নির্বাচনে অযোগ্য শেখ হাসিনা, বাদ পড়বেন ভোটার তালিকা থেকেও
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৪:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
- / 90
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলোচিত মামলায় পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা আজ। এ মামলায় আরও আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন অনুসারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে গেছেন। গত ৪ সেপ্টেম্বর এই আইনের সেকশন ২৩-এ এই বিধান যুক্ত করা হয় যে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বা বহাল থাকার অযোগ্য হবেন। একইভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় সরকার পরিষদ বা প্রতিষ্ঠানের সদস্য, কমিশনার, চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বা বহাল থাকার অযোগ্য হবেন।
নির্বাচন কর্মকর্তারাও বলছেন, ‘আইসিটি আইনে কারো সাজা হলে তিনি আজীবন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। ভোটার তালিকা থেকেও বাদ পড়বেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) -১৯৭২-এর ১২ অনুচ্ছেদে যেসব কারণে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে না তা বলা আছে। এই অনুচ্ছেদের (ণ) উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কেউ আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের অধীনে কোনো অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হলে তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ নির্বাচনের যোগ্যতা-অযোগ্যতা সম্পর্কে এই অনুচ্ছেদের (ঙ) উপ-অনুচ্ছেদে একই কথা বলা হয়েছে।
আরপিওর সর্বশেষ সংশোধনীতে বলা হয়েছে, আদালত কর্তৃক পলাতক ঘোষিত হলেও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে না।
ভোটার তালিকা আইন, ১৩(ঘ) ধারায় ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাওয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে, কেউ আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের অধীনে কোনো অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হলে ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ পড়বে। আবার ভোটার না হলে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না।
এছাড়াও নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে কেউ অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে থাকলে তার মুক্তিলাভের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অতিবাহিত না হলে। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদেও এটি উল্লেখ আছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২(ঘ) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ৭৩, ৭৪, ৭৮, ৭৯, ৮০, ৮১, ৮২, ৮৩, ৮৪ ও ৮৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নির্বাচনী অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে থাকলে তার মুক্তিলাভের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অতিবাহিত না হলে।































