ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দ্বাদশ বিপিএলে বিসিবি-আইসিসি যৌথ নজরদারি

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 144

দ্বাদশ বিপিএলে বিসিবি-আইসিসি যৌথ নজরদারি

বিপিএলের ২০১২ ও ২০১৩ সালের দুই আসরে দুর্নীতি প্রতিরোধে বিদেশি দুর্নীতি দমন কর্মকর্তারা নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। তারা মূলত গেম অনের নিয়োগকৃত ছিলেন। ওই কর্মকর্তাদের নজরের বাইরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিকপক্ষ ও দলটির কিছু দেশি-বিদেশি ক্রিকেটার ফিক্সিংয়ে জড়িত হয়েছিল। প্রথমদিকের মতো যদিও কিছু আসরে স্পট ফিক্সিং ইস্যুতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়েছে, গভীর তদন্ত না হওয়ায় সন্দেহভাজনরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন।

বিপিএলের দ্বাদশ আসরে দুর্নীতি প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করবেন আইসিসির দুর্নীতি দমন (এসিইউ) কর্মকর্তারা। বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে এ ব্যাপারে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এইবারের বিপিএল নানা দিক থেকে বিতর্কিত ছিল। একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির অনিয়মের সঙ্গে ফিক্সিং ইস্যু আলোচনায় ছিল। বিসিবি এসিইউ কর্মকর্তাদের সন্দেহের তালিকায় ছিলেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। উদীয়মান ক্রিকেটাররা বিসিবি এসিইউ কর্মকর্তাদের কাছে রিপোর্টও করেছিলেন। এজন্য এনামুল হক বিজয়কে সিলেট থেকে ঢাকায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তবে গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতা না নেওয়ায় কোনো সন্দেহভাজন ঘটনা প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের চাপে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয় বিসিবি।

তদন্ত কমিটির একজন সদস্য বলেন, “আমরা খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, বিসিবির দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের ছাড়াও আইসিসির দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিশাল একটি রিপোর্ট দেওয়া হবে, যেখানে সুপারিশ থাকবে বেশি। সন্দেহভাজনদের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত করার সুপারিশ থাকবে।”

রিপোর্টকে ভিত্তি করে পরবর্তী কার্যক্রম এগোতে পারেন অ্যালেক্স মার্শাল। আইসিসি এসিইউর সাবেক এই কর্মকর্তাকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে বিসিবি। বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, বিপিএলকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সরাসরি আইসিসি নজরদারি করবে।

২০২৫-২৬ সালের ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য বিপিএলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হলেও দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্ব বিসিবির হাতেই থাকবে। বোর্ডের একজন পরিচালক বলেন, “বিপিএল যে ইমেজ সংকটে পড়েছে, তা পুনরুদ্ধারে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আইসিসি দুর্নীতি দমন বিভাগের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। আইসিসিকে অনুরোধ করা হয়েছে, বিপিএলের পরবর্তী দ্বাদশ আসরে এসিইউ কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে। বোর্ড চাইলে অর্থ প্রদান করবে। কারণ অনৈতিক কাজে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ, ফ্র্যাঞ্চাইজি, দর্শক, বিসিবি কর্মকর্তা; সবাই নজরদারিতে থাকবেন। কেউ একবার সন্দেহের তালিকায় ঢুকে গেলে আইসিসি ছাড় দেবে না।”

একাদশ বিপিএলে সন্দেহভাজনরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার পেছনে বিসিবি দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে মন্তব্য, ফেসবুকে স্ট্যাটাস এবং মিডিয়ায় প্রাথমিক তদন্তের উপাত্ত ফাঁস করা দায়ী বলে মনে করেন তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারা। নিজস্ব এসিইউ বিভাগ শক্তিশালী করতে আইসিসি এসিইউর সাবেক কর্মকর্তা অ্যালেক্স মার্শালকে কাজে লাগাবে বিসিবি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দ্বাদশ বিপিএলে বিসিবি-আইসিসি যৌথ নজরদারি

সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

বিপিএলের ২০১২ ও ২০১৩ সালের দুই আসরে দুর্নীতি প্রতিরোধে বিদেশি দুর্নীতি দমন কর্মকর্তারা নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। তারা মূলত গেম অনের নিয়োগকৃত ছিলেন। ওই কর্মকর্তাদের নজরের বাইরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিকপক্ষ ও দলটির কিছু দেশি-বিদেশি ক্রিকেটার ফিক্সিংয়ে জড়িত হয়েছিল। প্রথমদিকের মতো যদিও কিছু আসরে স্পট ফিক্সিং ইস্যুতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়েছে, গভীর তদন্ত না হওয়ায় সন্দেহভাজনরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন।

বিপিএলের দ্বাদশ আসরে দুর্নীতি প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করবেন আইসিসির দুর্নীতি দমন (এসিইউ) কর্মকর্তারা। বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে এ ব্যাপারে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এইবারের বিপিএল নানা দিক থেকে বিতর্কিত ছিল। একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির অনিয়মের সঙ্গে ফিক্সিং ইস্যু আলোচনায় ছিল। বিসিবি এসিইউ কর্মকর্তাদের সন্দেহের তালিকায় ছিলেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। উদীয়মান ক্রিকেটাররা বিসিবি এসিইউ কর্মকর্তাদের কাছে রিপোর্টও করেছিলেন। এজন্য এনামুল হক বিজয়কে সিলেট থেকে ঢাকায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তবে গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতা না নেওয়ায় কোনো সন্দেহভাজন ঘটনা প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের চাপে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয় বিসিবি।

তদন্ত কমিটির একজন সদস্য বলেন, “আমরা খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, বিসিবির দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের ছাড়াও আইসিসির দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিশাল একটি রিপোর্ট দেওয়া হবে, যেখানে সুপারিশ থাকবে বেশি। সন্দেহভাজনদের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত করার সুপারিশ থাকবে।”

রিপোর্টকে ভিত্তি করে পরবর্তী কার্যক্রম এগোতে পারেন অ্যালেক্স মার্শাল। আইসিসি এসিইউর সাবেক এই কর্মকর্তাকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে বিসিবি। বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, বিপিএলকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সরাসরি আইসিসি নজরদারি করবে।

২০২৫-২৬ সালের ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য বিপিএলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হলেও দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্ব বিসিবির হাতেই থাকবে। বোর্ডের একজন পরিচালক বলেন, “বিপিএল যে ইমেজ সংকটে পড়েছে, তা পুনরুদ্ধারে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আইসিসি দুর্নীতি দমন বিভাগের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। আইসিসিকে অনুরোধ করা হয়েছে, বিপিএলের পরবর্তী দ্বাদশ আসরে এসিইউ কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে। বোর্ড চাইলে অর্থ প্রদান করবে। কারণ অনৈতিক কাজে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ, ফ্র্যাঞ্চাইজি, দর্শক, বিসিবি কর্মকর্তা; সবাই নজরদারিতে থাকবেন। কেউ একবার সন্দেহের তালিকায় ঢুকে গেলে আইসিসি ছাড় দেবে না।”

একাদশ বিপিএলে সন্দেহভাজনরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার পেছনে বিসিবি দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে মন্তব্য, ফেসবুকে স্ট্যাটাস এবং মিডিয়ায় প্রাথমিক তদন্তের উপাত্ত ফাঁস করা দায়ী বলে মনে করেন তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারা। নিজস্ব এসিইউ বিভাগ শক্তিশালী করতে আইসিসি এসিইউর সাবেক কর্মকর্তা অ্যালেক্স মার্শালকে কাজে লাগাবে বিসিবি।