পর্তুগালের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার দিবস পালিত
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 76
১ ডিসেম্বর, পর্তুগাল জুড়ে উদযাপিত হয়েছে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার দিবস। ১৬৪০ সালের এই দিনে পর্তুগিজ জনগণ স্পেনীয় শাসনের বিরুদ্ধে সফল বিদ্রোহ চালিয়ে তাদের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করে। এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করেই প্রতি বছর ডিসেম্বরের প্রথম দিন জাতীয়ভাবে এই দিবস পালন করা হয়।
রাজধানী লিসবনে সকাল থেকেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সামরিক কুচকাওয়াজ এবং রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এ দিনটির তাৎপর্য স্মরণ করে বক্তব্য দেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে নানা কর্মসূচি আয়োজন করে।
১৬৪০ সালের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন দেশটির অভিজাত শ্রেণি ও সামরিক কর্মকর্তারা। তাদের প্রচেষ্টায় স্পেনের তিন দশকের বেশি দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে এবং ব্রাগানজা রাজবংশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পর্তুগালের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এ আন্দোলন পর্তুগালের ইতিহাসে “Restoration of Independence” নামে পরিচিত।
পর্তুগালের স্বাধীনতা হরণ হয়েছিল ১৫৮০ সালে, যখন সিংহাসনের উত্তরাধিকার সংকটকে কাজে লাগিয়ে স্পেন দেশটির উপর দখল স্থাপন করে। প্রায় ৬০ বছর ধরে ‘Iberian Union’-এর অধীনে পর্তুগাল রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন হারায়। বাণিজ্য, উপনিবেশ ও সামরিক কর্মকাণ্ডে স্পেনের স্বার্থ অগ্রাধিকার পায়, ফলে পর্তুগালের নিজস্ব নীতিনির্ধারণ সীমিত হয়।
এই অবস্থার মধ্যে অভিজাত শ্রেণি, সামরিক নেতা ও সাধারণ জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায়। ১৬৪০ সালের বিপ্লব, যা Conjuração de 1640 নামে পরিচিত, মাত্র কয়েক ঘণ্টার অভিযানে লিসবনের রাজকীয় প্রশাসনকে অবরুদ্ধ করে। বিদ্রোহীরা স্পেনীয় শাসনের পতন ঘোষণা করে এবং ব্রাগানজা ডিউক জোয়াও চতুর্থকে (Dom João IV) পর্তুগালের নতুন রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
এই ঘটনার মাধ্যমে ব্রাগানজা রাজবংশের শুরু হয়, যা প্রায় তিন শতাব্দী ধরে পর্তুগালের শাসন পরিচালনা করে এবং দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করে। স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার দিবস আজও পর্তুগালিরা দেশপ্রেম ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে উদযাপন করে।





































