ঢাকা ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সিলেটে পীর সাহেব চরমোনাই

পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে পেশিশক্তির ব্যবহার থাকবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৫:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
  • / 238

সিলেটে পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, “সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে দেশে কালো টাকা এবং পেশিশক্তির প্রভাব কমে আসবে।”

মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেলে সিলেট নগরীর কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সুলেমান হলে ‘ইসলামপন্থীদের ঐক্য ভাবনা: উলামায়ে কেরাম ও তাওহীদি জনতার করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই আজ পিআর পদ্ধতির পক্ষে। কারণ এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনীতির পথ তৈরি করে। এই পদ্ধতিতে এককভাবে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না, ফলে সব দলের প্রতিনিধিত্বে সরকার গঠন সম্ভব হবে। তখন দেশ চলবে যৌথভাবে, অরাজকতা বা দমন-পীড়নের সুযোগ থাকবে না।”

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “আমরা আজ নতুন করে এই দাবি তুলছি না। ২০১৩ সালের মহাসমাবেশ থেকেই আমরা পিআর পদ্ধতির কথা বলে আসছি। আমাদের এ দাবি দেশ ও ইসলামপ্রিয় জনগণের কল্যাণের জন্য। আমরা চাই রাজনৈতিক ভারসাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক শাসন।”

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে একটি ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের সংবিধানকে খেলনার মতো ব্যবহার করেছে। সংবিধান তারা ব্যবহার করেছে নিজেদের ইচ্ছেমতো, জনগণের চাওয়া বা দুর্দশা তাদের গায়ে লাগেনি। বরং তারা বারবার প্রতিবেশী দেশ ভারতকে খুশি করার চেষ্টা করেছে, জনগণকে নয়।”

উলামায়ে কেরামের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মুসলমানদের অনৈক্যই আজ দুর্বলতার প্রধান কারণ। ইসলামপ্রিয় জনগণকে কোণঠাসা করার চক্রান্ত চলছে। এখন সময় ঐক্যবদ্ধ হবার। অতীতে উপমহাদেশের ওলামায়ে কেরাম একত্র হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, আজও সেই ঐক্য অপরিহার্য।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা রেদওয়ানুল হক চৌধুরী রাজু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর হাফিজ মাওলানা মজদুদ্দীন আহমদ, পীর সাহেব বরাইগ্রামী মাওলানা নুরুল ইসলাম,
উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রেজাউল করিম আবরার, জামেয়া গলমুকাপন মাদ্রাসার শাইখুল হাদিস মাওলানা রুহুল আমিন,
বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মাঈনুদ্দীন খান তানভীর, জামেয়া কাজিরবাজার মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা সাইদ আহমদ, মহানগর সভাপতি ডা. রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, শিক্ষা সচিব মাওলানা মাশুক আহমদ সালামী
এবং খেলাফত মজলিস সিলেট জেলার সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুতাছিম বিল্লাহ জালালী প্রমুখ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সিলেটে পীর সাহেব চরমোনাই

পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে পেশিশক্তির ব্যবহার থাকবে না

সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৫:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, “সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে দেশে কালো টাকা এবং পেশিশক্তির প্রভাব কমে আসবে।”

মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেলে সিলেট নগরীর কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সুলেমান হলে ‘ইসলামপন্থীদের ঐক্য ভাবনা: উলামায়ে কেরাম ও তাওহীদি জনতার করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই আজ পিআর পদ্ধতির পক্ষে। কারণ এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনীতির পথ তৈরি করে। এই পদ্ধতিতে এককভাবে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না, ফলে সব দলের প্রতিনিধিত্বে সরকার গঠন সম্ভব হবে। তখন দেশ চলবে যৌথভাবে, অরাজকতা বা দমন-পীড়নের সুযোগ থাকবে না।”

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “আমরা আজ নতুন করে এই দাবি তুলছি না। ২০১৩ সালের মহাসমাবেশ থেকেই আমরা পিআর পদ্ধতির কথা বলে আসছি। আমাদের এ দাবি দেশ ও ইসলামপ্রিয় জনগণের কল্যাণের জন্য। আমরা চাই রাজনৈতিক ভারসাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক শাসন।”

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে একটি ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের সংবিধানকে খেলনার মতো ব্যবহার করেছে। সংবিধান তারা ব্যবহার করেছে নিজেদের ইচ্ছেমতো, জনগণের চাওয়া বা দুর্দশা তাদের গায়ে লাগেনি। বরং তারা বারবার প্রতিবেশী দেশ ভারতকে খুশি করার চেষ্টা করেছে, জনগণকে নয়।”

উলামায়ে কেরামের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মুসলমানদের অনৈক্যই আজ দুর্বলতার প্রধান কারণ। ইসলামপ্রিয় জনগণকে কোণঠাসা করার চক্রান্ত চলছে। এখন সময় ঐক্যবদ্ধ হবার। অতীতে উপমহাদেশের ওলামায়ে কেরাম একত্র হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, আজও সেই ঐক্য অপরিহার্য।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা রেদওয়ানুল হক চৌধুরী রাজু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর হাফিজ মাওলানা মজদুদ্দীন আহমদ, পীর সাহেব বরাইগ্রামী মাওলানা নুরুল ইসলাম,
উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রেজাউল করিম আবরার, জামেয়া গলমুকাপন মাদ্রাসার শাইখুল হাদিস মাওলানা রুহুল আমিন,
বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মাঈনুদ্দীন খান তানভীর, জামেয়া কাজিরবাজার মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা সাইদ আহমদ, মহানগর সভাপতি ডা. রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, শিক্ষা সচিব মাওলানা মাশুক আহমদ সালামী
এবং খেলাফত মজলিস সিলেট জেলার সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুতাছিম বিল্লাহ জালালী প্রমুখ।