ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পর্যটন নগরী বান্দরবানে পর্যটকদের হিড়িক

আকাশ মারমা মংসিং, বান্দরবান
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
  • / 1001

ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটন নগরী বান্দরবানে পর্যটকদের হিড়িক পড়েছে। প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রায় হাজারো পর্যটক সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠেছে। খালি নাই হোটেল-মোটেল ও পাহাড়ের ছুটে চলা চাঁদের গাড়ি (থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রা)। একস্থান থেকে অন্যস্থানে আঁকাবাঁকা মেঠোপথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দুর- দুরান্ত থেকে ছুটে আসা পর্যটকেরা। এতে আনন্দের অনুভূতি দেখা গেছে পর্যটকদের।

বান্দরবানে পাহাড়ের কোল ঘেষে নীলাচল, মেঘলা,নীলগিরি, দেবতাখুম, প্রান্তিলেকসহ রয়েছে অসংখ্য পর্যটন স্পট। কোথাও শহর থেকে হাতের নাগালে আবার কোন কোন স্পট পাহাড়ে বেয়ে ছুটে যেতে হয় সেই চিম্বুক পাহাড়ে। আঁকাবাঁকা মেঠোপথ ধরে সড়কের পাশে দেখা মিলবে আদিবাসীদের ছোট্ট ছোট্ট গ্রাম ও দূর পাহাড়ের গড়ে উঠা ম্রোদের মাচাং ঘর। এই যেন প্রাকৃতিক নিজের হাতের আকাঁনো চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে পাহাড়ী জনপদকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নীলাচল কিংবা মেঘলা অথবা দেবতাখুমে হাজারো পর্যটকদের ভীড়। কেউ এসেছেন পরিবার পরিজন নিয়ে আবার কেউ এসেছেন বন্ধু বান্ধব নিয়ে। হোটেল গুলোতে প্রায় শতভাগ বুকিং। চাদের গাড়ি ষ্টেশনে নিজেদের পছন্দ স্থানে ছুটে যেতে ভীড় করছেন পর্যটকেরা। কেউ কেউ গাড়ি না পেয়ে মাহিন্দ্রা নিয়ে ছুটছেন নিজেদের পছন্দের গন্তব্য স্থানে। ফলে ঈদের টানা ছুটিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পাহাড় কণ্যা খ্যাত পার্বত্য জেলা বান্দরবানে।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা সৈয়দ, হাসিব ও আনিকা বলেন, এবার ঈদের টানা ছুটি পেয়েছি বলে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এসেছি। পাহাড় যে এত সুন্দর সেটি কখনো যানতাম। যান্ত্রিক শহরকে ছেড়ে পাহাড়ে প্রকৃতি আবাহাওয়া দেখে আমরা খুব আনন্দিত।

বান্দরবান-চিম্বুক সড়কের শৈলপ্রপাতের কোমরতাঁতের কাপড় বিক্রেতা লালসাং বম বলেন,পবিত্র রমজান মাসে পর্যটকের আগমন কম ছিল। আজ থেকে প্রচুর বিক্রি বেড়েছে। টানা এই কয়েকদিনে আরও বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন।

মাইক্রোবাস ও জীপ গাড়ি লাইনম্যান কামাল বলেন, ঈদের প্রথম দিন চেয়ে তৃতীয় দিনে পর্যটনকদের আনাগোনা দ্বিগুন বেড়েছে। ষ্টেশন থেকে প্রায় ৩শত চাদের গাড়ি পর্যটকদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে গেছে।

জেলা হোটেল-রিসোর্ট ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঈদের টানা ছুটিতে ৫ তারিখ পর্যন্ত ১০০ ভাগ বুকিং হয়েছে। হোটেল-মোটেল পর্যটকদের ভরপুর। গতবারে চেয়ে এবার কয়েক হাজার পর্যটক বান্দরবানে আগমন ঘটেছে।

জেলা পর্যটন পুলিশের পরিদর্শক সৈকত কুমার রায় বলেছেন, পর্যটন জেলা হিসেবে পরিচিত বান্দরবান পর্যটকসেবায় প্রস্তুত রয়েছে। ভ্রমণে এসে কোনো পর্যটকের যাতে কোনো ধরণের সমস্যা না হয়, সে জন্য প্রতিটি পর্যটন স্পটে আইনশৃংখলা বাহিনী রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পর্যটন নগরী বান্দরবানে পর্যটকদের হিড়িক

