ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে ভোক্তার নাভিশ্বাস

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৪:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 77

নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে ভোক্তার নাভিশ্বাস

রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। মাছ, মাংস, ডিম, ডাল থেকে শুরু করে সব ধরনের সবজির দাম এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলছে না; খরচ কমিয়েও স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা সবচেয়ে বেশি শোচনীয়।

গত দুই মাসে দেশি পেঁয়াজ, ডাল, ডিম, মাছ ও শাকসবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫–৮০ টাকায়, ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১৩৫–১৪৫ টাকায়, দেশি মসুর ডাল কেজি ১৬০–১৮০ টাকায়। করলা, বরবটি, ঢেঁরস, পটোল, শসা, ঝিঙা, দুন্দল, চিচিঙাসহ অধিকাংশ সবজি কেজি ৮০–১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। নতুন শিমের দাম ২২০–২৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৮০–২০০ টাকা। সবচেয়ে সস্তা সবজি পেঁপেও কেজি ৩৫–৪০ টাকা। আলু পাওয়া যাচ্ছে ২৫–৩০ টাকায়।

এই পরিস্থিতিতে ক্রেতারা দিশেহারা। মহাখালীর এক ক্রেতা হেলাল উদ্দিন বলেন, “বাজারে সরকারের কোনো নজরদারি নেই। মাছ-মাংস কিনতে গেলেই কয়েক হাজার টাকা লাগে।” সীমিত আয়ের মানুষ সংসার চালাতে এখন ঋণের ওপর নির্ভর করছে। মিরপুরের আরেক ক্রেতা আক্তার হোসেন বলেন, “আগে দাম বেড়ালে ডিম আর সবজির ওপর ভরসা করা যেত। এখন সব কিছুর দামই আকাশচুম্বী।”

সবজি (ফাইল ফটো)
সবজি (ফাইল ফটো)

বিক্রেতারাও দাবি করছেন, টানা বৃষ্টিতে কৃষিজ উৎপাদনে ক্ষতি হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। বাড্ডার এক সবজি বিক্রেতা হারুন জানান, পাইকারি বাজারেই দ্বিগুণ দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরাতেও দাম বাড়ছে। এতে বিক্রি কমে গেছে, লোকসান গুনছেন তারাও।

তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এবং তদারকির অভাবও দায়ী। ‘ভোক্তা’ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক মো. খলিলুর রহমান সজল বলেন, “ভোক্তারা এখন অস্বাভাবিক দামের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। অথচ সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিয়মিত বাজারে নজরদারি করলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না।” তিনি উদাহরণ দেন, নরসিংদীতে ৬০–৬৫ টাকার বেগুন ঢাকায় এসে বিক্রি হচ্ছে ১৫০–১৮০ টাকায়, যা সরবরাহ শৃঙ্খলের অনিয়মের ফল।

অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি মনে করেন, খাদ্য খাতের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। তার মতে, পাইকারি পর্যায়ের একচেটিয়া ব্যবসা ভাঙা, খাদ্য আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া এবং কৃষিপণ্যের সরাসরি বিপণন জোরদার করা জরুরি। তা না হলে সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপণ্য নাগালের বাইরে থেকে যাবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে ভোক্তার নাভিশ্বাস

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৪:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। মাছ, মাংস, ডিম, ডাল থেকে শুরু করে সব ধরনের সবজির দাম এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলছে না; খরচ কমিয়েও স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা সবচেয়ে বেশি শোচনীয়।

গত দুই মাসে দেশি পেঁয়াজ, ডাল, ডিম, মাছ ও শাকসবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫–৮০ টাকায়, ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১৩৫–১৪৫ টাকায়, দেশি মসুর ডাল কেজি ১৬০–১৮০ টাকায়। করলা, বরবটি, ঢেঁরস, পটোল, শসা, ঝিঙা, দুন্দল, চিচিঙাসহ অধিকাংশ সবজি কেজি ৮০–১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। নতুন শিমের দাম ২২০–২৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৮০–২০০ টাকা। সবচেয়ে সস্তা সবজি পেঁপেও কেজি ৩৫–৪০ টাকা। আলু পাওয়া যাচ্ছে ২৫–৩০ টাকায়।

এই পরিস্থিতিতে ক্রেতারা দিশেহারা। মহাখালীর এক ক্রেতা হেলাল উদ্দিন বলেন, “বাজারে সরকারের কোনো নজরদারি নেই। মাছ-মাংস কিনতে গেলেই কয়েক হাজার টাকা লাগে।” সীমিত আয়ের মানুষ সংসার চালাতে এখন ঋণের ওপর নির্ভর করছে। মিরপুরের আরেক ক্রেতা আক্তার হোসেন বলেন, “আগে দাম বেড়ালে ডিম আর সবজির ওপর ভরসা করা যেত। এখন সব কিছুর দামই আকাশচুম্বী।”

সবজি (ফাইল ফটো)
সবজি (ফাইল ফটো)

বিক্রেতারাও দাবি করছেন, টানা বৃষ্টিতে কৃষিজ উৎপাদনে ক্ষতি হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। বাড্ডার এক সবজি বিক্রেতা হারুন জানান, পাইকারি বাজারেই দ্বিগুণ দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরাতেও দাম বাড়ছে। এতে বিক্রি কমে গেছে, লোকসান গুনছেন তারাও।

তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এবং তদারকির অভাবও দায়ী। ‘ভোক্তা’ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক মো. খলিলুর রহমান সজল বলেন, “ভোক্তারা এখন অস্বাভাবিক দামের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। অথচ সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিয়মিত বাজারে নজরদারি করলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না।” তিনি উদাহরণ দেন, নরসিংদীতে ৬০–৬৫ টাকার বেগুন ঢাকায় এসে বিক্রি হচ্ছে ১৫০–১৮০ টাকায়, যা সরবরাহ শৃঙ্খলের অনিয়মের ফল।

অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি মনে করেন, খাদ্য খাতের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। তার মতে, পাইকারি পর্যায়ের একচেটিয়া ব্যবসা ভাঙা, খাদ্য আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া এবং কৃষিপণ্যের সরাসরি বিপণন জোরদার করা জরুরি। তা না হলে সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপণ্য নাগালের বাইরে থেকে যাবে।