ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রাজশাহীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার

পিআর পদ্ধতি সংবিধানে নেই, সংবিধানের বাইরে যেতে পারি না

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / 137

রাজশাহীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, আনুপাতিক পদ্ধতি বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন সংবিধানে নেই। সংবিধানের বাইরে আমরা যেতে পারি না। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলছে। আমি এর মধ্যে ঢুকতে চাই না। যদি আইন পরিবর্তন হয়, তখন সেটা হবে।

শনিবার সকাল ১০টায় রাজশাহী আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন হবে কি হবে না; এ নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের ভেতরে আমরা যেতে চাই না। প্রধান উপদেষ্টার চিঠি পাওয়ার পর থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানের আগে যাতে নির্বাচন হয়, তার জোর প্রস্তুতি চলছে।

তিনি আরও বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ হয়ে গেছে। ভোটের জন্য কেনাকাটা এগিয়ে চলছে। সীমানা নির্ধারণের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী রোববার থেকে নির্বাচনী সীমানা নিয়ে শুনানি শুরু হবে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুনানি চলবে।

এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, স্ট্রাইকিং ফোর্স নয়, সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমরা কাজ করছি। সেনাবাহিনী যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হয় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপাররা আগে নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন, এবার তাদের পদায়নের চিন্তা নেই।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, ভোট ঘনিয়ে এলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। যারা বাক্স দখলের স্বপ্নে বিভোর, তাদের স্বপ্নভঙ্গ হবে। যারা অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ভোটে জিততে চাইবেন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ আছে। ভোটকেন্দ্র দখলের ইতিহাস ভুলে যেতে হবে। আমরা কঠোর অবস্থানে থাকব। কোনো ভোটকেন্দ্র দখল হলে পুরো কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হবে।

বিগত সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করা নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের অধীনে ৫ হাজার ৭০০ কর্মকর্তা রয়েছে। তারা আগেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এদের কোথায় পাঠাবো? তবে যারা স্বপ্রণোদিত হয়ে বিগত নির্বাচনে অনিয়ম করেছিলেন, সেই কর্মকর্তাদের রাখা হবে না।

বর্তমান সরকার চাপ দিলে পদত্যাগ করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার নির্বাচন নিয়ে আমাকে এখন পর্যন্ত কোনো চাপ দেয়নি। যদি চাপ দেয়, আমি পদত্যাগ করব, চেয়ারে থাকব না।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, লীগের এই মুহূর্তে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নেই। তাদের বিচার চলছে। বিচার চলাকালীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। দেখা যাক বিচারে কী হয়।

পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভায় রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্বাচন বিষয়ে নানা দিকনির্দেশনা দেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রাজশাহীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার

পিআর পদ্ধতি সংবিধানে নেই, সংবিধানের বাইরে যেতে পারি না

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, আনুপাতিক পদ্ধতি বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন সংবিধানে নেই। সংবিধানের বাইরে আমরা যেতে পারি না। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলছে। আমি এর মধ্যে ঢুকতে চাই না। যদি আইন পরিবর্তন হয়, তখন সেটা হবে।

শনিবার সকাল ১০টায় রাজশাহী আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন হবে কি হবে না; এ নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের ভেতরে আমরা যেতে চাই না। প্রধান উপদেষ্টার চিঠি পাওয়ার পর থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানের আগে যাতে নির্বাচন হয়, তার জোর প্রস্তুতি চলছে।

তিনি আরও বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ হয়ে গেছে। ভোটের জন্য কেনাকাটা এগিয়ে চলছে। সীমানা নির্ধারণের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী রোববার থেকে নির্বাচনী সীমানা নিয়ে শুনানি শুরু হবে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুনানি চলবে।

এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, স্ট্রাইকিং ফোর্স নয়, সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমরা কাজ করছি। সেনাবাহিনী যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হয় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপাররা আগে নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন, এবার তাদের পদায়নের চিন্তা নেই।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, ভোট ঘনিয়ে এলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। যারা বাক্স দখলের স্বপ্নে বিভোর, তাদের স্বপ্নভঙ্গ হবে। যারা অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ভোটে জিততে চাইবেন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ আছে। ভোটকেন্দ্র দখলের ইতিহাস ভুলে যেতে হবে। আমরা কঠোর অবস্থানে থাকব। কোনো ভোটকেন্দ্র দখল হলে পুরো কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হবে।

বিগত সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করা নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের অধীনে ৫ হাজার ৭০০ কর্মকর্তা রয়েছে। তারা আগেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এদের কোথায় পাঠাবো? তবে যারা স্বপ্রণোদিত হয়ে বিগত নির্বাচনে অনিয়ম করেছিলেন, সেই কর্মকর্তাদের রাখা হবে না।

বর্তমান সরকার চাপ দিলে পদত্যাগ করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার নির্বাচন নিয়ে আমাকে এখন পর্যন্ত কোনো চাপ দেয়নি। যদি চাপ দেয়, আমি পদত্যাগ করব, চেয়ারে থাকব না।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, লীগের এই মুহূর্তে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নেই। তাদের বিচার চলছে। বিচার চলাকালীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। দেখা যাক বিচারে কী হয়।

পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভায় রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্বাচন বিষয়ে নানা দিকনির্দেশনা দেন।