কুয়াকাটায় নির্বিচারে কেটে নেওয়া হচ্ছে সংরক্ষিত বনের গাছ
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৩২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 211
কুয়াকাটার চর গঙ্গামতি এলাকার সংরক্ষিত বনের গাছ দিন-রাত নির্বিচারে কেটে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সরজমিন পরিদর্শনে এ তথ্য জানা গেছে।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা চর গঙ্গামতি এলাকায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বনখেকোরা। সংঘবদ্ধ একটি চক্র নিয়মিতভাবে বনাঞ্চলের বড় বড় গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে বনভূমি উজাড় হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বনাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে কেটে ফেলা গাছের অংশ, গুঁড়ি ও ডালপালা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই কাজের সঙ্গে সংঘবদ্ধ একটি চক্র জড়িত, যারা কখনো দিনের আলোতে, আবার কখনো রাতের অন্ধকারে নির্বিচারে গাছ কেটে পাচার করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল মিয়া বলেন, “সবাই তার প্রয়োজন অনুযায়ী গাছ কেটে নিচ্ছে। কেউ উপড়ে পড়া গাছ কেটে বিক্রি করছে, আবার কেউ সরাসরি বনের ভেতরে ঢুকে বড় বড় গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে আমরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।”
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা) এর আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু বলেন, “গঙ্গামতি এলাকার সংরক্ষিত বন ধ্বংস হলে শুধু গাছই নয়, উপকূলের প্রাকৃতিক ঢালও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় এই বন ঢেউয়ের আঘাত থেকে রক্ষা করে। তাই বন রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “বনখেকোরা প্রশাসনের দুর্বলতাকে সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে উপকূল ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।”
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, চর গঙ্গামতির বন উজাড় হলে উপকূল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে। গাছের শেকড় শুধু ভূমি ধরে রাখে না, বরং জলোচ্ছ্বাসের সময় প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা দেয়। নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে উপকূলীয় ভাঙন, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি বহুগুণে বাড়বে।
গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ঝড়ে ভেঙে পড়া বা মরে যাওয়া গাছ স্থানীয়রা অনেক সময় কেটে নেয়। তবে অবৈধভাবে গাছ কাটার বিষয়েও আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। খবর পেয়ে কিছু কাঠ জব্দ করা হয়েছে, তবে বাধা দিলে অভিযুক্তরা হুমকি দেয়।”
গাছ কাটার বিষয় স্বীকার করেছেন মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, “গাছ পাচারকারীদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বেশ কিছু কাঠ জব্দ করা হয়েছে এবং মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।”


































