নারায়ণগঞ্জে পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীসহ ৬ গ্রেপ্তার
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৪:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 53
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সুমন খলিফা (৩৫) হত্যাকাণ্ড পরকীয়ার জেরেই পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করার পর তদন্তে নামা পুলিশ পুরো ঘটনার চিত্র উন্মোচন করেছে।
নিহতের স্ত্রী সোনিয়া আক্তারসহ ছয়জনকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি ও একটি সুইচ গিয়ারও উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী বুধবার বিকেলে পুলিশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন—নিহতের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২২), মেহেদী হাসান ওরফে ইউসুফ (৪২), আব্দুর রহমান (২৮), বিল্লাল হোসেন (৫৮), আলমগীর হাওলাদার (৪৫) এবং নান্নু মিয়া (৫৫)।
এসপি মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, সুমনের স্ত্রী সোনিয়া ও আসামি মেহেদী হাসান ওরফে ইউসুফের অবৈধ সম্পর্কের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। সম্পর্কজনিত কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শেষ পর্যন্ত তারা পরিকল্পনা করে সুমনকে হত্যার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর রাতে পঞ্চবটি মেথরখোলা এলাকায় গানের অনুষ্ঠানে স্ত্রীকে রেখে বের হওয়ার পর সুমনকে ক্লাব থেকে ডেকে নিয়ে আসামিরা সিএনজিতে তুলে চর কাশীপুরে নিয়ে যায়। সেখানে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে ইউসুফকে গ্রেপ্তার করার পর তার প্রাথমিক স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহত সুমনের মরদেহ ১ ডিসেম্বর সকালে ফতুল্লার কাশীপুর মধ্য নরসিংপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি বরিশালের আগৈলঝড়া উপজেলার মন্টু খলিফার ছেলে এবং পরিবার নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ মৌচাক এলাকায় বসবাস করতেন। একই দিন রাতেই নিহতের বাবা মো. মন্টু খলিফা ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।


































