ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ড. বদিউল আলম মজুমদার

নির্বাচনে আ.লীগের অংশগ্রহণ আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / 125

ড. বদিউল আলম মজুমদার

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইনি প্রক্রিয়ায় হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না; এটা সরকারের সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন কমিশনের আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। আর আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, সেটি সময়ই প্রমাণ করবে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর এফডিসিতে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত এক ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। অন্তর্বর্তী সরকারও নির্বাচনের পথে এগুচ্ছে এবং আশা করা হচ্ছে ফেব্রুয়ারিতেই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হলে সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও সব অংশীজনকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

তিনি বিদ্যমান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার দিকেও ইঙ্গিত করে বলেন, এই কাঠামো সংস্কার ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। অতীতে শেখ হাসিনা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এলেও বিদ্যমান ব্যবস্থাই তাকে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাই ভবিষ্যতের নির্বাচন যাতে বিতর্কিত না হয়, সেজন্য নির্বাচনী ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, শুধু নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের দায়িত্বশীল ভূমিকাও জরুরি। কেন্দ্র দখল, ভোটার ও এজেন্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে হাজারো বডি ক্যামেরা ব্যবহার করেও গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজন করা যাবে না। এজন্য কমিশন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় ঘোষণা হলেও এখনো ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত হয়নি। সনাতন নাকি পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে ভোট হবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য নেই। এ অবস্থায় নির্বাচনের সময়মতো আয়োজন নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সময়মতো ভোট না হলে দেশ বড় সংকটে পড়তে পারে। তাই সব রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্র ও জাতির স্বার্থে সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হবে।

কিরণ সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর বিভেদ ও পাল্টাপাল্টি দোষারোপ বাড়লে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঘটতে পারে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী দলগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি হলে পরাজিত শক্তি অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে। তবে ১/১১ বা গৃহযুদ্ধের ভয় অমূলক। কারণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সব গণতান্ত্রিক শক্তিই এখন ঐক্যবদ্ধ।

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ অংশ নেয়। বিজয়ী হয় বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল।

বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক সাইদুর রহমান, সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন ও সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ড. বদিউল আলম মজুমদার

নির্বাচনে আ.লীগের অংশগ্রহণ আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইনি প্রক্রিয়ায় হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না; এটা সরকারের সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন কমিশনের আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। আর আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, সেটি সময়ই প্রমাণ করবে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর এফডিসিতে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত এক ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। অন্তর্বর্তী সরকারও নির্বাচনের পথে এগুচ্ছে এবং আশা করা হচ্ছে ফেব্রুয়ারিতেই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হলে সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও সব অংশীজনকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

তিনি বিদ্যমান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার দিকেও ইঙ্গিত করে বলেন, এই কাঠামো সংস্কার ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। অতীতে শেখ হাসিনা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এলেও বিদ্যমান ব্যবস্থাই তাকে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাই ভবিষ্যতের নির্বাচন যাতে বিতর্কিত না হয়, সেজন্য নির্বাচনী ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, শুধু নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের দায়িত্বশীল ভূমিকাও জরুরি। কেন্দ্র দখল, ভোটার ও এজেন্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে হাজারো বডি ক্যামেরা ব্যবহার করেও গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজন করা যাবে না। এজন্য কমিশন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় ঘোষণা হলেও এখনো ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত হয়নি। সনাতন নাকি পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে ভোট হবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য নেই। এ অবস্থায় নির্বাচনের সময়মতো আয়োজন নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সময়মতো ভোট না হলে দেশ বড় সংকটে পড়তে পারে। তাই সব রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্র ও জাতির স্বার্থে সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হবে।

কিরণ সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর বিভেদ ও পাল্টাপাল্টি দোষারোপ বাড়লে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঘটতে পারে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী দলগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি হলে পরাজিত শক্তি অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে। তবে ১/১১ বা গৃহযুদ্ধের ভয় অমূলক। কারণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সব গণতান্ত্রিক শক্তিই এখন ঐক্যবদ্ধ।

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ অংশ নেয়। বিজয়ী হয় বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল।

বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক সাইদুর রহমান, সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন ও সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।