ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পরবর্তী বৈঠক মস্কোতে, চুক্তি অজানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:১০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / 92

পরবর্তী বৈঠক মস্কোতে, চুক্তি অজানা

কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বহুল আলোচিত আলাস্কা বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠকের পর উভয় নেতাই আলাস্কা ছেড়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্কোরেজ শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে শুক্রবার প্রায় তিন ঘণ্টা দীর্ঘ এই বৈঠক শেষে পুতিনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। পরে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও তারা এখনো লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেননি।

তবে তিনি এটিও বলেছেন, পরবর্তীতে এ নিয়ে অগ্রগতি অর্জনের জন্য খুব ভালো সুযোগ রয়েছে। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হোক তা তিনিও আন্তরিকভাবে চান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধের জন্য এই সংঘাতের ‘মূল কারণগুলোও’ নিরসন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতাই বক্তব্য দিয়েছেন, তবে সাংবাদিকদের কাছ থেকে কোনো প্রশ্ন নেননি।

বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বৈঠক খুব ভালো হয়েছে।

বহুল আলোচিত এই বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন যে আলোচনা শেষে তিনি জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন।

এদিকে ক্রেমলিনও বৈঠকের প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ট্রাম্প ও পুতিনের বৈঠকটি খুবই ইতিবাচক ছিল।

বিবিসি উত্তর আমেরিকার সংবাদদাতারা ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের ফলাফল এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ বিশ্লেষণ করেছেন।

আলাস্কা ছেড়েছেন পুতিন ও ট্রাম্প

প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে আলাস্কা ছেড়েছেন উভয় নেতা। শুরুতেই পুতিন উড়োজাহাজে ওঠেন, পেছনে মিনিট দশেক পরে ট্রাম্পও তাঁর বিমানে ওঠেন। উড়োজাহাজ দুটি নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা দেয়।

স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে আলাস্কার এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন সামরিক ঘাঁটিতে পুতিনের বিমান অবতরণ করে। কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্পের বিমানও সেখানে আসে। বিমানবন্দরে পুতিনকে লালগালিচায় উষ্ণভাবে বরণ করেন ট্রাম্প। এরপর তারা বৈঠকস্থলে যান। সেখানে ঘণ্টা তিনেক বৈঠক হয়। বৈঠকে দুই দেশের পক্ষ থেকে আরও দুজন করে কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে ট্রাম্প ও পুতিন যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন। তারা বৈঠক ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তবে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি বা যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি নিয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসে নি।

তবে ট্রাম্প ও পুতিন শিগগির আবার দেখা করতে পারেন, এমন একটি ইঙ্গিতের মধ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষ হয়। পুতিন বলেন, পরবর্তী বৈঠক হতে পারে মস্কোয়।

‘আলাস্কা বৈঠক ট্রাম্পের খ্যাতি নষ্ট করলো’

বিবিসির উত্তর আমেরিকান সংবাদদাতা অ্যান্থনি জুরচার বিশ্লেষণ করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেকে ‘চুক্তির কারিগর’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু আলাস্কা বৈঠক তার সেই অবস্থান ক্ষুণ্ন করেছে।

কারণ প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত কোনো অর্জন হয়নি। জুরচারের মতে, সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প যা বলেন, তা সত্যিই কোনো অর্জনকে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে দেখানোর চেষ্টা।

বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে শত শত সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। কোনো প্রশ্ন নেননি উভয় নেতা। ট্রাম্পের বক্তব্যও অস্পষ্ট ছিল।

তবে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্র ও ইউক্রেন সাময়িকভাবে স্বস্তি পেতে পারে যে, বৈঠকে একপাক্ষিক কোনো ছাড় বা চুক্তি হয়নি যা ভবিষ্যতের আলোচনায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকে সমঝোতা হয়নি, শান্তি অনেক দূরে
পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকে সমঝোতা হয়নি, শান্তি অনেক দূরে

ইউক্রেনের স্বস্তি, কিন্তু ভবিষ্যতের ভয়

আঙ্কোরেজের বৈঠকে যে ধরনের ফলাফল আশা করা হয়েছিল, তা হয়নি। ফলে বিষয়টি সাময়িকভাবে কিয়েভকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে মনে করছেন বিবিসি রাশিয়ান সম্পাদক ভিটালি শেভচেঙ্কো।

ইউক্রেনের মানুষ জানতে পারবে যে, রাশিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কোনো চুক্তি ভেস্তে গেছে। যদিও বৈঠকে তা ঘোষণা করা হয়নি। তবে পুতিন সংবাদ সম্মেলনে “সংঘাতের মূল কারণ” উল্লেখ করেছেন এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন।

ক্রেমলিনের ভাষায় এর অর্থ দাঁড়ায়; ইউক্রেনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ধ্বংস করার বিষয়ে এখনও রাশিয়া দৃঢ়।

যে কারণে তিন বছর ধরে যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব হয়নি। আলাস্কার বৈঠকও পুতিনের মন পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়েছে। বৈঠকের পর অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রাখবে কী না, সেটিও অজানা।

গত কয়েক মাসে পশ্চিমা দেশগুলো নির্ধারিত সময়সীমা দিয়ে হুমকি দিলেও কোনো ফল হয়নি। ইউক্রেনের জনগণ মনে করছেন, ভবিষ্যতেও হামলা চলবে। তাই আলাস্কার বৈঠক থেকে কোনো বাস্তব অর্জন হয়নি। পরবর্তী বৈঠক মস্কোতে হবে, সেখানেই যুদ্ধ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পরবর্তী বৈঠক মস্কোতে, চুক্তি অজানা

