ঢাকা ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্কে কনস্যুলেটের ঘটনায় মিশনের ব্যাখ্যা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / 140

নিউইয়র্কে কনস্যুলেটের ঘটনায় মিশনের ব্যাখ্যা

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসে হামলার ঘটনায় ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ মিশন। গত রোববার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বছরপূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নিউইয়র্ক কনস্যুলেট অফিস। এ সময় অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে দূতাবাসের ফেসবুক পেজে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

মিশন জানিয়েছে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবসের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় সময় রোববার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, নিউইয়র্কে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশ কমিউনিটির দেড় শতাধিক অতিথি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের অনুরোধে অনুষ্ঠানের আগেই নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ কনস্যুলেটের আশপাশে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে।

ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভাটি পণ্ড করার উদ্দেশ্যে এবং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিকে সরাসরি আক্রমণ করার হিংস্র মনোভাব নিয়ে বিকেল ৫টা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কনস্যুলেট জেনারেলের সামনে অবস্থান নেন। তারা বাংলাদেশ সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেন এবং অশ্লীল-অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানে আগত আমন্ত্রিত অতিথিদের ধাওয়া করে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে বাধা প্রদান করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা নানাবিধ অপকৌশল অবলম্বন করে। এর অংশ হিসেবে অতিথিদের উদ্দেশে ডিম নিক্ষেপ এবং অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে কনস্যুলেট জেনারেলের প্রবেশপথের পাশের আরেকটি অফিসের (একই ভবনের) কাচের দরজায় আঘাত করে। এতে দরজায় ফাটল ধরে (ভিডিও সংযুক্ত)।

এতে বলা হয়েছে, এ সময় পুলিশ দুষ্কৃতকারীদের এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজে বাধা দেয় এবং কয়েকজনকে আটক করে। দুষ্কৃতকারীদের এই ন্যক্কারজনক কার্যক্রমের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে গেছে এবং তারা যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

পোস্টে বলা হয়েছে, পতিত সরকারের দোসররা প্রধান অতিথিকে হেনস্তা ও জীবননাশের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকাসহ কনস্যুলেট জেনারেলের চারপাশে মধ্যরাত পর্যন্ত অবস্থান করে। তবে পুরো সময় নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষণীয় ছিল।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধান অতিথি যথাসময়ে কনস্যুলেট জেনারেলে গাড়িযোগে প্রবেশ করে নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। প্রাণবন্ত মতবিনিময়, অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং রাতের খাবার শেষে তিনি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই নির্ধারিত গাড়িতে গন্তব্যে পৌঁছান। প্রধান অতিথি প্রস্থান করার পর পুলিশও অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে। দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কনস্যুলেট জেনারেল স্থানীয় পুলিশ, মেয়র এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের স্থানীয় অফিসে আনুষ্ঠানিক পত্র দিয়েছে।

এছাড়া আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান অতিথির আগমন বা প্রস্থানের সময় তার সঙ্গে দুষ্কৃতকারীদের কোনো সাক্ষাৎ বা সংযোগ ঘটেনি। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা শত চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের অসৎ উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং ব্যর্থ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ও প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নিউইয়র্কে কনস্যুলেটের ঘটনায় মিশনের ব্যাখ্যা

সর্বশেষ আপডেট ১১:০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসে হামলার ঘটনায় ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ মিশন। গত রোববার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বছরপূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নিউইয়র্ক কনস্যুলেট অফিস। এ সময় অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে দূতাবাসের ফেসবুক পেজে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

মিশন জানিয়েছে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবসের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় সময় রোববার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, নিউইয়র্কে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশ কমিউনিটির দেড় শতাধিক অতিথি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের অনুরোধে অনুষ্ঠানের আগেই নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ কনস্যুলেটের আশপাশে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে।

ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে আয়োজিত মতবিনিময় সভাটি পণ্ড করার উদ্দেশ্যে এবং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিকে সরাসরি আক্রমণ করার হিংস্র মনোভাব নিয়ে বিকেল ৫টা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কনস্যুলেট জেনারেলের সামনে অবস্থান নেন। তারা বাংলাদেশ সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেন এবং অশ্লীল-অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানে আগত আমন্ত্রিত অতিথিদের ধাওয়া করে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে বাধা প্রদান করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা নানাবিধ অপকৌশল অবলম্বন করে। এর অংশ হিসেবে অতিথিদের উদ্দেশে ডিম নিক্ষেপ এবং অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে কনস্যুলেট জেনারেলের প্রবেশপথের পাশের আরেকটি অফিসের (একই ভবনের) কাচের দরজায় আঘাত করে। এতে দরজায় ফাটল ধরে (ভিডিও সংযুক্ত)।

এতে বলা হয়েছে, এ সময় পুলিশ দুষ্কৃতকারীদের এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজে বাধা দেয় এবং কয়েকজনকে আটক করে। দুষ্কৃতকারীদের এই ন্যক্কারজনক কার্যক্রমের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে গেছে এবং তারা যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

পোস্টে বলা হয়েছে, পতিত সরকারের দোসররা প্রধান অতিথিকে হেনস্তা ও জীবননাশের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকাসহ কনস্যুলেট জেনারেলের চারপাশে মধ্যরাত পর্যন্ত অবস্থান করে। তবে পুরো সময় নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষণীয় ছিল।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধান অতিথি যথাসময়ে কনস্যুলেট জেনারেলে গাড়িযোগে প্রবেশ করে নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। প্রাণবন্ত মতবিনিময়, অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং রাতের খাবার শেষে তিনি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই নির্ধারিত গাড়িতে গন্তব্যে পৌঁছান। প্রধান অতিথি প্রস্থান করার পর পুলিশও অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে। দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কনস্যুলেট জেনারেল স্থানীয় পুলিশ, মেয়র এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের স্থানীয় অফিসে আনুষ্ঠানিক পত্র দিয়েছে।

এছাড়া আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান অতিথির আগমন বা প্রস্থানের সময় তার সঙ্গে দুষ্কৃতকারীদের কোনো সাক্ষাৎ বা সংযোগ ঘটেনি। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা শত চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের অসৎ উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং ব্যর্থ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ও প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।