ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন করে ৮৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সহযোগী ২৮ জন

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 119

নতুন করে ৮৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সহযোগী ২৮ জন

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা সংশোধনের পর প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাচাই–বাছাই ও শুনানি শেষে ৩৩৬ জনের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে থাকা গেজেট বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ২৮ জনকে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি নতুন করে ৮৪ জনকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জমা পড়া অভিযোগ, নতুন আবেদন এবং আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে এই যাচাই–বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় লাগবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জামুকা পুনর্গঠনের পর গত এক বছরে অনুষ্ঠিত ১১টি সভায় মোট ২৮ জনকে মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ব্যক্তির নাম আগে কখনো মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ইতোমধ্যে কয়েকজনের নাম গেজেটেও প্রকাশ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কারও ক্ষেত্রে আদালতের রিট নিষ্পত্তির নির্দেশে এবং কারও ক্ষেত্রে সরাসরি আবেদনের পর শুনানি শেষে দেখা গেছে—সংশোধিত সংজ্ঞা অনুযায়ী তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা নন, বরং মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী শ্রেণিতে পড়েন।

অন্যদিকে, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে জামুকার কাছে আবেদন করেছিলেন শত শত মানুষ। শুনানি ও প্রমাণ যাচাই শেষে ৬৪৩ জন নিজেদের দাবি প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। তবে একই সময়ে ৮৪ জন পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে সক্ষম হওয়ায় তাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অতীতে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়ে নিয়মিত ভাতা পাওয়া ৩৩৬ জনের বিরুদ্ধেও অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সময়, স্থান ও ভূমিকা সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দিতে না পারায় তাদের গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩ জুন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনে। সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রণাঙ্গনে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারীরাই ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। অন্যদিকে দেশ বা দেশের বাইরে থেকে কূটনৈতিক, সাংগঠনিক বা জনমত গঠনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশেষ ভূমিকা রাখা ব্যক্তিরা বিবেচিত হবেন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে।

তবে সংজ্ঞা পরিবর্তনের ছয় মাস পার হলেও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) থাকা প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার মুক্তিযোদ্ধার শ্রেণিবিন্যাস এখনো শুরু হয়নি। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীদের জন্য আলাদা গেজেট প্রকাশের কাজও এগোয়নি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন শ্রেণিবিন্যাস শুরু হলে সারা দেশে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে—এই আশঙ্কায় আপাতত বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছে। এ দায়িত্ব ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাও করা হচ্ছে।

গত ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জামুকার ১০১তম সভায় পৃথক গেজেট প্রকাশের বিষয়টি আলোচনায় আসে। সভায় জানানো হয়, সংশোধিত আইন অনুযায়ী রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা, বীরাঙ্গনা এবং ফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হবে। আর দেশের ভেতরে ও বাইরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিক, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের আলাদা করে মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী হিসেবে গেজেট প্রকাশের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই আজম জানান, বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মূলত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য যাচাইয়ের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। এ কারণে শ্রেণিবিন্যাসের কাজ পিছিয়ে আছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল বহুমাত্রিক সংগ্রাম—কেউ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, কেউ কূটনীতি, সংগঠন বা সেবামূলক কাজে ভূমিকা রেখেছেন। তবে এতদিন সবকিছু একভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় এই বৈচিত্র্য স্পষ্ট হয়নি।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি পদে মোট ৯০ হাজার ৫২৭ জন নিয়োগ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৭২ হাজার ৭৭ জনের তথ্য যাচাই শেষ হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়ায় ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, তথ্য যাচাই করাই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার।

মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ মনে করছেন, এত বছর পর ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ নামে আলাদা শ্রেণি তৈরি করলে মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আবার অনেকের মতে, স্পষ্ট মানদণ্ডে দায়িত্ব ও ভূমিকা অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস হলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আরও পরিষ্কার ও স্বচ্ছভাবে উপস্থাপিত হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নতুন করে ৮৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সহযোগী ২৮ জন

সর্বশেষ আপডেট ১২:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা সংশোধনের পর প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাচাই–বাছাই ও শুনানি শেষে ৩৩৬ জনের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে থাকা গেজেট বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ২৮ জনকে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি নতুন করে ৮৪ জনকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জমা পড়া অভিযোগ, নতুন আবেদন এবং আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে এই যাচাই–বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় লাগবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জামুকা পুনর্গঠনের পর গত এক বছরে অনুষ্ঠিত ১১টি সভায় মোট ২৮ জনকে মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ব্যক্তির নাম আগে কখনো মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ইতোমধ্যে কয়েকজনের নাম গেজেটেও প্রকাশ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কারও ক্ষেত্রে আদালতের রিট নিষ্পত্তির নির্দেশে এবং কারও ক্ষেত্রে সরাসরি আবেদনের পর শুনানি শেষে দেখা গেছে—সংশোধিত সংজ্ঞা অনুযায়ী তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা নন, বরং মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী শ্রেণিতে পড়েন।

অন্যদিকে, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে জামুকার কাছে আবেদন করেছিলেন শত শত মানুষ। শুনানি ও প্রমাণ যাচাই শেষে ৬৪৩ জন নিজেদের দাবি প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। তবে একই সময়ে ৮৪ জন পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে সক্ষম হওয়ায় তাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অতীতে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়ে নিয়মিত ভাতা পাওয়া ৩৩৬ জনের বিরুদ্ধেও অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সময়, স্থান ও ভূমিকা সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দিতে না পারায় তাদের গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩ জুন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনে। সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রণাঙ্গনে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারীরাই ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। অন্যদিকে দেশ বা দেশের বাইরে থেকে কূটনৈতিক, সাংগঠনিক বা জনমত গঠনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশেষ ভূমিকা রাখা ব্যক্তিরা বিবেচিত হবেন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে।

তবে সংজ্ঞা পরিবর্তনের ছয় মাস পার হলেও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) থাকা প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার মুক্তিযোদ্ধার শ্রেণিবিন্যাস এখনো শুরু হয়নি। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীদের জন্য আলাদা গেজেট প্রকাশের কাজও এগোয়নি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন শ্রেণিবিন্যাস শুরু হলে সারা দেশে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে—এই আশঙ্কায় আপাতত বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছে। এ দায়িত্ব ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাও করা হচ্ছে।

গত ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জামুকার ১০১তম সভায় পৃথক গেজেট প্রকাশের বিষয়টি আলোচনায় আসে। সভায় জানানো হয়, সংশোধিত আইন অনুযায়ী রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা, বীরাঙ্গনা এবং ফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হবে। আর দেশের ভেতরে ও বাইরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিক, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের আলাদা করে মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী হিসেবে গেজেট প্রকাশের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই আজম জানান, বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মূলত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য যাচাইয়ের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। এ কারণে শ্রেণিবিন্যাসের কাজ পিছিয়ে আছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল বহুমাত্রিক সংগ্রাম—কেউ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, কেউ কূটনীতি, সংগঠন বা সেবামূলক কাজে ভূমিকা রেখেছেন। তবে এতদিন সবকিছু একভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় এই বৈচিত্র্য স্পষ্ট হয়নি।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি পদে মোট ৯০ হাজার ৫২৭ জন নিয়োগ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৭২ হাজার ৭৭ জনের তথ্য যাচাই শেষ হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়ায় ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, তথ্য যাচাই করাই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার।

মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ মনে করছেন, এত বছর পর ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ নামে আলাদা শ্রেণি তৈরি করলে মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আবার অনেকের মতে, স্পষ্ট মানদণ্ডে দায়িত্ব ও ভূমিকা অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস হলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আরও পরিষ্কার ও স্বচ্ছভাবে উপস্থাপিত হবে।