ঢাকা ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নরসিংদীতে ভূমিকম্পে পাঁচজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৮:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
  • / 164

নরসিংদীতে ভূমিকম্পে পাঁচজনের মৃত্যু

নরসিংদীর তিনটি উপজেলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে পিতা–পুত্রসহ পাঁচজন নিহত এবং অন্তত দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী ও ঘোড়াশালের মধ্যবর্তী এলাকায় ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয় বলে আবহাওয়া দপ্তর জানায়।

মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন; নরসিংদী শহর তলীর গাবতলীর হোসেন (৩৭) ও তার ছেলে ওমর ফারুক (১০), পলাশ উপজেলার কাজম আলী ভূইয়া (৭০), একই উপজেলার ডাঙ্গা গ্রামের নাসির উদ্দিন (৫০)
এবং শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আসকিতলা গ্রামের ফুরকান মিয়া (৪০)।

গাবতলীর একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে ইট পড়ে দেলোয়ার হোসেন, তার ছেলে ওমর ফারুক ও তাসফিয়া আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় নিলে দেলোয়ার ও তার ছেলের মৃত্যু হয়।
পলাশ উপজেলার মালিতা গ্রামে মাটির ঘর ভেঙে পড়ে কাজম আলী ভূইয়ার মৃত্যু হয়। একই উপজেলার ডাঙ্গা গ্রামে ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান নাসির উদ্দিন।
শিবপুরের আসকিতলায় গাছে উঠে ডাল কাটার সময় ভূমিকম্পে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন ফুরকান মিয়া; হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক, পলাশ থানার ওসি মো. মনির হোসেন এবং শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন পৃথকভাবে মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিশ্চিত করেছেন।

ভূমিকম্পে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভবনে ফাটল দেখা দেয়। ঘোড়াশাল পৌর এলাকার নতুন বাজারে একটি বাড়ি ধসে পড়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
পাশাপাশি ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

জেলার হাসপাতালগুলোতে অন্তত দেড় শতাধিক মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। নরসিংদী সদর হাসপাতালে ৫৭ জন এবং জেলা হাসপাতালে ১৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন— সাইফুল, মেহেরউন, আবির, নাসরিন, ইয়ামিন, মিথিলা, তাসপিয়া, শামীম, রাকিব, আতিকুর, তামিম, হনুফা, বিল্লাল, জাকির, মান্নান, ইমানুল, হিরা, মাধবী, রাব্বী, সাইদুর, হালিমা, রফিক, সুমাইয়া, দেলোয়ার, বিন্দু, সূরভী, জিহাদ, সাথী, সোহেল, মিনা, শাহাদাতসহ আরও অনেকে।

নরসিংদীর সিভিল সার্জন ড. সৈয়দ মো. আমিরুল হক জানিয়েছেন, বিভিন্ন হাসপাতালে কমবেশি অর্ধশতাধিক আহতকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নরসিংদীতে ভূমিকম্পে পাঁচজনের মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৮:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

নরসিংদীর তিনটি উপজেলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে পিতা–পুত্রসহ পাঁচজন নিহত এবং অন্তত দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী ও ঘোড়াশালের মধ্যবর্তী এলাকায় ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয় বলে আবহাওয়া দপ্তর জানায়।

মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন; নরসিংদী শহর তলীর গাবতলীর হোসেন (৩৭) ও তার ছেলে ওমর ফারুক (১০), পলাশ উপজেলার কাজম আলী ভূইয়া (৭০), একই উপজেলার ডাঙ্গা গ্রামের নাসির উদ্দিন (৫০)
এবং শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আসকিতলা গ্রামের ফুরকান মিয়া (৪০)।

গাবতলীর একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে ইট পড়ে দেলোয়ার হোসেন, তার ছেলে ওমর ফারুক ও তাসফিয়া আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় নিলে দেলোয়ার ও তার ছেলের মৃত্যু হয়।
পলাশ উপজেলার মালিতা গ্রামে মাটির ঘর ভেঙে পড়ে কাজম আলী ভূইয়ার মৃত্যু হয়। একই উপজেলার ডাঙ্গা গ্রামে ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান নাসির উদ্দিন।
শিবপুরের আসকিতলায় গাছে উঠে ডাল কাটার সময় ভূমিকম্পে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন ফুরকান মিয়া; হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক, পলাশ থানার ওসি মো. মনির হোসেন এবং শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন পৃথকভাবে মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিশ্চিত করেছেন।

ভূমিকম্পে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভবনে ফাটল দেখা দেয়। ঘোড়াশাল পৌর এলাকার নতুন বাজারে একটি বাড়ি ধসে পড়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
পাশাপাশি ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

জেলার হাসপাতালগুলোতে অন্তত দেড় শতাধিক মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। নরসিংদী সদর হাসপাতালে ৫৭ জন এবং জেলা হাসপাতালে ১৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন— সাইফুল, মেহেরউন, আবির, নাসরিন, ইয়ামিন, মিথিলা, তাসপিয়া, শামীম, রাকিব, আতিকুর, তামিম, হনুফা, বিল্লাল, জাকির, মান্নান, ইমানুল, হিরা, মাধবী, রাব্বী, সাইদুর, হালিমা, রফিক, সুমাইয়া, দেলোয়ার, বিন্দু, সূরভী, জিহাদ, সাথী, সোহেল, মিনা, শাহাদাতসহ আরও অনেকে।

নরসিংদীর সিভিল সার্জন ড. সৈয়দ মো. আমিরুল হক জানিয়েছেন, বিভিন্ন হাসপাতালে কমবেশি অর্ধশতাধিক আহতকে সেবা দেওয়া হয়েছে।