ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড়ে আমন ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, পঞ্চগড়
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
  • / 65

সংগৃহীত ছবি

চলতি মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় আমন ধানের উৎপাদন আশাতীত হয়েছে। কার্তিকের শেষ প্রহর ও অগ্রহায়ণের শুরুতেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ধান কাটার উৎসব। তবে শেষ সময়ের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে থাকায় কিছু এলাকায় ধান কাটতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

অগ্রহায়ণ শুরু হতেই মাঠে-ময়দানে নেমেছে কৃষি শ্রমিকদের ব্যস্ততা। ধান কাটা, রোদে শুকানো এবং ঘরে আনার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৌসুমি পুরুষ-নারী শ্রমিকসহ কৃষক পরিবারগুলো। ঘরে ধান পুঞ্জি (স্তূপ) করে রাখার পর শুরু হবে মাড়াইয়ের কাজ। আগে হাত বা গরু দিয়ে মাড়াইয়ের প্রচলন থাকলেও এখন অধিকাংশ কৃষকই নির্ভর করছেন যান্ত্রিক মাড়াই মেশিনের ওপর। ফলে বেড়েছে মেশিন মালিকদের কর্মব্যস্ততা, ওয়ার্কশপগুলোতে দিন-রাত চলছে মেশিন তৈরির ও মেরামতের কাজ।

পঞ্চগড় শহরের রওশনাবাগ জালাশি এলাকার একাধিক ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ঘুরে দেখা গেছে- ওয়েল্ডিং শ্রমিকরা রাত জেগে ধান মাড়াই মেশিন মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মেশিন মালিকরাও কাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকছেন। মেশিন প্রস্তুত হতেই তারা ছুটে যাচ্ছেন কৃষকের বাড়িতে। প্রতিদিন ২০-২৫ বিঘা জমির ধান মাড়াই করতে পারছেন তারা। প্রতি বিঘায় নেয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

গোফাপাড়া গ্রামের মাড়াই মেশিন মালিক বাবুল হোসেন বলেন, ‘এখনো অনেক কৃষকের ধান মাঠেই আছে। যাদের ধান ঘরে এসেছে তারা মাড়াই করাচ্ছেন। তবে ধান কম আসায় এখনো তেল ও শ্রমিক খরচ ওঠাতে কষ্ট হচ্ছে।’

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন জানান, জেলায় চলতি মৌসুমে এক লাখ ৩০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৪৬ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হলেও ভালো ফলন হওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এবার ধানের বাজারদরও বেশ ভালো। ফলে কৃষকরা গত বছরের তুলনায় বেশি লাভবান হবেন।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পঞ্চগড়ে আমন ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষক

সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

চলতি মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় আমন ধানের উৎপাদন আশাতীত হয়েছে। কার্তিকের শেষ প্রহর ও অগ্রহায়ণের শুরুতেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ধান কাটার উৎসব। তবে শেষ সময়ের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে থাকায় কিছু এলাকায় ধান কাটতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

অগ্রহায়ণ শুরু হতেই মাঠে-ময়দানে নেমেছে কৃষি শ্রমিকদের ব্যস্ততা। ধান কাটা, রোদে শুকানো এবং ঘরে আনার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৌসুমি পুরুষ-নারী শ্রমিকসহ কৃষক পরিবারগুলো। ঘরে ধান পুঞ্জি (স্তূপ) করে রাখার পর শুরু হবে মাড়াইয়ের কাজ। আগে হাত বা গরু দিয়ে মাড়াইয়ের প্রচলন থাকলেও এখন অধিকাংশ কৃষকই নির্ভর করছেন যান্ত্রিক মাড়াই মেশিনের ওপর। ফলে বেড়েছে মেশিন মালিকদের কর্মব্যস্ততা, ওয়ার্কশপগুলোতে দিন-রাত চলছে মেশিন তৈরির ও মেরামতের কাজ।

পঞ্চগড় শহরের রওশনাবাগ জালাশি এলাকার একাধিক ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ঘুরে দেখা গেছে- ওয়েল্ডিং শ্রমিকরা রাত জেগে ধান মাড়াই মেশিন মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মেশিন মালিকরাও কাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকছেন। মেশিন প্রস্তুত হতেই তারা ছুটে যাচ্ছেন কৃষকের বাড়িতে। প্রতিদিন ২০-২৫ বিঘা জমির ধান মাড়াই করতে পারছেন তারা। প্রতি বিঘায় নেয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

গোফাপাড়া গ্রামের মাড়াই মেশিন মালিক বাবুল হোসেন বলেন, ‘এখনো অনেক কৃষকের ধান মাঠেই আছে। যাদের ধান ঘরে এসেছে তারা মাড়াই করাচ্ছেন। তবে ধান কম আসায় এখনো তেল ও শ্রমিক খরচ ওঠাতে কষ্ট হচ্ছে।’

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন জানান, জেলায় চলতি মৌসুমে এক লাখ ৩০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৪৬ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হলেও ভালো ফলন হওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এবার ধানের বাজারদরও বেশ ভালো। ফলে কৃষকরা গত বছরের তুলনায় বেশি লাভবান হবেন।’