ঢাকা ০৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলাদেশ ব্যাংকের

নারীদের পোশাক নীতিতে অনাস্থা, তদন্ত ও শাস্তির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
  • / 130

নারীদের পোশাক নীতিতে অনাস্থা, তদন্ত ও শাস্তির দাবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের নারী কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত পোশাক সংক্রান্ত নির্দেশনাকে “ক্ষমতার অপব্যবহারের খারাপ দৃষ্টান্ত” হিসেবে আখ্যা দিয়ে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের ৫৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক। আজ শুক্রবার (২৫ জুলাই ২০২৫) এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এই নির্দেশনার নিন্দা জানিয়ে এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ওড়না এবং নির্দিষ্ট রঙের স্কার্ফ বা হিজাব পরার নির্দেশনা দেয়। এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়। যদিও ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে ব্যাংকের গভর্নর পরবর্তীতে সেই নির্দেশনা প্রত্যাহার করেন। এ জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান বিবৃতিদাতারা।

তবে বিশিষ্টজনেরা বলেন, “এই ধরনের নির্দেশনা শুধু নারীর মৌলিক অধিকার ও সংবিধানের লঙ্ঘন নয়, বরং একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক রুচি ও সংস্কৃতির জন্যও চরম লজ্জাজনক।” তাঁরা মনে করেন, এই ঘটনার দায় এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। তাই নির্দেশনা যারা তৈরি ও অনুমোদনে জড়িত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “জাতীয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জনগণের কাছে জবাবদিহির দায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত নিলে তা দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।”

যেসব বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সুলতানা কামাল, নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, মানবাধিকারকর্মী নুর খান, আইনজীবী জেড আই খান পান্না, অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক জোবাইদা নাসরিন, অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, আদিবাসী মানবাধিকারকর্মী রানী য়েন য়েন, সংগীতশিল্পী কৃঞ্চকলি ইসলাম, আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, পরিবেশবাদী অ্যাডভোকেট তাসলিমা ইসলাম, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা মনীন্দ্র কুমার নাথ, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা, এবং আরও অনেকে।

বিবৃতিদাতারা জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ও রক্ষণশীলতা আরোপের যে কোনো প্রয়াসের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের

নারীদের পোশাক নীতিতে অনাস্থা, তদন্ত ও শাস্তির দাবি

সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশ ব্যাংকের নারী কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত পোশাক সংক্রান্ত নির্দেশনাকে “ক্ষমতার অপব্যবহারের খারাপ দৃষ্টান্ত” হিসেবে আখ্যা দিয়ে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের ৫৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক। আজ শুক্রবার (২৫ জুলাই ২০২৫) এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এই নির্দেশনার নিন্দা জানিয়ে এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ওড়না এবং নির্দিষ্ট রঙের স্কার্ফ বা হিজাব পরার নির্দেশনা দেয়। এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়। যদিও ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে ব্যাংকের গভর্নর পরবর্তীতে সেই নির্দেশনা প্রত্যাহার করেন। এ জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান বিবৃতিদাতারা।

তবে বিশিষ্টজনেরা বলেন, “এই ধরনের নির্দেশনা শুধু নারীর মৌলিক অধিকার ও সংবিধানের লঙ্ঘন নয়, বরং একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক রুচি ও সংস্কৃতির জন্যও চরম লজ্জাজনক।” তাঁরা মনে করেন, এই ঘটনার দায় এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। তাই নির্দেশনা যারা তৈরি ও অনুমোদনে জড়িত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “জাতীয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জনগণের কাছে জবাবদিহির দায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত নিলে তা দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।”

যেসব বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সুলতানা কামাল, নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, মানবাধিকারকর্মী নুর খান, আইনজীবী জেড আই খান পান্না, অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক জোবাইদা নাসরিন, অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, আদিবাসী মানবাধিকারকর্মী রানী য়েন য়েন, সংগীতশিল্পী কৃঞ্চকলি ইসলাম, আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, পরিবেশবাদী অ্যাডভোকেট তাসলিমা ইসলাম, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা মনীন্দ্র কুমার নাথ, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা, এবং আরও অনেকে।

বিবৃতিদাতারা জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ও রক্ষণশীলতা আরোপের যে কোনো প্রয়াসের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।