ধান কাটার ভিডিও করায় বাকপ্রতিবন্ধী তরুণকে কুপিয়ে যখম
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 167
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নে ধান কাটার মতো তুচ্ছ ঘটনার জেরে কাচি দিয়ে বাক প্রতিবন্ধী তরুণকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এই সময় ছেলেকে বাঁচাতে গেলে বাবাও ওপর হামলা চালায় স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহতরা হলেন- মো. রবিউল ও তার পিতা সিদ্দিক খান। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
ঘটনার বিষয়ে রবিউলের পিতা সিদ্দিক বলেন, আমাদের বাড়ির সামনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ চলছে। উত্তারাধীকার সূত্রে এই জমির মালিক আমার মা। কিন্তু তার চাচাতো ভাই জব্বার ও তার ছেলেরা এই জমি দখল করে বিক্রি করে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জমির থেকে বঞ্চিত ও ভূমিহিন করে রেখেছে।
পরবর্তীতে ভুয়া দলিল দিয়ে জব্বার এই জমি সোরাব বিশ্বাসের কাছে বিক্রি করে দেয়। তারা আবার হোসেনের ছেলে লিটনের কাছে বিক্রি করে দেয়। সম্প্রতি আমরা জমির সকল কাগজ তুলে দেখতে পাই এই জমি আমার নানার নামে রয়েছে। সেই সূত্রে এই জমির মালিক আমরা মা সুফিয়া। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা ভূমি অফিসে একটি নালিশি মামলা করেছি। মামলার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনেও জব্বারের জাল জালিয়াতি প্রকাশ পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আজ সকালে হঠাৎ করেই আমরা দেখতে পাই একদল লোক আমাদের জমির ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এমন অন্যায়ের বিষয়টি আমার পরিবারের সদস্যরা পাথরঘাটা থানায় জানাতে যায়। এই সময়ে আমার বাক প্রতিবন্ধী ছেলে ঘুম থেকে রাস্তায় বের হয়ে দেখে অনেক মানুষ আমাদের জমির ধান কাটছে। বিষয়টি সে মোবাইল ফোনে ভিডিও করছিলো। এরমধ্যেই জাল দলিলে জমির মালিক দাবি করা লিটন পিতা হোসেন, বাচ্চু ওরফে কালা বা্চচু পিতা সাহেব আলি, সাগর বিশ্বাস পিতা সোরাব বিশ্বাস, তাসলিমা, হামেজের ছেলে বাচ্চুসহ একদল লোক তার ওপর হামলা করে। হামলাকারীরা ধান কাটার কাচি দিয়ে আমার ছেলের পায়ে কোপ দেয়। এই সময়ে ছেলেকে বাঁচাতে আমি এগিয়ে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। পরে আমার ভাই আবুল হোসেন এগিয়ে আসলে তার ওপরেও হামলার চেষ্টা করা হয়। পরে আমাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসে।
বিকেলে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাখাল বিশ্বাস অপূর্ব বাক প্রতিবন্ধী তরুণকে কোপানোর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুরের দিকে মারধরের ফলে আঘাত নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদেরকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের পায়ে গুরুতর জখম রয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাথরঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ভাস্কর চন্দ্র। মারধরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধান কাটার বিষয়টি দেখতে পেয়েছি। ধান যে চাষ করছে তার জিম্মায় রাখা হয়েছে, আহতদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে এবং দুইদিন পরের মীমাংসার জন্য সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ওই সময় কাগজপত্র দেখে যার জমি তাকে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।



































