নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে তিন মাসে ৩ রোহিঙ্গা আটক
- সর্বশেষ আপডেট ০২:২১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
- / 124
নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস চালু হয়েছে চলতি বছরের ৪ মে। মাত্র তিন মাসের মধ্যে এখান থেকে অন্তত তিনজন রোহিঙ্গা আটক হয়েছেন। ফলে স্বস্তির বদলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সবশেষ ১৮ আগস্ট ধরা পড়েন মো. আরিয়ান নামে এক যুবক। যাচাই-বাছাইয়ে জানা যায়, তার আসল নাম মো. আনোস এবং তিনি উখিয়ার লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তিনি পাসপোর্ট করার চেষ্টা করছিলেন।
এর আগে ৩ জুন আটক হন সুমা আক্তার নামে এক নারী। জন্মস্থান ঢাকার কেরানীগঞ্জ দেখিয়ে তিনি পূর্ণ কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন। এমনকি তার বাবা-মা ও স্বামীরও আলাদা এনআইডি ছিল। তদন্তে প্রমাণ মেলে, পুরো পরিবারকেই দালালচক্র ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বাংলাদেশি বানিয়ে ফেলেছিল।
২৫ মে আটক হন কিশোর আব্দুল আজিজ। তিনি বয়স আড়াল করে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু যাচাইয়ে ধরা পড়ে, তার বয়স আঠারোর নিচে এবং তিনি রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা। শুধু তাই নয়, তার মা-বাবার এনআইডিও ভুয়া।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, আটক তিনজনের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও নাগরিকত্ব সনদ সংগ্রহ করা হয়েছে কেরানীগঞ্জ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর জোন ও নারায়ণগঞ্জের কুতুবপুর ইউনিয়ন থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রক্রিয়াটি একই রকম—প্রথমে ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি, এরপর নির্বাচন অফিস থেকে এনআইডি, তারপর পাসপোর্ট অফিসে আবেদন।
নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক শামীম আহমদ বলেন, “প্রতিদিনই ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে আসা হয়। তবে তিন মাসে তিনজন রোহিঙ্গা ধরা পড়া উদ্বেগজনক। এর পেছনে বড় দালালচক্র কাজ করছে।”
তার মতে, এই চক্র সাধারণ প্রতারক নয়, বরং প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাকে কাজে লাগাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা শেষ ধাপে যাচাই করি, কিন্তু যদি ইউনিয়ন পরিষদ ও নির্বাচন অফিস থেকেই ভুয়া কাগজ তৈরি হয়, তবে ঝুঁকি থেকেই যাবে।”
এ অবস্থাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ রোহিঙ্গারা যদি সহজে এনআইডি ও পাসপোর্ট পেয়ে যায়, তবে জমি কেনাবেচা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, সিম নেওয়া থেকে শুরু করে বিদেশ ভ্রমণ; সব ক্ষেত্রেই তারা বাংলাদেশি পরিচয় ব্যবহার করতে পারবে। এতে মানবপাচার ও মাদকচক্রও শক্তিশালী হতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে যোগসাজশ ছাড়া রোহিঙ্গাদের পক্ষে এনআইডি পাওয়া সম্ভব নয়। এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, “বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যেসব কাগজপত্র কঠোরভাবে যাচাই হয়, সেখানে রোহিঙ্গারা কীভাবে পাচ্ছে? নিশ্চয়ই ভেতরে গলদ আছে।”
নির্বাচন কমিশনের এক অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক ডাটাবেস ও জাতীয় পরিচয়পত্র ডাটাবেসের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নেই। ফলে ভিন্ন তথ্য দিয়ে অনেকে পার পেয়ে যাচ্ছে। এক কর্মকর্তা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যাচাই ছাড়া ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি হয়ে এলে সেটিই পরবর্তীতে এনআইডি পাওয়ার মূল ভিত্তি হয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাসপোর্ট অফিসের শেষ ধাপে ধরা পড়লেও সমস্যা শুরুতেই প্রতিরোধ করতে না পারলে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি তৈরি হবে।



































