ আর পাল্টা-পাল্টি সংঘাতে জেলার মঠবাড়িয়া ও স্বরুপকাঠী উপজেলায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। পছন্দমতো কমিটি করতে ভান্ডারিয়ায় মঞ্চে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রেখে এক গ্রুপ করে উপজেলা সম্মেলন। মঠবাড়িয়ায় ক্ষোভে-রাগে বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেন দেড় শতাধিক নেতাকর্মী।

 

চলমান এসব ঘটনার শেষ পর্যায়ে মঙ্গলবার রাতে পিরোজপুর সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনস্থলে হামলা চালায় জেলা ছাত্রদলের নেতারা। মঞ্চে থাকা সিনিয়র নেতাদের লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি সিল দেওয়া ব্যালট পেপার ছিনতাই করে নেয় তারা।

 

ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতা-কর্মীরা বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগনের মন জয় করার যে সংগ্রাম বিএনপি’র কর্মীরা করছিল তার কর্মকান্ডে তা ব্যহত হয়। এবং পিরোজপুর জেলায় আজ বিএনপির যে ইমেজ সংকট তৈরি হয়েছে তার দায় বর্তায় লাভলু গাজী ও অধ্যক্ষ আলমগীরের ওপর।

 

জানতে চাইলে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই পার হয়ে গিয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে সকল উপজেলা কমিটি গঠণ করা যায়নি। এছাড়া কমিটি নিয়ে কিছু অভিযোগ থাকতে পারে; যে কারনে এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

 

নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি অভিযোগ প্রমান করতে পারেন; তাহলে কেবল দল নয়; দেশও ছেড়ে দিবো।