ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিএনপির উদ্বেগ

নির্বাচনের আগে সরকারের ‘নিরপেক্ষতা’ প্রশ্নের মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:১৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • / 76

বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের ‘নিরপেক্ষতা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটি মনে করছে, কিছু উপদেষ্টার বক্তব্য, তৎপরতা ও কার্যক্রম সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করছে। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় কিছু উপদেষ্টা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন এবং একটি বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করছেন। এছাড়া ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল প্রস্তুত করায়ও বিশেষ দলের লোকদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

বিএনপির নেতারা মনে করেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সরকারের উচিত নিজেদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। তাই তারা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশে ফিরলে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং নির্বাচন কমিশনে প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে উদ্বেগ জানাবেন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আহ্বান জানাবেন।

বৈঠকে বলা হয়, চলতি অক্টোবরের মধ্যে ‘ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল’ প্রস্তুত রাখতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। এই প্যানেলে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বিমা থেকে কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করতে হবে। বিএনপি নেতারা মনে করেন, বর্তমান প্রস্তাবিত প্যানেলের অধিকাংশ কর্মকর্তা ছাত্রজীবনে ছাত্রশিবির এবং বর্তমানে জামায়াতপন্থি, যা নির্বাচনে পক্ষপাত সৃষ্টি করতে পারে। তাই তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে সতর্কতা ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি করেছেন।

এছাড়া প্রশাসনিক রদবদল ও পুনর্বিন্যাসেও বিশেষ দলের লোকদের প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিএনপি নেতারা মনে করেন, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা দৃশ্যমানভাবে নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে আলোচনা হয়। বিএনপি সনদে স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত। ১৭ অক্টোবর একটি প্রতিনিধিদল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে, যেখানে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সনদে স্বাক্ষর করবেন।

নির্বাচন সামনে রেখে দলটির গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নেতারা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টার কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তাই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে সরকারের উচিত নিজেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো সাজানো, যাতে প্রশাসনিক বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো সংশয় না থাকে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিএনপির উদ্বেগ

নির্বাচনের আগে সরকারের ‘নিরপেক্ষতা’ প্রশ্নের মুখে

সর্বশেষ আপডেট ১১:১৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের ‘নিরপেক্ষতা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটি মনে করছে, কিছু উপদেষ্টার বক্তব্য, তৎপরতা ও কার্যক্রম সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করছে। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় কিছু উপদেষ্টা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন এবং একটি বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করছেন। এছাড়া ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল প্রস্তুত করায়ও বিশেষ দলের লোকদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

বিএনপির নেতারা মনে করেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সরকারের উচিত নিজেদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। তাই তারা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশে ফিরলে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং নির্বাচন কমিশনে প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে উদ্বেগ জানাবেন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আহ্বান জানাবেন।

বৈঠকে বলা হয়, চলতি অক্টোবরের মধ্যে ‘ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল’ প্রস্তুত রাখতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। এই প্যানেলে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বিমা থেকে কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করতে হবে। বিএনপি নেতারা মনে করেন, বর্তমান প্রস্তাবিত প্যানেলের অধিকাংশ কর্মকর্তা ছাত্রজীবনে ছাত্রশিবির এবং বর্তমানে জামায়াতপন্থি, যা নির্বাচনে পক্ষপাত সৃষ্টি করতে পারে। তাই তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে সতর্কতা ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি করেছেন।

এছাড়া প্রশাসনিক রদবদল ও পুনর্বিন্যাসেও বিশেষ দলের লোকদের প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিএনপি নেতারা মনে করেন, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা দৃশ্যমানভাবে নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে আলোচনা হয়। বিএনপি সনদে স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত। ১৭ অক্টোবর একটি প্রতিনিধিদল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে, যেখানে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সনদে স্বাক্ষর করবেন।

নির্বাচন সামনে রেখে দলটির গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নেতারা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টার কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তাই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে সরকারের উচিত নিজেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো সাজানো, যাতে প্রশাসনিক বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো সংশয় না থাকে।