নওগাঁর সাবেক মেয়র সনি; সব আমলেই ক্ষমতাশালী তিনি
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৮:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
- / 314
আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নওগাঁ পৌরসভার সাবেক মেয়র নাজমুল হক সনিকে ঘিরে ফের বিতর্কের ঝড় উঠেছে এই ছবি নিয়ে। ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো: নাজমুল হক সনি। ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি। তবুও তার বেগ পেতে হয়নি বিগত সরকারের সময়ে। দল সুবিধাজনক থাকুক আর না থাকুক তার ক্ষমতায় কখনো ভাটা পড়েনি। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশের সাথে সখ্যতা গড়ে বিগত দিনে একাধিকবার মেয়র হওয়ার পাশাপাশি গড়েছেন অঢেল সম্পদ। আওয়ামী লীগের পতনের পর তিনি আবার সামনে এসেছেন ‘নির্যাতিত’ নেতা হয়ে।
এই নেতার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাতআয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন( দুদক)। নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সেটিও ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিগত সরকারের সময়ে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা বিএনপির এই নেতা আগামী নির্বাচনে নওগাঁ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। এজন্য জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার দাবি, বিগত সরকারের সময় তিনি ‘নির্যাতিত’। তার এই বক্তব্য নিয়ে নওগাঁ শহরজুড়ে কানাঘুষা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, দল সুবিধাজনক থাকুক আর না থাকুক তার ক্ষমতায় কখনো ভাটা পড়েনি। বরাবরই তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে আতাত করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
তার সাথে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের অভিযোগ, মেয়র সনি ক্ষমতায় থাকাকালে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক শ্রমিক দেখিয়ে তাদের পারিশ্রমিকের অর্থ উত্তোলন করতেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সময় গোপনে কোটেশনের মাধ্যমে টেন্ডার করে পরে কাজ না করে অর্থ তুলে নিয়েছেন। মাসিক সভায় আলোচনা ছাড়াই নিজের ইচ্ছা মতো রেজুলেশনে বিভিন্ন ব্যয় দেখিয়ে টাকা তুলে নিতেন।
এছাড়া, নওগাঁ পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (ল্যান্ড ফিল্ড) স্থাপনা, নতুন পৌর ভবন নির্মাণ কাজ তিনি করছেন নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে। এসব বিষয়ে মাসিক সভায় কাউন্সিলররা মেয়রের কাছে অভিযোগ করলে তিনি তা আমলে না নিয়ে উল্টো কাউন্সিলরদের বলেন, পৌরসভার প্রধান আমি, কাজটা আমার, অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করুক, আমি তা চাই না।
অভিযোগে আরও জানা যায়, দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে কাজের ক্ষেত্রে মেয়র সনির অনিয়ম নিয়ে মুখ খুলে বিপাকে পড়েছেন জাকের আলী নামে এক শ্রমিক। তার অভিযোগ, অনিয়মের কথা বলায় তাকে গত ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল পিটিয়ে আহত করেন মেয়র। এ অভিযোগে তিনি নওগাঁ সদর মডেল থানায় মেয়রের নামে মামলাও করেছেন।
এছাড়া পরপর কয়েকবার রাতে পৌরসভার কয়েকটি শাখা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক নথিপত্র চুরি হয়ে গেছে। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।
আর এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নামে- বেনামে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন এই বিএনপি নেতা।
নঁওগা জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছেন তারা। প্রাথমিক অনুসন্ধানে, তার নামে রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়া মৌজায় জমিসহ একটি ফ্ল্যাট, নহাটা মৌজায় ০৪৩৭.৫০ সহস্রাংশ জমি, নওগাঁ মহাদেবপুর মৌজায় ০১৫৫ সহস্রাংশ জমিসহ চারতলা বাড়ি, নওগাঁয় মেসার্স স্টার রাইস মিলস এবং বেশ কিছু কৃষি জমির অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
দুদকের উপসহকারি পরিচালক মোহা. আলী হায়দার সম্প্রতি নওগাঁ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ আনেন, নাজমুল হক সনি অনুসন্ধানকাজে তাদের অসহযোগিতা করছেন।
অভিযোগ উঠেছে, গতবছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর আবারো স্বরূপে এলাকায় ফিরেছেন নাজমুল হক সনি। তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় কাজে লাগিয়ে দুদকের অভিযোগ ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টাও করছেন।
এ ব্যাপারে নওগাঁ পৌরসভার মেয়র মো. নজমুল হক সনি বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, তিনি বিএনপির রাজনীতি করেন বলে বিগত দিনে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর ও বিএনপির কিছু লোক ষড়যন্ত্র করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।



































