পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নেমেছে ১৩ ডিগ্রিতে
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
- / 90
উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে শীতের আমেজ বাড়ছে ধীরে ধীরে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশা কিছুটা কমলেও উত্তরের হিমেল বাতাসে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত জেলাজুড়ে শীত অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, সকাল ৯টার সময় তেঁতুলিয়ায় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০ থেকে ১১ কিলোমিটার। গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ কুয়াশা কম থাকলেও হিমেল বাতাস বইছে অবিরাম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো মিললেও দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য স্পষ্ট হচ্ছে।
বুধবার বিকেলে তেঁতুলিয়ায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ২৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ফলে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত শীতের অনুভূতি বেড়েছে।
সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, হালকা কুয়াশায় ঢাকা পরিবেশে রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কম। কেউ প্রয়োজনীয় কাজে বের হয়েছেন, কেউ শরীর গরম রাখতে হাঁটছেন।
সদর উপজেলার চাকলাহাট এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, “রাত থেকেই ঠান্ডা হাওয়া বইছে। সকালে মাঠে ধান কাটতে গিয়ে হাত জমে যাচ্ছিল, রোদ উঠলে একটু আরাম পাওয়া যায়।”
একই এলাকার শিক্ষার্থী লাকী আক্তার জানান, “সকালে স্কুলে যেতে কষ্ট হচ্ছিল, গরম কাপড় পরে বের হতে হয়েছে। কুয়াশা না থাকলেও বাতাসে বেশ ঠান্ডা।”
গলেহাহাটের দিনমজুর নুর ইসলাম বলেন, “কয়েক দিন ধরেই সকাল-বিকেল ঠান্ডা পড়ছে। রোদে কাজ করা ভালো লাগে, কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়।”
জেলার বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে মানুষ গরম কাপড় ব্যবহার শুরু করেছেন। হাটবাজারে কম্বল, সোয়েটার, মাফলারসহ শীতবস্ত্র বিক্রি বেড়েছে। শহরের দোকানপাটে গরম পানীয়র চাহিদাও দেখা গেছে।
তালমা এলাকার বাসিন্দা ফাহিম ইসলাম বলেন, “সকাল-বিকেলের ঠান্ডায় কাজ করা কষ্টকর, তবে এটাই পঞ্চগড়ের সৌন্দর্য—ঠান্ডা বাতাস আর কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল।”
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, উত্তর দিক থেকে হিমালয়ের ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করছে, যার প্রভাবে তাপমাত্রা ক্রমেই কমছে। আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমে যেতে পারে এবং মাসের শেষের দিকে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দিনে সূর্যের আলো থাকলেও রাতে তাপমাত্রা দ্রুত নেমে যাচ্ছে। এতে দিন ও রাতের পার্থক্য বাড়ায় সকাল ও সন্ধ্যায় ঠান্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে।

































