ঢাকা ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর স্বামী বিমান ছিনতাই করেছিলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৮:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 108

নেপালের প্রধানমন্ত্রী ও তার স্বামী

অভ্যুত্থানের পর নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। বিচারপতির দায়িত্ব পালনের সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য তিনি ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন। ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মাত্র এক বছর নেপালের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করলেও, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন।

গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করলে সুশীলা কার্কির নাম রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। এরপর থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, সুশীলা কার্কির স্বামী দুর্গা প্রসাদ সুবেদী জড়িত ছিলেন নেপালের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ১৯৭৩ সালের বিমান ছিনতাই-এর ঘটনায়। তিনি সেই সময় নেপালি কংগ্রেসের তরুণ নেতা হিসেবে রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অংশ ছিলেন।

সেই বছরের ১০ জুন, রয়্যাল নেপাল এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিরাটনগর থেকে কাঠমান্ডুর পথে যাচ্ছিল। বিমানে ছিলেন ভারতীয় অভিনেত্রী মালা সিনহাসহ মোট ১৯ জন যাত্রী। মাঝ আকাশে দুর্গা প্রসাদ পাইলটকে বাধ্য করেন বিমানকে ভারতের বিহার রাজ্যের ফোরবেসগঞ্জে অবতরণ করাতে।

বিমানটিতে তখন নেপালের সরকারি ব্যাংকের প্রায় ৪০ লাখ রুপি বহন করা হচ্ছিল। অর্থটি ছিনিয়ে নিয়ে গাড়ি ব্যবহার করে ভারতের দার্জিলিং হয়ে ফেরত পাঠানো হয় নেপালে। পুরো অপারেশনের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তৎকালীন কংগ্রেস নেতা গিরিজা প্রসাদ কৈরালা, যিনি পরে চারবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী হন।

পরে দুর্গা প্রসাদ এবং তার সহযোগীরা মুম্বাই থেকে গ্রেপ্তার হন এবং ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার আগে ছাড়া পান।

ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় সুশীলা কার্কির সঙ্গে পরিচয় হয় দুর্গা প্রসাদ সুবেদীর। পরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাদের একটি সন্তান রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর স্বামী বিমান ছিনতাই করেছিলেন

সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৮:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অভ্যুত্থানের পর নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। বিচারপতির দায়িত্ব পালনের সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য তিনি ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন। ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মাত্র এক বছর নেপালের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করলেও, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন।

গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করলে সুশীলা কার্কির নাম রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। এরপর থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, সুশীলা কার্কির স্বামী দুর্গা প্রসাদ সুবেদী জড়িত ছিলেন নেপালের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ১৯৭৩ সালের বিমান ছিনতাই-এর ঘটনায়। তিনি সেই সময় নেপালি কংগ্রেসের তরুণ নেতা হিসেবে রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অংশ ছিলেন।

সেই বছরের ১০ জুন, রয়্যাল নেপাল এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিরাটনগর থেকে কাঠমান্ডুর পথে যাচ্ছিল। বিমানে ছিলেন ভারতীয় অভিনেত্রী মালা সিনহাসহ মোট ১৯ জন যাত্রী। মাঝ আকাশে দুর্গা প্রসাদ পাইলটকে বাধ্য করেন বিমানকে ভারতের বিহার রাজ্যের ফোরবেসগঞ্জে অবতরণ করাতে।

বিমানটিতে তখন নেপালের সরকারি ব্যাংকের প্রায় ৪০ লাখ রুপি বহন করা হচ্ছিল। অর্থটি ছিনিয়ে নিয়ে গাড়ি ব্যবহার করে ভারতের দার্জিলিং হয়ে ফেরত পাঠানো হয় নেপালে। পুরো অপারেশনের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তৎকালীন কংগ্রেস নেতা গিরিজা প্রসাদ কৈরালা, যিনি পরে চারবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী হন।

পরে দুর্গা প্রসাদ এবং তার সহযোগীরা মুম্বাই থেকে গ্রেপ্তার হন এবং ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার আগে ছাড়া পান।

ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় সুশীলা কার্কির সঙ্গে পরিচয় হয় দুর্গা প্রসাদ সুবেদীর। পরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাদের একটি সন্তান রয়েছে।