ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দোহায় আফগানিস্তান-পাকিস্তান শান্তি আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / 67

আফগান তালেবানের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এবং মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল আফগানিস্তানের কাবুলে তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমরের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন। ছবি: রয়টার্স

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তান শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় শান্তি আলোচনায় বসেছে। এক সপ্তাহব্যাপী ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতি বাড়িয়ে এই আলোচনা শুরু হয়। সংঘাতে ডজনখানেক মানুষ নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন, যা ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সহিংসতা।

 

আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাকিস্তান পক্ষের সঙ্গে আলোচনা আজ দোহায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।” তিনি জানান, আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মদ ইয়াকুবের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে দোহায় পৌঁছেছে।

 

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, আলোচনায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বৈঠকে দুই দেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও উপস্থিত রয়েছেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য সীমান্তে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।

সম্প্রতি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয়। পাকিস্তান দাবি করে, আফগান মাটিতে অবস্থানরত জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। অপরদিকে তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, পাকিস্তান নিজের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দায় আফগানিস্তানের ওপর চাপাচ্ছে।

 

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির শনিবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, “আফগান শাসকদের উচিত তাদের প্রক্সিদের নিয়ন্ত্রণে আনা, যারা আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে।”

 

এর আগের দিন, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় আত্মঘাতী হামলায় সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং অন্তত ১৩ জন আহত হন।

 

যুদ্ধবিরতি শুক্রবার পর্যন্ত বাড়ানো হলেও, আফগান সরকার অভিযোগ করেছে- পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আফগান ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়েছে। আফগান মুখপাত্রের দাবি, এসব হামলায় সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও ইসলামাবাদ বলছে, তারা কেবল “যাচাইকৃত জঙ্গি শিবিরে” আঘাত হেনেছে, কোনো বেসামরিক স্থানে নয়।

 

এই উত্তেজনার মধ্যেই আফগানিস্তান ঘোষণা দিয়েছে, তারা আগামী মাসে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে। আফগান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলায় তিন স্থানীয় ক্রিকেটার নিহত হওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতা উল্লাহ তারার এক্স (X)–এ পোস্ট দিয়ে জানান, পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় ইসলামপন্থী জঙ্গিদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, এই অভিযানে শতাধিক জঙ্গি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই শুক্রবারের আত্মঘাতী হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।

 

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, তারা পাকিস্তানের দাবি করা নিহতের সংখ্যা বা হামলার লক্ষ্যবস্তু স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

 

দোহা আলোচনায় উভয় দেশই শান্তি চাইলেও, পারস্পরিক অভিযোগ আর অবিশ্বাসের কারণে সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। পর্যবেক্ষকদের মতে, আলোচনা সফল না হলে আবারও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দোহায় আফগানিস্তান-পাকিস্তান শান্তি আলোচনা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তান শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় শান্তি আলোচনায় বসেছে। এক সপ্তাহব্যাপী ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতি বাড়িয়ে এই আলোচনা শুরু হয়। সংঘাতে ডজনখানেক মানুষ নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন, যা ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সহিংসতা।

 

আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাকিস্তান পক্ষের সঙ্গে আলোচনা আজ দোহায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।” তিনি জানান, আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মদ ইয়াকুবের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে দোহায় পৌঁছেছে।

 

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, আলোচনায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বৈঠকে দুই দেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও উপস্থিত রয়েছেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য সীমান্তে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।

সম্প্রতি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয়। পাকিস্তান দাবি করে, আফগান মাটিতে অবস্থানরত জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। অপরদিকে তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, পাকিস্তান নিজের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দায় আফগানিস্তানের ওপর চাপাচ্ছে।

 

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির শনিবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, “আফগান শাসকদের উচিত তাদের প্রক্সিদের নিয়ন্ত্রণে আনা, যারা আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে।”

 

এর আগের দিন, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় আত্মঘাতী হামলায় সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং অন্তত ১৩ জন আহত হন।

 

যুদ্ধবিরতি শুক্রবার পর্যন্ত বাড়ানো হলেও, আফগান সরকার অভিযোগ করেছে- পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আফগান ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়েছে। আফগান মুখপাত্রের দাবি, এসব হামলায় সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও ইসলামাবাদ বলছে, তারা কেবল “যাচাইকৃত জঙ্গি শিবিরে” আঘাত হেনেছে, কোনো বেসামরিক স্থানে নয়।

 

এই উত্তেজনার মধ্যেই আফগানিস্তান ঘোষণা দিয়েছে, তারা আগামী মাসে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে। আফগান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলায় তিন স্থানীয় ক্রিকেটার নিহত হওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতা উল্লাহ তারার এক্স (X)–এ পোস্ট দিয়ে জানান, পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় ইসলামপন্থী জঙ্গিদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, এই অভিযানে শতাধিক জঙ্গি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই শুক্রবারের আত্মঘাতী হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।

 

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, তারা পাকিস্তানের দাবি করা নিহতের সংখ্যা বা হামলার লক্ষ্যবস্তু স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

 

দোহা আলোচনায় উভয় দেশই শান্তি চাইলেও, পারস্পরিক অভিযোগ আর অবিশ্বাসের কারণে সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। পর্যবেক্ষকদের মতে, আলোচনা সফল না হলে আবারও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।