পর পর ভূমিকম্প, ভয়ংকর ঝুঁকিতে ১৫ এলাকা
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৬:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
- / 241
রাজধানী ঢাকায় ভবনগুলো একটির গায়ে আরেকটি লেগে আছে। বড় ভূমিকম্পে এ শহরে খোলা জায়গায় নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ নেই। একইভাবে ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার কাজেও হতাহতদের উদ্ধারে বেশ বেগ পেতে হবে। ঢাকার কমবেশি বেশির ভাগ এলাকাই ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তবে এর মধ্যে ১৫টি এলাকা ভয়ংকর ঝুঁকিতে আছে।
বিজ্ঞানভিত্তিক বিখ্যাত গবেষণাধর্মী প্ল্যাটফর্ম সায়েন্স ডাইরেক্টে প্রকাশিত ‘এন এসেসমেন্ট অব ফিজিক্যাল এসপেক্টস ফর সিসমিক রেসপন্স ক্যাপাসিটি ইন ঢাকা বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় ঢাকার যে ১৫ এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো হলো- সবুজবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, কল্যাণপুর, গাবতলী, উত্তরা, সূত্রাপুর, শ্যামপুর, মানিকদী, মোহাম্মদপুর, পল্লবী ও খিলগাঁও।
ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড না মানা, পুরোনো জরাজীর্ণ বিল্ডিং, অতিরিক্ত মানুষের বাস, একটির সঙ্গে লাগানো আরেকটি ভবন, এলাকায় বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থের গোডাউন, ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব, পর্যাপ্ত খোলা স্থানের অভাব, হাসপাতাল না থাকা এবং ভূমিকম্পের পরে সহজে উদ্ধারকাজ করতে না পারার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
গবেষণাটি বলছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তৈরি করা ভবনগুলোর নির্মাণসামগ্রী ঢাকা দক্ষিণ সিটির নির্মিত ভবনগুলোর চেয়ে মজবুত। ঢাকার মোট ৩২টি এলাকার ওপর এ জরিপ চালানো হয়। এগুলো হলো উত্তরা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, পল্লবী, মানিকদী, মিরপুর, খিলক্ষেত, কল্যাণপুর ও গাবতলী, কাফরুল ও ইব্রাহিমপুর, গুলশান, মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর, মহাখালী, বাড্ডা, তেজগাঁও, রামপুরা, ধানমন্ডি, মগবাজার, খিলগাঁও, হাজারিবাগ, নিউমার্কেট, আজিমপুর, শাহবাগ, রমনা, পল্টন, মতিঝিল, সবুজবাগ, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, বংশাল, যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর ও শ্যামপুর।
এর মধ্যে ঢাকার দক্ষিণ অংশের কামরাঙ্গীরচর, হাজারিবাগ এবং সবুজবাগ এ এলাকাগুলো বেশ পুরোনো। এসব এলাকার রাস্তাঘাট বেশ সংকীর্ণ, ভবনগুলোও বেশ পুরোনো। ঘনবসতিও বেশি। ভূমিকম্পে এসব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতিও বেশি হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রম চালাতেও এসব এলাকায় হিমশিম খেতে হবে।
নগর-পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেছেন, ঢাকার কোন এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ সেখানে দুটি বিষয় কাজ করে। যেমন, ভবনগুলো কোন এলাকায় অবস্থিত সেখানকার মাটির ধরন, আর যে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে তা নিয়ম মেনে কতটা নিরাপদে তৈরি করা হয়েছে তার ওপর।
