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫

ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটন নগরী বান্দরবানে পর্যটকদের হিড়িক পড়েছে। প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রায় হাজারো পর্যটক সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠেছে। খালি নাই হোটেল-মোটেল ও পাহাড়ের ছুটে চলা চাঁদের গাড়ি (থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রা)। একস্থান থেকে অন্যস্থানে আঁকাবাঁকা মেঠোপথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দুর- দুরান্ত থেকে ছুটে আসা পর্যটকেরা। এতে আনন্দের অনুভূতি দেখা গেছে পর্যটকদের।

বান্দরবানে পাহাড়ের কোল ঘেষে নীলাচল, মেঘলা,নীলগিরি, দেবতাখুম, প্রান্তিলেকসহ রয়েছে অসংখ্য পর্যটন স্পট। কোথাও শহর থেকে হাতের নাগালে আবার কোন কোন স্পট পাহাড়ে বেয়ে ছুটে যেতে হয় সেই চিম্বুক পাহাড়ে। আঁকাবাঁকা মেঠোপথ ধরে সড়কের পাশে দেখা মিলবে আদিবাসীদের ছোট্ট ছোট্ট গ্রাম ও দূর পাহাড়ের গড়ে উঠা ম্রোদের মাচাং ঘর। এই যেন প্রাকৃতিক নিজের হাতের আকাঁনো চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে পাহাড়ী জনপদকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নীলাচল কিংবা মেঘলা অথবা দেবতাখুমে হাজারো পর্যটকদের ভীড়। কেউ এসেছেন পরিবার পরিজন নিয়ে আবার কেউ এসেছেন বন্ধু বান্ধব নিয়ে। হোটেল গুলোতে প্রায় শতভাগ বুকিং। চাদের গাড়ি ষ্টেশনে নিজেদের পছন্দ স্থানে ছুটে যেতে ভীড় করছেন পর্যটকেরা। কেউ কেউ গাড়ি না পেয়ে মাহিন্দ্রা নিয়ে ছুটছেন নিজেদের পছন্দের গন্তব্য স্থানে। ফলে ঈদের টানা ছুটিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পাহাড় কণ্যা খ্যাত পার্বত্য জেলা বান্দরবানে।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা সৈয়দ, হাসিব ও আনিকা বলেন, এবার ঈদের টানা ছুটি পেয়েছি বলে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এসেছি। পাহাড় যে এত সুন্দর সেটি কখনো যানতাম। যান্ত্রিক শহরকে ছেড়ে পাহাড়ে প্রকৃতি আবাহাওয়া দেখে আমরা খুব আনন্দিত।

বান্দরবান-চিম্বুক সড়কের শৈলপ্রপাতের কোমরতাঁতের কাপড় বিক্রেতা লালসাং বম বলেন,পবিত্র রমজান মাসে পর্যটকের আগমন কম ছিল। আজ থেকে প্রচুর বিক্রি বেড়েছে। টানা এই কয়েকদিনে আরও বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন।

মাইক্রোবাস ও জীপ গাড়ি লাইনম্যান কামাল বলেন, ঈদের প্রথম দিন চেয়ে তৃতীয় দিনে পর্যটনকদের আনাগোনা দ্বিগুন বেড়েছে। ষ্টেশন থেকে প্রায় ৩শত চাদের গাড়ি পর্যটকদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে গেছে।

জেলা হোটেল-রিসোর্ট ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঈদের টানা ছুটিতে ৫ তারিখ পর্যন্ত ১০০ ভাগ বুকিং হয়েছে। হোটেল-মোটেল পর্যটকদের ভরপুর। গতবারে চেয়ে এবার কয়েক হাজার পর্যটক বান্দরবানে আগমন ঘটেছে।

জেলা পর্যটন পুলিশের পরিদর্শক সৈকত কুমার রায় বলেছেন, পর্যটন জেলা হিসেবে পরিচিত বান্দরবান পর্যটকসেবায় প্রস্তুত রয়েছে। ভ্রমণে এসে কোনো পর্যটকের যাতে কোনো ধরণের সমস্যা না হয়, সে জন্য প্রতিটি পর্যটন স্পটে আইনশৃংখলা বাহিনী রয়েছে।