সেন্টমার্টিনের কান্না
ধর্ষণে অভিযুক্ত জামায়াত নেতার ভাই, রক্ষায় বিএনপি নেতা
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
- / 401
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত প্রভাবশালী পরিবারের এক যুবককে রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন স্থানীয় এক বিএনপি নেতা। অভিযোগ উঠেছে, ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এক লাখ টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাতে রাজি না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে পরিবারটি দ্বীপ ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে টেকনাফে।
ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে গত ২৯ জুলাই দুপুরে। ২ আগস্ট দুপুরে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ভুক্তভোগী কিশোরীর মা।
তিনি বলেন, “আমরা সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। আমার স্বামী একজন জেলে। ঘটনার দিন আমার ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে পাশের বাড়ির আবদুল্লাহ (৩৫) জিম্মি করে ধর্ষণ করে। সে আলী হোসেনের ছেলে।”
কিশোরীর মা আরও বলেন, “ঘটনার পর থেকে আবদুল্লাহর পরিবারসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা নুরুল আলম আমাদের ওপর চাপ দিচ্ছেন যেন বিষয়টি ধামাচাপা দিই। তারা এক লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার প্রস্তাব দেয়। আমরা তাতে রাজি না হওয়ায় এখন হুমকি দিচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে আমি ও আমার পরিবার সেন্টমার্টিন থেকে পালিয়ে টেকনাফে আত্মগোপনে আছি। মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে, গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছি। থানায় যেতে ভয় লাগছে।”
স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আবদুল্লাহ সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির ও বর্তমান জেলা কমিটির সদস্য আবদুর রহিম জিহাদীর ভাই। তাদের আরেক ভাই আবদুর রহমান সাবেক ইউপি সদস্য। পরিবারটি এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত।
এই ঘটনার পর থেকে জামায়াত নেতা আবদুর রহিম জিহাদী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম মিলে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা প্রথমে টাকার লোভ দেখিয়ে এবং পরে হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে চুপ রাখতে চেয়েছেন।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, “আমি শুনেছি পশ্চিমপাড়ার এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অভিযুক্ত আবদুল্লাহ নামে একজন যুবক। বিষয়টি নিয়ে দ্বীপে আলোচনা চলছে। পরিবারটি কোথায় আছে, জানি না।”
অভিযুক্ত আবদুল্লাহর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সে ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে আছে। তার ভাই জামায়াত নেতা আবদুর রহিম জিহাদীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রথমে একজন নারী ফোন রিসিভ করেন। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর বলেন, “তিনি বাইরে আছেন, ফিরে এলে জানাবো।” এরপর বারবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
































