নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায়
‘পরিবেশ আদালত আইন’ সংশোধনের আহ্বান
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
- / 394
নাগরিক অধিকার ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে ‘পরিবেশ আদালত আইন’ ও ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন’ সংশোধনের আহবান জানানো হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ আদালত আইনে নাগরিকদের সরাসরি মামলা করার কোনো সুযোগ নেই, আর পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক জরিমানা আরোপের ক্ষমতা নেই। এর ফলে নাগরিকরা পরিবেশ রক্ষায় মামলা করতে পারছে না, এবং অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। দেশের ১৭ কোটি মানুষের জন্য মাত্র দুটি পরিবেশ আদালত রয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণের কাজকে অনেকাংশে সীমিত করেছে।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), সেন্টার ফর ল এন্ড পলিসি এফেয়ার্স, পাবলিক হেলথ লইয়ার্স নেটওয়ার্ক, বারসিক, ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি), খিলগাও আবাসিক এলাকা পরিবেশ রক্ষা কমিটি (কেপিআরসি), ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম-নাসফ, এবং আর্থ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন আজ (১৩ অক্টোবর ২০২৫) এ বিষয়ে সম্মিলিত বিবৃতিতে আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিবেশ আদালত আইনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হল নাগরিকদের সরাসরি মামলা দায়েরের সুযোগ না থাকা। এ কারণে, বাংলাদেশে পরিবেশ রক্ষার জন্য যে পরিমাণ রীট হয়েছে, তার তুলনায় আদালতে মামলা করা অনেক কম হয়েছে। পরিবেশ দূষণের ফলে দেশে মানুষের রোগবালাই ও মৃত্যুর হার বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সরাসরি মামলা করার অধিকার না থাকা একটি বড় সমস্যা, যা নাগরিক অধিকার হরণের সাথে জড়িত।
আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় জনগণ ও পরিবেশ কর্মীদের অংশগ্রহণ না থাকায় আইনের কার্যকারিতা সীমিত হয়েছে। পরিবেশ আইন সংশোধনের মাধ্যমে টেকসই পরিবেশ উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া, পরিবেশ অধিদপ্তরের ওপর মন্ত্রণালয় ও রাজনৈতিক প্রভাব অধিদপ্তরের স্বাধীন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে, যা আইনের কার্যকর বাস্তবায়নকে সীমিত করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পরিবেশ আদালতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিচারক ও পরিবেশ-বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিলে আদালতের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে। পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা এবং ঘটনাস্থলে জরিমানা আরোপের ক্ষমতা প্রদান করলে আইন আরও কার্যকর হবে। সংশোধিত আইনে আরও অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে:
পরিবেশ ফোর্স ইউনিট স্থাপন ও আনসার বাহিনীকে ফোর্স হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা
অভিযোগ নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক করা
পরিবেশ আদালতে মামলা দায়েরের বিধান স্পষ্ট করা
ক্ষতিপূরণ ও শাস্তির পাশাপাশি তদন্ত চলাকালে অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব স্থগিত বা ইউটিলিটি সার্ভিস বন্ধ করার ক্ষমতা প্রদান
পরিবেশদূষণকারীর লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের ক্ষমতা প্রদান
অতিরিক্ত সুপারিশের মধ্যে রয়েছে নাগরিকদের আইনের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা, পরিবেশ অধিদপ্তরকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে শক্তিশালী করা, সরকারী প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের স্বার্থ সংঘাত প্রতিরোধে কোড অব কন্ডাক্ট তৈরি করা।
এই সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কার্যকর হবে এবং নাগরিকদের পরিবেশ রক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।





































