ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নেটফ্লিক্স ছাড়ছে বার্বি, দর্শকদের মাঝে হতাশা

বিনোদন ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:১৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • / 334

নেটফ্লিক্স ছাড়ছে বার্বি, দর্শকদের মাঝে হতাশা

নারীবাদী থিম, সাহসী কাহিনি আর চোখ ধাঁধানো গোলাপি ভিজ্যুয়ালের মিশেলে ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা সিনেমা ‘বার্বি’ এবার নেটফ্লিক্স ছাড়ছে। বিশ্বব্যাপী ১.৪ বিলিয়ন ডলার আয় করা এ ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রটি ১৫ জুলাইয়ের পর আর নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে না—এই খবরে হতাশ বার্বি-ভক্তরা।

গ্রেটা গারউইগ পরিচালিত ও নোয়া বাউম্বাখের সহলেখনে নির্মিত এই সিনেমা নারীবাদ, পুরুষতন্ত্র এবং অস্তিত্ব সংকট নিয়ে গভীর গল্প তুলে ধরে, যার আবরণে ছিল ক্যান্ডি-রঙের কমেডি ও ফ্যান্টাসি।

‘বার্বি’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন মার্গোট রবি (বার্বি চরিত্রে) এবং রায়ান গসলিং (কেন চরিত্রে), যাঁদের সঙ্গে আরও ছিলেন আমেরিকা ফেরেরা, সিমু লিউ, কেট ম্যাককিনন, উইল ফেরেল, হেলেন মিরেনসহ অনেকে।

এই সিনেমা শুধু বাণিজ্যিকভাবে সফল নয়, বরং রোটেন টমেটোসে ৮৮ শতাংশ স্কোরসহ সমালোচকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস এটিকে ‘বছরের সেরা সিনেমা’ বলে অভিহিত করে।

যদিও নেটফ্লিক্সে এটি বেশ জনপ্রিয় ছিল, তবু চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় শেষে অনেক সিনেমা যেমন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ছাড়ে, ‘বার্বি’ও সেই নিয়মেই চলেছে। ওয়ার্নার ব্রাদার্সের মালিকানাধীন সিনেমাগুলোর স্ট্রিমিং অধিকার সাধারণত HBO Max-এর সঙ্গে প্রাধান্য ভিত্তিতে চুক্তিবদ্ধ থাকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বার্বির ওটিটি উপস্থিতি সীমিত মেয়াদে ছিল এবং এটি এখন নিজস্ব অথবা প্রাধান্যপ্রাপ্ত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ফিরে যেতে পারে, যেমন HBO Max (বর্তমানে Max)।

বার্বি কোনো শিশুতোষ কার্টুন নয়, বরং এটি এক রূপক কাহিনি, যেখানে মাতৃতান্ত্রিক বারবিল্যান্ড থেকে আসা এক ফ্যাশন ডল বাস্তব জগতে এসে নিজের অস্তিত্ব খুঁজতে শুরু করে।

এই ট্রান্সফরমেশনাল জার্নিতে বার্বি টের পায় সমাজের দ্বৈত মাপকাঠি, লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং আত্মসমালোচনার ভয়াবহতা।

গ্রেটা গারউইগ নারীর জীবনসংগ্রামকে তুলে ধরেছেন হাস্যরস, নাটকীয়তা ও দর্শনভিত্তিক উপস্থাপনায়।

‘বার্বি’ যে শুধু বিনোদনের জন্য নির্মিত, এমন নয়। বরং এটি নারীর ব্যক্তিসত্তা, পছন্দ এবং আত্মমর্যাদার বিষয়ে দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে।

গল্পে বার্বির চরিত্রের পাশাপাশি কেন-এরও রূপান্তর ঘটে। সম্পর্ক, ক্ষমতা ও নিজের আত্মপরিচয়—এই তিন স্তরে বার্বি ও কেনের পথচলা সিনেমাকে দর্শনীয় ও প্রাসঙ্গিক করে তোলে।

ম্যাটেলের বার্বি ডল এর আগেও বহু কার্টুন ও ছোট প্রযোজনায় দেখা গেছে। তবে গারউইগ ও বাউম্বাখ এই খেলনার চরিত্রকে সিনেমায় রূপ দিয়ে এক অভূতপূর্ব বৈপ্লবিকতা এনেছেন।

তাঁদের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় বার্বি শুধু একটি খেলনার গল্প নয়, বরং সমাজের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে—যেখানে লিঙ্গ রাজনীতি, আত্মবিশ্বাস ও বিকল্প জীবনের সম্ভাবনা একসঙ্গে ধরা দেয়।

যদিও নেটফ্লিক্স থেকে ১৫ জুলাই সিনেমাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু ‘বার্বি’-র প্রভাব এখনও অমলিন। এটি ভবিষ্যতে অন্য ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ফের আসবে—এমনটাই আশা দর্শকের।

আর যারা এখনো সিনেমাটি দেখেননি, তাদের জন্য এটিই শেষ সুযোগ—নেটফ্লিক্সে ১৪ জুলাইয়ের মধ্যেই দেখে নিতে হবে বার্বির গোলাপি দুনিয়া

