ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিবৃতি

ধর্ম নয়, বিরোধ-দস্যুতা ও আত্মহত্যাই মূল: পুলিশ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • / 339

পুলিশ সদর দপ্তর

সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা ও হত্যার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শেষে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এসব ঘটনার পেছনে সাম্প্রদায়িকতার কোনো ভিত্তি মেলেনি। পুলিশের দাবি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উত্থাপিত বেশিরভাগ অভিযোগই অসত্য এবং ঘটনা বিশ্লেষণে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, আর্থিক বা সম্পত্তিগত বিরোধের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

১৫ জুলাই (মঙ্গলবার) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ২৭টি মৃত্যুর ঘটনায় ২২টি হত্যা এবং ৫টি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক কলহ, মাদক লেনদেন ও দস্যুতাই এসব হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারণ। কয়েকটি ঘটনায় আত্মহত্যা এবং ভবঘুরে বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির অজ্ঞাত মৃতদেহও ‘সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৫ জন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। এর মধ্যে ১৮ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। পুলিশ স্পষ্টভাবে জানায়, কোনো হত্যাকাণ্ডে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যের প্রমাণ মেলেনি।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তথ্যমতে, গত ১১ মাসে সংখ্যালঘুদের ওপর ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ২০টি ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানায়, এর মধ্যে ১৬টিতে মামলা হয়েছে এবং ২৫ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকি ৩টি ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।

পুলিশ আরও জানায়, রাজশাহীর তানোরে আদিবাসী নারী ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি এবং তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তের সঙ্গে পূর্ব থেকেই পারিবারিক বিরোধ ছিল। মাগুরার শ্রীপুরে গণধর্ষণের কথিত অভিযোগও যাচাইয়ে অসত্য প্রমাণিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো মামলাও হয়নি।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও উপাসনালয়কেন্দ্রিক ১২৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৬৬টি মামলায় এবং ৬১টি সাধারণ ডায়েরিতে মোট ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মন্দির বা প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, চুরি ও দখলের মতো ৬০টি অভিযোগের মধ্যে পুলিশ তদন্তে ২০টি চুরির প্রমাণ পেয়েছে। এ সংক্রান্ত ১৪টি নিয়মিত মামলা এবং ৫টি জিডি হয়েছে। প্রতিমা ভাঙচুরের ২৪টি ঘটনায় ১৮টি মামলা ও ৪টি জিডি হয়েছে। এসব মামলায় ১৫ জন গ্রেপ্তার ও ১০ জন আত্মসমর্পণ করেছেন। একটি চুরি ও দুটি ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।

অগ্নিসংযোগের চারটি ঘটনায় দুটি ক্ষেত্রে নাশকতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জমি ও সীমানা সংক্রান্ত চারটি ঘটনার মধ্যে দুটি স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সমাধান হয়েছে। ছয়টি দখলের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। ঢাকার খিলক্ষেতে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে অস্থায়ী পূজামণ্ডপ উচ্ছেদে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করেছে। বগুড়ায় শ্মশানঘাটের পিলার ভাঙার ঘটনায় প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করেছে।

পুলিশ জানায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছে এবং সংস্থাটি জানায়, তারা সব ঘটনার খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে নতুন তথ্য সরবরাহ করবে।

বাংলাদেশ পুলিশ আশ্বস্ত করেছে, প্রতিটি ঘটনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে এবং দেশের সব জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিবৃতি

ধর্ম নয়, বিরোধ-দস্যুতা ও আত্মহত্যাই মূল: পুলিশ

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা ও হত্যার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শেষে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এসব ঘটনার পেছনে সাম্প্রদায়িকতার কোনো ভিত্তি মেলেনি। পুলিশের দাবি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উত্থাপিত বেশিরভাগ অভিযোগই অসত্য এবং ঘটনা বিশ্লেষণে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, আর্থিক বা সম্পত্তিগত বিরোধের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

১৫ জুলাই (মঙ্গলবার) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ২৭টি মৃত্যুর ঘটনায় ২২টি হত্যা এবং ৫টি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক কলহ, মাদক লেনদেন ও দস্যুতাই এসব হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারণ। কয়েকটি ঘটনায় আত্মহত্যা এবং ভবঘুরে বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির অজ্ঞাত মৃতদেহও ‘সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৫ জন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। এর মধ্যে ১৮ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। পুলিশ স্পষ্টভাবে জানায়, কোনো হত্যাকাণ্ডে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যের প্রমাণ মেলেনি।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তথ্যমতে, গত ১১ মাসে সংখ্যালঘুদের ওপর ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ২০টি ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানায়, এর মধ্যে ১৬টিতে মামলা হয়েছে এবং ২৫ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকি ৩টি ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।

পুলিশ আরও জানায়, রাজশাহীর তানোরে আদিবাসী নারী ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি এবং তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তের সঙ্গে পূর্ব থেকেই পারিবারিক বিরোধ ছিল। মাগুরার শ্রীপুরে গণধর্ষণের কথিত অভিযোগও যাচাইয়ে অসত্য প্রমাণিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো মামলাও হয়নি।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও উপাসনালয়কেন্দ্রিক ১২৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৬৬টি মামলায় এবং ৬১টি সাধারণ ডায়েরিতে মোট ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মন্দির বা প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, চুরি ও দখলের মতো ৬০টি অভিযোগের মধ্যে পুলিশ তদন্তে ২০টি চুরির প্রমাণ পেয়েছে। এ সংক্রান্ত ১৪টি নিয়মিত মামলা এবং ৫টি জিডি হয়েছে। প্রতিমা ভাঙচুরের ২৪টি ঘটনায় ১৮টি মামলা ও ৪টি জিডি হয়েছে। এসব মামলায় ১৫ জন গ্রেপ্তার ও ১০ জন আত্মসমর্পণ করেছেন। একটি চুরি ও দুটি ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।

অগ্নিসংযোগের চারটি ঘটনায় দুটি ক্ষেত্রে নাশকতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জমি ও সীমানা সংক্রান্ত চারটি ঘটনার মধ্যে দুটি স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সমাধান হয়েছে। ছয়টি দখলের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। ঢাকার খিলক্ষেতে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে অস্থায়ী পূজামণ্ডপ উচ্ছেদে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করেছে। বগুড়ায় শ্মশানঘাটের পিলার ভাঙার ঘটনায় প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করেছে।

পুলিশ জানায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছে এবং সংস্থাটি জানায়, তারা সব ঘটনার খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে নতুন তথ্য সরবরাহ করবে।

বাংলাদেশ পুলিশ আশ্বস্ত করেছে, প্রতিটি ঘটনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে এবং দেশের সব জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।