ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নরসিংদীতে মিথ্যা প্রতিশ্রুতির জালে মা ও শিশু কেন্দ্র, সেবাবঞ্চিত রোগীরা

শফিকুল ইসলাম, রায়পুরা (নরসিংদী)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 168

রায়পুরার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা এখনও শুরু হয়নি

নরসিংদী জেলার রায়পুরায় মরজাল ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কেন্দ্রটিতে চিকিৎসা সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। সেবা বঞ্চিতদের কষ্ট লাঘবের জন্য দুই দুইবার জনকল্যাণমুখী সংবাদ প্রকাশের পরও কর্মচারীদের রদবদলের নামে ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিনিয়তই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এই কেন্দ্রটিতে শতভাগ সুচিকিৎসার জন্য দুই দুইবার পর্যায়ক্রমে জনকল্যাণমুখী সংবাদ প্রকাশের পরও অদৃশ্য অপশক্তির কারণে চিকিৎসা সেবাবঞ্চিত হচ্ছে এখনও। সপ্তাহে ৬ দিন চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল মতিন মিয়া বেশিরভাগ দিনই থাকে অনুপস্থিত। থেমে নেই পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ডলি রানী দাসের পাহারায় পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রমিজ উদ্দিন ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আর্জিনা খাতুনের অফিস টাইমে প্রতিনিয়ত আড্ডা ও অনৈতিক সম্পর্ক। এই অদৃশ্য অপশক্তির হোতা কারা? চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্বেগ।

অনুসন্ধানসূত্রে দেখা যায়, মরজাল ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটির সমস্যা নিরসনে জনকল্যাণমুখী সংবাদ প্রকাশের পরও কর্মচারীদের রদবদলের নেই তেমন প্রশাসনিক ভূমিকা। অপরদিকে চিকিৎসাসেবায় বঞ্চিত এলাকাবাসী। প্রতি সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনই থাকে বন্ধ।এক অদৃশ্য অপশক্তির কারণে প্রতিনিয়তই থাকে অনুপস্থিত।

এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর রায়পুরা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ও মরজাল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক খলিলুর রহমান সবুজ মরজাল ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত সকল কর্মচারীদের ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে এনে প্রকাশিত সংবাদটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা নিশ্চিত করেন।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আর্জিনা খাতুন ও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রমিজ উদ্দিনকে তাদের দুইজনের অনৈতিক সম্পর্কের কথা জিজ্ঞেসাবাদ করলে, স্বীকারোক্তিতে জানান, বিষয়টি জটিল পর্যায়ে গেলে বিয়ের মাধ্যমে সমাধান করে ফেলি, এখন আমরা স্বামী-স্ত্রী। এই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ইউপি প্রশাসক তাদের বিয়ের কাবিননামা ও প্রমাণপত্র দেখানোর জন্য নির্দেশ দিলে, দেখাবেন বলে নির্দিষ্ট সময় চেয়ে দেখাতে ব্যর্থ হন।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ও মরজাল ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক খলিলুর রহমান সবুজ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রমিজ উদ্দিন ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আর্জিনা খাতুনকে তাদের অনৈতিক সম্পর্কের কথা সরাসরি জিজ্ঞেস করলে, তাদের এই অশুভ ঘটনা সত্য বলে স্বীকার করে বলেন, তারা বিয়ে করে এখন স্বামী-স্ত্রী, তাদের দুজনের মধ্যে বৈধ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। বিয়ের কাবিননামাসহ প্রমাণপত্র দেখানোর নির্দেশ দিলে আমার কাছ থেকে বিকেল পর্যন্ত সময় চায়। বিয়ের প্রমাণপত্র নিয়ে এসে আমার অফিসে দেখানোর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর আসেনি। তারা আমার সাথেও প্রতিটি কথায় ও কাজে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে যা ব্যবস্থা নিবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুরা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার সাইদুর রহমান বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, মরজাল ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে শতভাগ চিকিৎসা সেবা সুনিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় কর্মচারীদের রদবদলের প্রক্রিয়া চলছে এবং দ্রুতই বিষয়টি সমাধান হবে বলে আবারও প্রতিশ্রুতি দেন।

এ বিষয়টি জানতে চাইলে মুঠোফোনে নরসিংদী পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক শাহীদুজ্জামান জানান, দুই দুইবার প্রকাশিত জনকল্যাণমূখী সংবাদের বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে দ্রুত একটি সুষ্ঠু সমাধান দেবে বলে আবারও প্রতিশ্রুতি দেন।

