ধারাবাহিক সহিংসতায় ৩২ নাগরিকের উদ্বেগ
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
- / 71
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বিগত কয়েক সপ্তাহে একের পর এক পরিকল্পিত হত্যাকান্ডসহ ধারাবাহিক সহিংসতা; বিশেষত সংখ্যালঘু হত্যা, বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়াসহ বিভিন্ন হামলার ঘটনার নিন্দা ও দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে তাদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন ৩২ নাগরিক।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রাপ্ত সংবাদ থেকে আমরা গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বিগত কয়েক সপ্তাহে একের পর এক পরিকল্পিত হত্যাকান্ডসহ ধারাবাহিক সংখ্যালঘু নাগরিককে হত্যা, তাদের পরিবারের বাড়ী-ঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। যা নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিপ্রায়ে করা হচ্ছে বলে জনমনে ধারণা বিরাজ করছে।
`ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাস, যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগী, নরসিংদীর শরৎ চক্রবর্তী মণিসহ বেশ কয়েকজন এই সব হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামের রাউজানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ীতে ঘরের দরজা বন্ধ করে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আমরা এ সকল ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও তীব্রতম ভাষায় নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।’
আমরা জানি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ তথা বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে কোন বিশেষ ধর্ম, সম্প্রদায় বা জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বা ঘৃণা বিরাজ করে, এমন দৃষ্টান্ত বিরল। পক্ষান্তরে এই সব সহিংস সাম্প্রদায়িক হামলা বা হত্যাকান্ড যারা ঘটাচ্ছে তারা সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশ যারা সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী এবং রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত নাশকতা সৃষ্টিকারী। নিঃসন্দেহে তারা আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে বিঘ্নিত করতে তৎপর। দেশী-বিদেশী উস্কানীদাতা পৃষ্ঠপোষকগোষ্ঠীও এদের মদদ দিয়ে চলেছে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
এ সকল ঘটনা থেকে এটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি গোষ্ঠী নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং উত্তেজনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এগুলো ঘটাচ্ছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে আমরা সর্বত্রই সহনশীলতা, সমমর্মিতার মনোভাব লক্ষ করে থাকি। যুগ যুগ ধরে এদেশের সকল ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির সাথে এদেশে বসবাস করে আসছে।
আমরা বিস্ময় ও ক্ষোভের সাথে এও লক্ষ করছি, ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং নাশকতা, হত্যা-হামলার জন্য দায়ীদের বিচারের কাঠগড়ায় সোপর্দ করতে সরকার বার বার ব্যর্থ হচ্ছে। আমরা এই সকল ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে এ সকল ঘটনার পেছনে কারা জড়িত রয়েছে তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে জনগণকে অবহিত করা এবং তাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
চারটি সুস্পষ্ট দাবি জানিয়েছেন তারা:
দাবিগুলোর মধ্যে ১. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হত্যা, বাড়ি-ঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। সেইসাথে এর উস্কানি/ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা ।
২. সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, দোকানপাটসহ সকল স্থাপনা, মন্দির, গীর্জাসহ সকল উপাসনালয়ের সুরক্ষা দিতে অন্তবর্তী সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সকল রাজনৈতিক দল ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
৩. হিন্দুসহ দেশের সকল ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুর ধর্মীয় ও সামগ্রিক জীবনের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় অবিলম্বে প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দিতে হবে। নিয়মিত কঠোর নজরদারি বাড়ানো।
৪. মূলধারার সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে এ সকল ঘটনা সমন্বিতভাবে প্রতিরোধ করতে দেশবাসীকে এবং বিশেষ করে স্ব স্ব দলের কর্মী-সমর্থকদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিশেষ উদ্যোগ নেবার আহবান ।”
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন: আনু মুহাম্মদ, অর্থনীতিবিদ, সাবেক অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, মানবাধিকার কর্মী ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, মানবাধিকার সংরক্ষন পরিষদ, খুশী কবির, সমন্বয়কারী, নিজেরা করি, ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, টিআই-বি, রাশেদা কে. চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক, গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও সভাপতি, আইন ও সালিস কেন্দ্র,
শাহীন আনাম, নির্বাহী পরিচালক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন,
শামসুল হুদা, নির্বাহী পরিচালক, এএলআরডি, মো: নুর খান, মানবাধিকার কর্মী, ড. সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ড. সুমাইয়া খায়ের, অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রমুখ।




































