ঢাকা ০৮:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সিপিডি

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রস্তাব বাতিলের পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / 119

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রস্তাব বাতিলের পরামর্শ সিপিডির

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ বাস্তবসম্মত নয়। বরং সংস্থার দৃষ্টিতে বিদ্যমান এককক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থাকেই আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে শক্তিশালী করা উচিত।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংলাপে সিপিডির গবেষকরা এই আহ্বান জানান। সংলাপটির শিরোনাম ছিল, ‘প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ কি জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারবে?’ এতে বাংলাদেশে সংসদীয় জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

সাম্প্রতিক সংসদীয় সংস্কার ও জবাবদিহি বিষয়ক গবেষণার পর সিপিডি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঐকমত্য কমিশনকে আহ্বান জানায়, তারা চূড়ান্ত ঐকমত্যের তালিকা থেকে ‘দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন’-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি বাদ দেয়। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রফেসর নিজাম আহমেদ।

সিপিডির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত কিছু সংস্কার যেমন বাইক্যামেরালিজম, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব, দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি বা নিয়োগ কমিটি গঠন নীতিগতভাবে আকর্ষণীয় হলেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কার্যকর নয়। দীর্ঘদিনের দলীয় আনুগত্য, পৃষ্ঠপোষকতা এবং ‘বিজয়ী সব পায়’ রাজনীতির সংস্কৃতিতে এসব প্রস্তাব প্রায় প্রতীকী হয়ে থাকে। এতে জবাবদিহি বা ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে রাজনৈতিক অচলাবস্থা, প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

সিপিডি মনে করছে, কাঠামোগত ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ছাড়া শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যকর জবাবদিহি আনতে পারবে না। তাই উপরের কক্ষ না গঠন করে বিদ্যমান সংসদকেই কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

সংস্থাটি সংসদীয় ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য বাস্তবধর্মী কয়েকটি পদক্ষেপেরও পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোতে বিরোধী দলীয় এমপিদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ,

রাজনৈতিক দলের তহবিল সংগ্রহ ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা,

স্থানীয় সরকারকে আর্থিকভাবে আরও স্বনির্ভর করা,

স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো,

দলত্যাগ রোধে আইনি সংস্কার।

সিপিডি মনে করছে, শাসক দল নির্বাহী দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারবে, এজন্য গুরুত্বপূর্ণ ও সাংবিধানিক পদে সরকারের নিয়োগ ক্ষমতা থাকা উচিত। তবে এসব নিয়োগকে সংসদীয় পর্যালোচনা কমিটির মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার সুযোগ রাখতে হবে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সংসদের আগে ও পরে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় পরামর্শ ও মূল্যায়নের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদলে এ কমিশনের নাম হতে পারে ‘গণতন্ত্র, আইন প্রণয়ন, নির্বাহী ও আইনবিষয়ক সংসদীয় কমিশন’। এই কমিশন সংবিধান, আইন ও প্রশাসনিক নীতিমালা শক্তিশালী করা, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং স্থানীয় সরকারকে গণতান্ত্রিকভাবে বিকশিত করার কাজ করবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সিপিডি

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রস্তাব বাতিলের পরামর্শ

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ বাস্তবসম্মত নয়। বরং সংস্থার দৃষ্টিতে বিদ্যমান এককক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থাকেই আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে শক্তিশালী করা উচিত।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংলাপে সিপিডির গবেষকরা এই আহ্বান জানান। সংলাপটির শিরোনাম ছিল, ‘প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ কি জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারবে?’ এতে বাংলাদেশে সংসদীয় জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

সাম্প্রতিক সংসদীয় সংস্কার ও জবাবদিহি বিষয়ক গবেষণার পর সিপিডি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঐকমত্য কমিশনকে আহ্বান জানায়, তারা চূড়ান্ত ঐকমত্যের তালিকা থেকে ‘দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন’-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি বাদ দেয়। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রফেসর নিজাম আহমেদ।

সিপিডির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত কিছু সংস্কার যেমন বাইক্যামেরালিজম, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব, দলনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি বা নিয়োগ কমিটি গঠন নীতিগতভাবে আকর্ষণীয় হলেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কার্যকর নয়। দীর্ঘদিনের দলীয় আনুগত্য, পৃষ্ঠপোষকতা এবং ‘বিজয়ী সব পায়’ রাজনীতির সংস্কৃতিতে এসব প্রস্তাব প্রায় প্রতীকী হয়ে থাকে। এতে জবাবদিহি বা ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে রাজনৈতিক অচলাবস্থা, প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

সিপিডি মনে করছে, কাঠামোগত ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ছাড়া শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যকর জবাবদিহি আনতে পারবে না। তাই উপরের কক্ষ না গঠন করে বিদ্যমান সংসদকেই কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

সংস্থাটি সংসদীয় ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য বাস্তবধর্মী কয়েকটি পদক্ষেপেরও পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোতে বিরোধী দলীয় এমপিদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ,

রাজনৈতিক দলের তহবিল সংগ্রহ ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা,

স্থানীয় সরকারকে আর্থিকভাবে আরও স্বনির্ভর করা,

স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো,

দলত্যাগ রোধে আইনি সংস্কার।

সিপিডি মনে করছে, শাসক দল নির্বাহী দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারবে, এজন্য গুরুত্বপূর্ণ ও সাংবিধানিক পদে সরকারের নিয়োগ ক্ষমতা থাকা উচিত। তবে এসব নিয়োগকে সংসদীয় পর্যালোচনা কমিটির মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার সুযোগ রাখতে হবে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সংসদের আগে ও পরে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় পরামর্শ ও মূল্যায়নের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদলে এ কমিশনের নাম হতে পারে ‘গণতন্ত্র, আইন প্রণয়ন, নির্বাহী ও আইনবিষয়ক সংসদীয় কমিশন’। এই কমিশন সংবিধান, আইন ও প্রশাসনিক নীতিমালা শক্তিশালী করা, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং স্থানীয় সরকারকে গণতান্ত্রিকভাবে বিকশিত করার কাজ করবে।