নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থী ৮৯১, শতকোটির মালিক ২৭ : টিআইবি
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 8
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন মোট ১,৯৮১ জন প্রার্থী। নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এদের মধ্যে ৮৯১ জন প্রার্থী কোটিপতি। এর মধ্যেও আবার ২৭ জন প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ শতকোটি টাকার বেশি।
বৃহস্পতিবার (২২জানুয়ারী) ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। প্রতিবেদনের মূল তথ্য উপস্থাপন করেন সংস্থাটির কমিউনিকেশন ও আউটরিচ বিভাগের পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
টিআইবির তথ্যে বলা হয়, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের ১,৭৩২ জন প্রার্থী এবং ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সামগ্রিকভাবে প্রার্থীদের প্রায় এক-চতুর্থাংশের ঋণ বা দায় রয়েছে। মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৮,৮৬৮ কোটি টাকা, যার বড় অংশই ব্যাংকঋণ।
দলভিত্তিক হিসাবে ঋণগ্রস্ত প্রার্থীর হার সবচেয়ে বেশি বিএনপিতে। দলটির প্রায় ৫৯ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণের তথ্য রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৩৩ শতাংশ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ২৭ শতাংশ ঋণগ্রস্ত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রার্থীদের পেশাগত পরিচয়েও ব্যবসায়ীদের আধিপত্য স্পষ্ট। মোট প্রার্থীর প্রায় অর্ধেকের বেশি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। আইনজীবী ও শিক্ষক পেশার প্রার্থী যথাক্রমে প্রায় ১৩ এবং ১২ শতাংশ। তবে রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে পেশাগতভাবে পরিচয় দিয়েছেন এমন প্রার্থীর সংখ্যা দুই শতাংশেরও কম।
নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ এবারও সীমিত। আগের নির্বাচনের মতো এবারও মোট প্রার্থীর পাঁচ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবেও বড় অঙ্কের অর্থের প্রবাহ দেখা যাচ্ছে। সব দলের প্রার্থীদের ঘোষিত মোট ব্যয় প্রায় ৪৬৪ কোটি টাকা। গড়ে প্রতি প্রার্থী ব্যয় করেছেন প্রায় সাড়ে ২২ লাখ টাকা। দলভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে বিএনপি, এরপরেই রয়েছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।
সম্পদের বণ্টন বিশ্লেষণে টিআইবি আরও জানায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীদের তুলনায় তাঁদের স্বামী-স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের নামে বেশি সম্পদ পাওয়া গেছে। দালান, ফ্ল্যাট ও জমির ক্ষেত্রেও এমন বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছে।
আইনি পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে মোট ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা চলমান, যা মোট প্রার্থীর প্রায় ২৩ শতাংশ। অতীতে মামলা ছিল এমন প্রার্থীর সংখ্যা আরও বেশি, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
টিআইবির মতে, এসব তথ্য নির্বাচনে অর্থের প্রভাব, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। সংস্থাটি মনে করে, হলফনামার তথ্যের কার্যকর যাচাই এবং রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।






