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নেটফ্লিক্স ছাড়ছে বার্বি, দর্শকদের মাঝে হতাশা

সর্বশেষ আপডেট ০১:১৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

নারীবাদী থিম, সাহসী কাহিনি আর চোখ ধাঁধানো গোলাপি ভিজ্যুয়ালের মিশেলে ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা সিনেমা ‘বার্বি’ এবার নেটফ্লিক্স ছাড়ছে। বিশ্বব্যাপী ১.৪ বিলিয়ন ডলার আয় করা এ ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রটি ১৫ জুলাইয়ের পর আর নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে না—এই খবরে হতাশ বার্বি-ভক্তরা।

গ্রেটা গারউইগ পরিচালিত ও নোয়া বাউম্বাখের সহলেখনে নির্মিত এই সিনেমা নারীবাদ, পুরুষতন্ত্র এবং অস্তিত্ব সংকট নিয়ে গভীর গল্প তুলে ধরে, যার আবরণে ছিল ক্যান্ডি-রঙের কমেডি ও ফ্যান্টাসি।

‘বার্বি’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন মার্গোট রবি (বার্বি চরিত্রে) এবং রায়ান গসলিং (কেন চরিত্রে), যাঁদের সঙ্গে আরও ছিলেন আমেরিকা ফেরেরা, সিমু লিউ, কেট ম্যাককিনন, উইল ফেরেল, হেলেন মিরেনসহ অনেকে।

এই সিনেমা শুধু বাণিজ্যিকভাবে সফল নয়, বরং রোটেন টমেটোসে ৮৮ শতাংশ স্কোরসহ সমালোচকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস এটিকে ‘বছরের সেরা সিনেমা’ বলে অভিহিত করে।

যদিও নেটফ্লিক্সে এটি বেশ জনপ্রিয় ছিল, তবু চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় শেষে অনেক সিনেমা যেমন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ছাড়ে, ‘বার্বি’ও সেই নিয়মেই চলেছে। ওয়ার্নার ব্রাদার্সের মালিকানাধীন সিনেমাগুলোর স্ট্রিমিং অধিকার সাধারণত HBO Max-এর সঙ্গে প্রাধান্য ভিত্তিতে চুক্তিবদ্ধ থাকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বার্বির ওটিটি উপস্থিতি সীমিত মেয়াদে ছিল এবং এটি এখন নিজস্ব অথবা প্রাধান্যপ্রাপ্ত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ফিরে যেতে পারে, যেমন HBO Max (বর্তমানে Max)।

বার্বি কোনো শিশুতোষ কার্টুন নয়, বরং এটি এক রূপক কাহিনি, যেখানে মাতৃতান্ত্রিক বারবিল্যান্ড থেকে আসা এক ফ্যাশন ডল বাস্তব জগতে এসে নিজের অস্তিত্ব খুঁজতে শুরু করে।

এই ট্রান্সফরমেশনাল জার্নিতে বার্বি টের পায় সমাজের দ্বৈত মাপকাঠি, লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং আত্মসমালোচনার ভয়াবহতা।

গ্রেটা গারউইগ নারীর জীবনসংগ্রামকে তুলে ধরেছেন হাস্যরস, নাটকীয়তা ও দর্শনভিত্তিক উপস্থাপনায়।

‘বার্বি’ যে শুধু বিনোদনের জন্য নির্মিত, এমন নয়। বরং এটি নারীর ব্যক্তিসত্তা, পছন্দ এবং আত্মমর্যাদার বিষয়ে দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে।

গল্পে বার্বির চরিত্রের পাশাপাশি কেন-এরও রূপান্তর ঘটে। সম্পর্ক, ক্ষমতা ও নিজের আত্মপরিচয়—এই তিন স্তরে বার্বি ও কেনের পথচলা সিনেমাকে দর্শনীয় ও প্রাসঙ্গিক করে তোলে।

ম্যাটেলের বার্বি ডল এর আগেও বহু কার্টুন ও ছোট প্রযোজনায় দেখা গেছে। তবে গারউইগ ও বাউম্বাখ এই খেলনার চরিত্রকে সিনেমায় রূপ দিয়ে এক অভূতপূর্ব বৈপ্লবিকতা এনেছেন।

তাঁদের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় বার্বি শুধু একটি খেলনার গল্প নয়, বরং সমাজের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে—যেখানে লিঙ্গ রাজনীতি, আত্মবিশ্বাস ও বিকল্প জীবনের সম্ভাবনা একসঙ্গে ধরা দেয়।

যদিও নেটফ্লিক্স থেকে ১৫ জুলাই সিনেমাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু ‘বার্বি’-র প্রভাব এখনও অমলিন। এটি ভবিষ্যতে অন্য ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ফের আসবে—এমনটাই আশা দর্শকের।

আর যারা এখনো সিনেমাটি দেখেননি, তাদের জন্য এটিই শেষ সুযোগ—নেটফ্লিক্সে ১৪ জুলাইয়ের মধ্যেই দেখে নিতে হবে বার্বির গোলাপি দুনিয়া