নির্বাচনে পরাজয়, তবুও পদত্যাগে নারাজ জাপানের প্রধানমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৯:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
- / 184
জাপানে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোট বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তবুও প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না এবং তার মনোযোগ এখন বাণিজ্য আলোচনার দিকেই থাকবে।
এই নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং শরিক দল কোমেইতো মিলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। জাপানে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, বিশেষ করে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির কারণে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
এলডিপি নেতৃত্বাধীন জোটের এই পতনের ফলে উচ্চকক্ষে তাদের প্রভাব কমে যাবে। সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে জানায়, ২৪৮ আসনের উচ্চকক্ষে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে জোটের ৫০টি আসনের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু ফলাফল ঘোষণার আগেই নিশ্চিত হয়ে যায় তারা পেয়েছে মাত্র ৪৭টি আসন।
রোববারের নির্বাচনে উচ্চকক্ষের অর্ধেক আসনে ভোটগ্রহণ হয় এবং নির্বাচিত সদস্যরা ছয় বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল প্রধানমন্ত্রী ইশিবার জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং জনআস্থার অভাবকেই নির্দেশ করে। কান্দা ইউনিভার্সিটি অভ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জেফরি হল বলেন, অনেক রক্ষণশীল ভোটার মনে করেন, ইশিবার চীনের প্রতি নীতি কিংবা ইতিহাস সংক্রান্ত অবস্থান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের মতো কঠোর নয়। ফলে ডানপন্থি ভোটারদের একটি অংশ আরও চরমপন্থী দল সানসেইতো’র দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

সানসেইতো পার্টি সাম্প্রতিক সময়ে ইউটিউবের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করে এবং টিকা ও বৈশ্বিক অভিজাতদের নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে জাতীয়তাবাদী ও বিদেশি-বিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে সমর্থন বাড়িয়েছে।
বিদেশিদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেক জাপানি নাগরিক মনে করছেন, বিদেশিরা সুযোগ নিচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে ইশিবা সম্প্রতি একটি টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা দেন, যার উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি নাগরিকদের অপরাধ ও সামাজিক সুবিধা অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা।
এলডিপির ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, অতীতে উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো তিনজন প্রধানমন্ত্রীই দুই মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ইশিবার ওপর চাপ বাড়বে এবং ভবিষ্যতে দলীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
যদি নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে, তাহলে বিকল্প হিসেবে সামনে আসতে পারেন সানে তাকাইচি, সাবেক মন্ত্রী তাকাইউকি কোবায়াশি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কোইজুমির পুত্র শিনজিরো কোইজুমি।
যদিও ইশিবা এখনও পদত্যাগের ঘোষণা দেননি, তবে এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি জাপানে নেতৃত্ব সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্র-জাপান সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
































