ঢাকা ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের কাছে শিক্ষাবৃত্তি চাইলো বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:১২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 98

পাকিস্তানের কাছে শিক্ষা বৃত্তি চাইলেন ধর্ম উপদেষ্টা

পাকিস্তানে সরকারি আমন্ত্রণে সফররত ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন দেশটির খ্যাতনামা মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ইসলামাবাদে পাকিস্তানের ধর্ম বিষয়ক ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি মন্ত্রণালয়ের ফেডারেল মন্ত্রী সরদার মুহাম্মদ ইউসুফের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাব রাখেন। জবাবে পাকিস্তানের ধর্মমন্ত্রী এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়ার আশ্বাস দেন।

 

বৈঠকে উভয়পক্ষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি পারস্পরিক ধর্মীয় ডেলিগেশন বিনিময়ে সম্মত হয়।

 

ধর্ম উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির একটি মডেল, যেখানে মুসলমানসহ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের ধর্মমন্ত্রী জানান, তাদের দেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৭ শতাংশ মানুষ হজ পালন করেন এবং বাকি ৩৩ শতাংশ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে অংশ নেন।

এ সময় পাকিস্তানের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. সৈয়দ আতা উর রেহমান, উপদেষ্টার একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস কাউন্সিলর মুহাম্মদ তৈয়ব আলী উপস্থিত ছিলেন।

সফরকালে ড. খালিদ হোসেন ইসলামাবাদে সিরাতুন্নবী (সা.) সম্মেলনের ৫০তম সুবর্ণজয়ন্তীতে অংশ নেবেন। এছাড়া তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মিঞা মোহাম্মদ শেহবাজ শরিফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

 

বৈঠকে উভয়পক্ষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদার করতে পারস্পরিক ধর্মীয় ডেলিগেশন প্রেরণের বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করে।

 

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বেশ জোড়ালো করা হয়েছে। এর আগে দীর্ঘ বছর পাকিস্তানের সাথে ব্যাবসা-বাণিজ্য নিয়ে দূরত্ব ছিলো।

দীর্ঘ ১৫ বছরের বিরতির পর গত এপ্রিলে বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সাংস্কৃতিক ও যোগাযোগ ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পারিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করে উভয় দেশ। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একযোগে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা-মুক্ত প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়—বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে ৫০,০০০ টন চাল কিনে এবং প্রথম পণ্যবাহী জাহাজ পাঠানো হয়।

একই বছর, করাচি ও চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি শিপিং সেবা চালু হয় এবং বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু করার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়।

গত আগস্টে পাক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনুসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের জন্য ‘পাকিস্তান–বাংলাদেশ নলেজ করিডোর’ ঘোষণা করা হয়। এতে ৫০০টি স্কলারশিপ অন্তর্ভুক্ত, তার মধ্যে ২৫% চিকিৎসা বিষয়ে সংরক্ষিত থাকবে। ১০০ জন বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তার প্রশিক্ষণও পাকিস্তানে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে বাংলাদেশের প্রগতিশীল বড় একটি অংশ এখন পর্যন্ত ১৯৭১ সালের কর্মকান্ডের জন্য পাকিস্তানের বিরোধীতা করছেন। তারা পাকিস্তান সরকারের সাথে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোয় বর্তমান ইউনূস প্রশাসনের সমালোচনাও করেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পাকিস্তানের কাছে শিক্ষাবৃত্তি চাইলো বাংলাদেশ

সর্বশেষ আপডেট ০৭:১২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পাকিস্তানে সরকারি আমন্ত্রণে সফররত ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন দেশটির খ্যাতনামা মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ইসলামাবাদে পাকিস্তানের ধর্ম বিষয়ক ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি মন্ত্রণালয়ের ফেডারেল মন্ত্রী সরদার মুহাম্মদ ইউসুফের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাব রাখেন। জবাবে পাকিস্তানের ধর্মমন্ত্রী এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়ার আশ্বাস দেন।

 

বৈঠকে উভয়পক্ষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি পারস্পরিক ধর্মীয় ডেলিগেশন বিনিময়ে সম্মত হয়।

 

ধর্ম উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির একটি মডেল, যেখানে মুসলমানসহ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের ধর্মমন্ত্রী জানান, তাদের দেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৭ শতাংশ মানুষ হজ পালন করেন এবং বাকি ৩৩ শতাংশ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে অংশ নেন।

এ সময় পাকিস্তানের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. সৈয়দ আতা উর রেহমান, উপদেষ্টার একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস কাউন্সিলর মুহাম্মদ তৈয়ব আলী উপস্থিত ছিলেন।

সফরকালে ড. খালিদ হোসেন ইসলামাবাদে সিরাতুন্নবী (সা.) সম্মেলনের ৫০তম সুবর্ণজয়ন্তীতে অংশ নেবেন। এছাড়া তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মিঞা মোহাম্মদ শেহবাজ শরিফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

 

বৈঠকে উভয়পক্ষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদার করতে পারস্পরিক ধর্মীয় ডেলিগেশন প্রেরণের বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করে।

 

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বেশ জোড়ালো করা হয়েছে। এর আগে দীর্ঘ বছর পাকিস্তানের সাথে ব্যাবসা-বাণিজ্য নিয়ে দূরত্ব ছিলো।

দীর্ঘ ১৫ বছরের বিরতির পর গত এপ্রিলে বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সাংস্কৃতিক ও যোগাযোগ ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পারিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করে উভয় দেশ। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একযোগে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা-মুক্ত প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়—বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে ৫০,০০০ টন চাল কিনে এবং প্রথম পণ্যবাহী জাহাজ পাঠানো হয়।

একই বছর, করাচি ও চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি শিপিং সেবা চালু হয় এবং বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু করার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়।

গত আগস্টে পাক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনুসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের জন্য ‘পাকিস্তান–বাংলাদেশ নলেজ করিডোর’ ঘোষণা করা হয়। এতে ৫০০টি স্কলারশিপ অন্তর্ভুক্ত, তার মধ্যে ২৫% চিকিৎসা বিষয়ে সংরক্ষিত থাকবে। ১০০ জন বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তার প্রশিক্ষণও পাকিস্তানে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে বাংলাদেশের প্রগতিশীল বড় একটি অংশ এখন পর্যন্ত ১৯৭১ সালের কর্মকান্ডের জন্য পাকিস্তানের বিরোধীতা করছেন। তারা পাকিস্তান সরকারের সাথে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোয় বর্তমান ইউনূস প্রশাসনের সমালোচনাও করেন।