পাকিস্তানে যুদ্ধ করতে গিয়ে দুই বাংলাদেশি নিহত
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
- / 113
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর হয়ে লড়াই করতে গিয়ে দুই বাংলাদেশি তরুণ নিহত হয়েছেন। দেশটির যৌথ নিরাপত্তা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে তারা মারা যান বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (সিটিটিসি) ইউনিট।
নিহতদের মধ্যে একজনের নাম রতন ঢালী (২৯), যিনি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাসিন্দা। অন্যজনের নাম ফয়সাল হোসেন (২২), তবে তার ঠিকানা এখনো জানা যায়নি।
সিটিটিসি-র বিশেষ পুলিশ সুপার রওশন সাদিয়া আফরোজ বলেন, “আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে রতন ঢালী টিটিপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পাকিস্তানে যুদ্ধ করেছেন।”
বিদেশযাত্রা ও যোগদানের তথ্য
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রতন ও ফয়সাল ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে তারা অবৈধ পথে আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তানে পৌঁছে টিটিপির সঙ্গে যুক্ত হন।
ঢাকার খিলগাঁওয়ে একটি মেডিকেল সেন্টারে কাজ করতেন রতন ঢালী। তার বাবা আনোয়ার ঢালী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক এবং মা সেলিনা বেগম গৃহিণী। পরিবারের সঙ্গে রতনের শেষ যোগাযোগ হয় ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল রোজার ঈদে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ভারতে আছেন এবং শিগগিরই দুবাই যাবেন।
তার বাবা জানান, রতন গ্রামের বাড়ি থেকে সব কাগজপত্র নিয়ে গিয়েছিল, যা দুবাই যাওয়ার জন্য প্রয়োজন বলে জানায়। পরে আর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
রতনের শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণির পরেই বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তিনি মোবাইল সার্ভিসিং শেখা শুরু করেন এবং পরে ঢাকায় কাজ করতে যান।
টিটিপির অভিযানে নিহতদের শনাক্ত
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে যৌথ বাহিনীর অভিযানে টিটিপির অন্তত ৫৪ জন যোদ্ধা নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের সাভারের আহমেদ জুবায়েরও ছিলেন। পরে অনুসন্ধানে রতন ঢালী ও ফয়সাল হোসেনের নামও শনাক্ত করা হয়।
স্থানীয়দের বক্তব্যে জানা গেছে, রতন ও ফয়সালের জীবনের শুরু ছিল সাধারণ, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা বিদেশে কাজের সুযোগের কথা বলে পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
গোয়েন্দা সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সিটিটিসি সূত্র জানায়, রতন ও ফয়সাল টিটিপির হয়ে শুধু যুদ্ধই করেননি, বরং বাংলাদেশি তরুণদের প্ররোচিত করে বিদেশে চরমপন্থী সংগঠনে যোগদানের পথও সহজ করার চেষ্টা করছিলেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, তরুণদের বিদেশে চরমপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে সচেতনতা ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।




































