এমএসএফ’র প্রতিবেদন
পাঁচ মাসে মব হামলায় নিহত ৫২, আহত ২৮৯
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৪০:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
- / 191
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে দেশে ১৪১টি মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫২ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২৮৯ জন। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ২১টি ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ৩৮ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে নিহত হন ৮ জন, আহত ৩৪। মার্চে সবচেয়ে বেশি ৩৯টি ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ৯৬ জন আহত হন। এপ্রিল মাসে ২৭টি ঘটনায় প্রাণ হারান ১০ জন এবং আহত হন ৫৩ জন। আর মে মাসে ৩৬টি ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ৬৮ জন আহত হন।
সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায়, দিনে-দুপুরে এক আবাসিক হোটেল দখলের চেষ্টা, ধানমন্ডিতে একটি বাড়িতে ‘স্বৈরাচার দোসর’ দাবি করে প্রবেশের চেষ্টাসহ বেশ কিছু ঘটনা জনতার নামে সৃষ্ট ‘মব’ সন্ত্রাসের নজির হিসেবে উঠে এসেছে। ২২ জুন উত্তরায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদাকে জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও মব নৈরাজ্যের আলোচনায় যুক্ত হয়েছে।
সরকার পক্ষ থেকে বারবার মব সন্ত্রাস প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা এলেও মাঠপর্যায়ে তা প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এ ধরনের পরিকল্পিত ঘটনাগুলো ঠেকাতে চাপে রয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর বলেন, “যারা এসব মব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অপরাধ বিশ্লেষক ও সমাজ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেই আশঙ্কা কাটেনি বলেই তারা অনেক সময় যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারছে না। সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, “পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত এসব হামলা কঠোরভাবে মোকাবিলা না করলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হবে। বিবৃতির মাধ্যমে কিছু হবে না, কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
এদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ একাধিক মানবাধিকার সংস্থা মব সন্ত্রাসকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে—এক্ষেত্রে সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
































