পর্যটকের ভিড় বান্দরবানে
- সর্বশেষ আপডেট ০১:১২:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫
- / 545
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। আর এই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে শহরের সব বিনোদন কেন্দ্রে ছুটছে ভ্রমণপিপাসুরা। সবুজ পাহাড়, ঝর্ণা ও প্রকৃতিক সৌন্দর্যের রানী পার্বত্য জেলা বান্দরবানে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। এবারও টানা ঈদের ছুটিতে হাজারো পর্যটক ভিড় জমাচ্ছে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে। পাহাড়ঘেরা সবুজ প্রকৃতি ও পাহাড়ের মেঘের মনভোলানো দৃশ্যপট দেখতে বান্দরবানের নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে শতাধিক পর্যটকের পদচারণা মুখর হয়ে উঠেছে।
যান্ত্রিক শহর থেকে খানিকটা পেরিয়ে থানচি সড়কের নীলগিরি, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক ভিউ, মিলনছড়ি, ডাবল হ্যান্ড ও টাইটানিক ভিউসহ সেসব স্থানে সকাল থেকেই পর্যটকদের আগমন লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা আনন্দ ভাগাভাগি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্মরণীয় মুহূর্তগুলোকে স্মৃতিবন্দি করতে পাহাড়ের চূড়ায় ক্যামেরাবন্দি হচ্ছেন অনেকে। একই সঙ্গে পেপে, কলা ও আমসহ পাহাড়ে উৎপাদিত ফল তৃষ্ণা মেটাতে কেউ সঙ্গে নিচ্ছেন, কেউ সেখানেই খাচ্ছেন।
শহরের নাগালে পড়ন্ত বিকেলে সময় কাটাতে নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিলেকসহ পাহাড়ঘেরা এলাকায় বৃষ্টিতে ভেজা মেঘ আর পাহাড়ের মনভোলানো দৃশ্যপট দেখতেও দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অনেকেই। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে পর্যটকরা চাঁদের গাড়িতে করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে। এবার ঈদের টানা ছুটিতে সবগুলো দর্শনীয় স্থান ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টানা ছুটিতে পর্যটকদের জন্য ২০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। হোটেলগুলো কোথাও ১০০% আবার কোথাও ৮০% বুকিং হয়ে গেছে। গেল রমজানের ঈদের চেয়ে এবার টানা ছুটির ফলে পর্যটকের আগমন পূর্বের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, পাহাড়ের পথে ছুটে চলা চাঁদের গাড়িগুলো প্রতিদিন দেড়শ থেকে দুইশ মতো স্টেশন ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। ফলে, চাঁদের গাড়ি মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও চাহিদা বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে নীলগিরিতে বেড়াতে এসেছেন সৈয়দ আমিন, শোভনসহ ৭ জনের একটি দল। তারা জানান, নীলগিরি আসার পথে কোথাও ছায়া, কোথাও রোদ—এমন বৈচিত্র্যময় দৃশ্য দেখে এসেছি। আর পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে হেলিপ্যাডে উঠে পুরো পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। বান্দরবান না এলে বুঝতাম না প্রকৃতিতে ভরা এমন সুন্দর একটি জায়গা আছে।
চাঁদের গাড়ি লাইনম্যান কামাল বলেন, সকাল থেকেই নীলগিরিসহ বিভিন্ন স্থানে শতাধিক চাঁদের গাড়ি স্টেশন ছেড়ে গেছে। আশা করছি, এবার ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের কাছে চাঁদের গাড়ির চাহিদা আরও বাড়বে।
জেলা হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন বলেন, বান্দরবান জেলা শহরের হোটেল, মোটেল ও অবকাশযাপন কেন্দ্রগুলোর ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। জেলা শহরে একসঙ্গে প্রায় ছয় হাজার পর্যটকের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। আর এবার ঈদে ২০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
বান্দরবান রিজিয়নের টুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, টানা ঈদের ছুটিতে পাহাড়কন্যা বান্দরবানে পর্যটকদের আগমন ঘটেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে সাদা পোশাকে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও টহল টিম বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি, পর্যটকরা নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতে পারবেন।


