সর্বশেষ আপডেট ০১:১০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বহুল আলোচিত আলাস্কা বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠকের পর উভয় নেতাই আলাস্কা ছেড়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্কোরেজ শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে শুক্রবার প্রায় তিন ঘণ্টা দীর্ঘ এই বৈঠক শেষে পুতিনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। পরে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও তারা এখনো লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেননি।

তবে তিনি এটিও বলেছেন, পরবর্তীতে এ নিয়ে অগ্রগতি অর্জনের জন্য খুব ভালো সুযোগ রয়েছে। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হোক তা তিনিও আন্তরিকভাবে চান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধের জন্য এই সংঘাতের ‘মূল কারণগুলোও’ নিরসন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতাই বক্তব্য দিয়েছেন, তবে সাংবাদিকদের কাছ থেকে কোনো প্রশ্ন নেননি।

বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বৈঠক খুব ভালো হয়েছে।

বহুল আলোচিত এই বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন যে আলোচনা শেষে তিনি জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন।

এদিকে ক্রেমলিনও বৈঠকের প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ট্রাম্প ও পুতিনের বৈঠকটি খুবই ইতিবাচক ছিল।

বিবিসি উত্তর আমেরিকার সংবাদদাতারা ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের ফলাফল এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ বিশ্লেষণ করেছেন।

আলাস্কা ছেড়েছেন পুতিন ও ট্রাম্প

প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে আলাস্কা ছেড়েছেন উভয় নেতা। শুরুতেই পুতিন উড়োজাহাজে ওঠেন, পেছনে মিনিট দশেক পরে ট্রাম্পও তাঁর বিমানে ওঠেন। উড়োজাহাজ দুটি নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা দেয়।

স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে আলাস্কার এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন সামরিক ঘাঁটিতে পুতিনের বিমান অবতরণ করে। কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্পের বিমানও সেখানে আসে। বিমানবন্দরে পুতিনকে লালগালিচায় উষ্ণভাবে বরণ করেন ট্রাম্প। এরপর তারা বৈঠকস্থলে যান। সেখানে ঘণ্টা তিনেক বৈঠক হয়। বৈঠকে দুই দেশের পক্ষ থেকে আরও দুজন করে কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে ট্রাম্প ও পুতিন যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন। তারা বৈঠক ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তবে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি বা যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি নিয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসে নি।

তবে ট্রাম্প ও পুতিন শিগগির আবার দেখা করতে পারেন, এমন একটি ইঙ্গিতের মধ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষ হয়। পুতিন বলেন, পরবর্তী বৈঠক হতে পারে মস্কোয়।

‘আলাস্কা বৈঠক ট্রাম্পের খ্যাতি নষ্ট করলো’

বিবিসির উত্তর আমেরিকান সংবাদদাতা অ্যান্থনি জুরচার বিশ্লেষণ করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেকে ‘চুক্তির কারিগর’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু আলাস্কা বৈঠক তার সেই অবস্থান ক্ষুণ্ন করেছে।

কারণ প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত কোনো অর্জন হয়নি। জুরচারের মতে, সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প যা বলেন, তা সত্যিই কোনো অর্জনকে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে দেখানোর চেষ্টা।

বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে শত শত সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। কোনো প্রশ্ন নেননি উভয় নেতা। ট্রাম্পের বক্তব্যও অস্পষ্ট ছিল।

তবে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্র ও ইউক্রেন সাময়িকভাবে স্বস্তি পেতে পারে যে, বৈঠকে একপাক্ষিক কোনো ছাড় বা চুক্তি হয়নি যা ভবিষ্যতের আলোচনায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকে সমঝোতা হয়নি, শান্তি অনেক দূরে
পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকে সমঝোতা হয়নি, শান্তি অনেক দূরে

ইউক্রেনের স্বস্তি, কিন্তু ভবিষ্যতের ভয়

আঙ্কোরেজের বৈঠকে যে ধরনের ফলাফল আশা করা হয়েছিল, তা হয়নি। ফলে বিষয়টি সাময়িকভাবে কিয়েভকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে মনে করছেন বিবিসি রাশিয়ান সম্পাদক ভিটালি শেভচেঙ্কো।

ইউক্রেনের মানুষ জানতে পারবে যে, রাশিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কোনো চুক্তি ভেস্তে গেছে। যদিও বৈঠকে তা ঘোষণা করা হয়নি। তবে পুতিন সংবাদ সম্মেলনে “সংঘাতের মূল কারণ” উল্লেখ করেছেন এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন।

ক্রেমলিনের ভাষায় এর অর্থ দাঁড়ায়; ইউক্রেনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ধ্বংস করার বিষয়ে এখনও রাশিয়া দৃঢ়।

যে কারণে তিন বছর ধরে যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব হয়নি। আলাস্কার বৈঠকও পুতিনের মন পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়েছে। বৈঠকের পর অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রাখবে কী না, সেটিও অজানা।

গত কয়েক মাসে পশ্চিমা দেশগুলো নির্ধারিত সময়সীমা দিয়ে হুমকি দিলেও কোনো ফল হয়নি। ইউক্রেনের জনগণ মনে করছেন, ভবিষ্যতেও হামলা চলবে। তাই আলাস্কার বৈঠক থেকে কোনো বাস্তব অর্জন হয়নি। পরবর্তী বৈঠক মস্কোতে হবে, সেখানেই যুদ্ধ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।