তাছাড়া তিনি বিরক্তিকর কন্ঠে বলেন, যদি আপনি পারেন আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাদের বদলীর ব্যবস্থা করেন। এই বলে তিনি মুঠোফোন কেটে দেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নরসিংদীতে মিথ্যা প্রতিশ্রুতির জালে মা ও শিশু কেন্দ্র, সেবাবঞ্চিত রোগীরা

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নরসিংদী জেলার রায়পুরায় মরজাল ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কেন্দ্রটিতে চিকিৎসা সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। সেবা বঞ্চিতদের কষ্ট লাঘবের জন্য দুই দুইবার জনকল্যাণমুখী সংবাদ প্রকাশের পরও কর্মচারীদের রদবদলের নামে ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিনিয়তই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এই কেন্দ্রটিতে শতভাগ সুচিকিৎসার জন্য দুই দুইবার পর্যায়ক্রমে জনকল্যাণমুখী সংবাদ প্রকাশের পরও অদৃশ্য অপশক্তির কারণে চিকিৎসা সেবাবঞ্চিত হচ্ছে এখনও। সপ্তাহে ৬ দিন চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল মতিন মিয়া বেশিরভাগ দিনই থাকে অনুপস্থিত। থেমে নেই পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ডলি রানী দাসের পাহারায় পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রমিজ উদ্দিন ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আর্জিনা খাতুনের অফিস টাইমে প্রতিনিয়ত আড্ডা ও অনৈতিক সম্পর্ক। এই অদৃশ্য অপশক্তির হোতা কারা? চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্বেগ।

অনুসন্ধানসূত্রে দেখা যায়, মরজাল ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটির সমস্যা নিরসনে জনকল্যাণমুখী সংবাদ প্রকাশের পরও কর্মচারীদের রদবদলের নেই তেমন প্রশাসনিক ভূমিকা। অপরদিকে চিকিৎসাসেবায় বঞ্চিত এলাকাবাসী। প্রতি সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনই থাকে বন্ধ।এক অদৃশ্য অপশক্তির কারণে প্রতিনিয়তই থাকে অনুপস্থিত।

এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর রায়পুরা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ও মরজাল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক খলিলুর রহমান সবুজ মরজাল ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত সকল কর্মচারীদের ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে এনে প্রকাশিত সংবাদটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা নিশ্চিত করেন।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আর্জিনা খাতুন ও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রমিজ উদ্দিনকে তাদের দুইজনের অনৈতিক সম্পর্কের কথা জিজ্ঞেসাবাদ করলে, স্বীকারোক্তিতে জানান, বিষয়টি জটিল পর্যায়ে গেলে বিয়ের মাধ্যমে সমাধান করে ফেলি, এখন আমরা স্বামী-স্ত্রী। এই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ইউপি প্রশাসক তাদের বিয়ের কাবিননামা ও প্রমাণপত্র দেখানোর জন্য নির্দেশ দিলে, দেখাবেন বলে নির্দিষ্ট সময় চেয়ে দেখাতে ব্যর্থ হন।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ও মরজাল ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক খলিলুর রহমান সবুজ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রমিজ উদ্দিন ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আর্জিনা খাতুনকে তাদের অনৈতিক সম্পর্কের কথা সরাসরি জিজ্ঞেস করলে, তাদের এই অশুভ ঘটনা সত্য বলে স্বীকার করে বলেন, তারা বিয়ে করে এখন স্বামী-স্ত্রী, তাদের দুজনের মধ্যে বৈধ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। বিয়ের কাবিননামাসহ প্রমাণপত্র দেখানোর নির্দেশ দিলে আমার কাছ থেকে বিকেল পর্যন্ত সময় চায়। বিয়ের প্রমাণপত্র নিয়ে এসে আমার অফিসে দেখানোর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর আসেনি। তারা আমার সাথেও প্রতিটি কথায় ও কাজে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে যা ব্যবস্থা নিবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুরা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার সাইদুর রহমান বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, মরজাল ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে শতভাগ চিকিৎসা সেবা সুনিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় কর্মচারীদের রদবদলের প্রক্রিয়া চলছে এবং দ্রুতই বিষয়টি সমাধান হবে বলে আবারও প্রতিশ্রুতি দেন।

এ বিষয়টি জানতে চাইলে মুঠোফোনে নরসিংদী পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক শাহীদুজ্জামান জানান, দুই দুইবার প্রকাশিত জনকল্যাণমূখী সংবাদের বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে দ্রুত একটি সুষ্ঠু সমাধান দেবে বলে আবারও প্রতিশ্রুতি দেন।

তাছাড়া তিনি বিরক্তিকর কন্ঠে বলেন, যদি আপনি পারেন আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাদের বদলীর ব্যবস্থা করেন। এই বলে তিনি মুঠোফোন কেটে দেন।